
সিদ্দারামাইয়া বলেন, ‘মেয়েদের তাদের পোশাক বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। মেয়েরা এবং মহিলারা তাদের ইছানুযায়ী তা পরতে পারেন।’ তিনি হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে পোশাক, জামাকাপড় এবং বর্ণের ভিত্তিতে সমাজকে বিভক্ত করার অভিযোগও করেছেন।
মাইসুরুতে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, ‘এখন হিজাবের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। মহিলারা হিজাব পরতে এবং যে কোনো জায়গায় যেতে পারেন। আমি নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছি। আপনি কেমন পোশাক পরবেন এবং কী খাবেন তা আপনার পছন্দের বিষয়। আমি কেন আপনাকে বাধা দেবো?’
প্রসঙ্গত, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সাবেক কর্ণাটক সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করেছিল। এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়। বিষয়টি কর্ণাটক হাইকোর্টেও পৌঁছয়। রাজ্যে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, রাজ্যের লোকেরা যা খুশি পরতে এবং খেতে স্বাধীন। যা খুশি পরুন, যা খুশি খাবেন, আমার যা ইচ্ছা তাই খাব।’
এদিকে, শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির ফায়ারব্র্যান্ড নেতা গিরিরাজ সিং বলেছেন, 'কর্নাটকে কংগ্রেসের সরকার ক্ষমতায় আছে। তারা শুধু হিজাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি, বরং রাজ্যে শরিয়া আইনও প্রতিষ্ঠা করেছে। তার দাবি- যদি দেশে রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস ও I.N.D.I.A জোট সরকার গঠিত হয়, তাহলে এভাবে ইসলামী আইন, শরিয়া আইন কার্যকর হবে। উত্তর প্রদেশে যোগী সরকার ‘হালাল’ প্রত্যয়িত (খাদ্য) নিষিদ্ধ করেছে, আমি বিহারের নীতিশ কুমারকে (মুখ্যমন্ত্রী) বলেছি, উনিও নিষেধাজ্ঞা জারি করুন।’
অন্যদিকে, ‘আরএলডি’র জাতীয় সভাপতি জয়ন্ত চৌধুরী কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, 'সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সঠিক সিদ্ধান্ত। মানুষকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। খাদ্য ও বস্ত্রের ওপর এ ধরণের নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করবে বলেও মন্তব্য করেছেন ‘আরএলডি’র জাতীয় সভাপতি জয়ন্ত চৌধুরী।