IQNA

মাদুরোর সাথে এক বৈঠকে আহলুল বাইত ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলির মহাসচিব:

যুক্তিবাদ, আধ্যাত্মিকতা ও ন্যায়বিচার হল শিয়া মুসলিম চিন্তাধারার তিনটি স্তম্ভ

15:06 - April 29, 2024
সংবাদ: 3475388
ইকনা: আহলুল-বাইত বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব হুজ্জাতুল-ইসলাম রেজা রামেজানি ল্যাটিন আমেরিকা সফরের সময় ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেছেন।

মেহের বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এই বৈঠকের শুরুতে নিকোলাস মাদুরো হুজ্জাতুল-ইসলাম রেজা রামেজানির ভেনিজুয়েলা সফরে আনন্দিত বলে জানান  এবং ইরান ও ভেনিজুয়েলার মধ্যকার সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ, গভীর ও প্রাচীন বলে উল্লেখ করেন। এই বৈঠকে মাদুরো জোর দিয়ে বলেন:

দুই দেশের এই সম্পর্ক অবশ্যই মূল্যবোধ এবং নীতিমালা-ভিত্তিক হওয়া উচিত। আমরা একটি বলদর্পিতাপূর্ণ বিশ্বে বাস করি। চ্যাভেজ বিশ্বাস করতেন যে  ১২ শতক জাতিগুলোর শতাব্দী, এবং আমরা এটির অংশ,১২ শতক আমাদের শতাব্দী। কেউই আমাদের মুক্তি, স্বাধীনতা ও শান্তিতে বসবাসের অধিকার এবং আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি ও ধর্মের সাথে আমাদের বন্ধন বা সংযোগের অধিকার আমাদের থেকে কেড়ে নিতে পারে না।”

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরান ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে বন্ধুত্ব রাজনৈতিক ও অস্থায়ী নয়, বরং বাস্তব ও কৌশলগত। তিনি ইরান ও ভেনিজুয়েলার জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের ওপর জোর দেন।

মাদুরো, ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির সাথে তাঁর বৈঠকের কথা উল্লেখ করে, তাঁকে একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেছেন।  বিশ্ব এবং এর ঘটনাবলী সম্পর্কে তাঁর খুব সঠিক ও গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে বলেও মাদুরো উল্লেখ করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন: "আমরা সব সময় ইসলামী বিপ্লবের নেতার দিক-নির্দেশনা কাজে লাগাই এবং আমি আহলুল বাইত বিশ্ব সংস্থার মহাসচিবকে অনুরোধ করছি তিনি যেন মহামান্য আয়াতুল্লাহ খামেনিকে আমার বিশেষ সালাম বা শুভেচ্ছা জানান।"

জনাব রামাজানি ও মাদুরো 

 

ইহুদিবাদীরাই বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শাসন করছে

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট, বিশ্বের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করে বলেছেন:

“বিশ্ব পরিবর্তনের একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। নাৎসিবাদ এবং ফ্যাসিবাদের প্রায় ১০০ বছর কেটে গেছে, কিন্তু আজ আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলিতে নাৎসি ও ফ্যাসিবাদী ধারার উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করছি। আজকের বিশ্বের সমস্ত সমস্যা এই ফ্যাসিবাদী ও নাৎসি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উদ্ভূত যা পশ্চিমা দেশগুলির সমস্ত স্তম্ভে অনুপ্রবেশ করেছে।"

জনাব রামাজানি ও তাঁর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মাদুরোর বৈঠক 

মাদুরো আরও বলেছেন, আজ ইহুদিবাদীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পরিচালনা করছে। দেশটির সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি তাদেরই হাতে। ইহুদিবাদীরা দুই প্রধান দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট পার্টিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। দুই প্রধান শক্তি তথা সামরিক শক্তি ও সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো তাদেরই নিয়ন্ত্রণে। ইহুদিবাদীরা সামরিক শক্তির মাধ্যমে শান্তিকে বিপদাপন্ন করেছে এবং ফেসবুক ও এক্স-এর মত সামাজিক মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে বিভ্রান্ত করছে।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেন, “অবশ্যই, আমরা আজ একটি বহুমেরুকেন্দ্রীক বিশ্বে প্রবেশ করেছি, যেখানে চীন, রাশিয়া এবং ইরানের মতো বিভিন্ন শক্তির মেরু তৈরি হয়েছে। ইরান সামরিক ক্ষেত্রে ভাল অগ্রগতি করেছে, এবং ইরানের উচিত সামাজিক নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রেও জোরালোভাবে প্রবেশ করা। ভেনিজুয়েলায় আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমরা ভেনিজুয়েলা ও ইরানের মধ্যে বৈজ্ঞানিক আদান-প্রদান শুরু করেছি, যা প্রসারিত হবে বলে আমি আশা করছি।"

ইরান এবং ভেনিজুয়েলার মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা ও এর কৌশলগত প্রকৃতি

এছাড়াও এই বৈঠকে আহলুল-বাইত ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলির সেক্রেটারি-জেনারেল হুজ্জাতুল-ইসলাম রামাজানিও ইরান ও ভেনিজুয়েলার সম্পর্ককে গভীর ও কৌশলগত বলে বর্ণনা করে জোর দিয়ে বলেছেন যে:

"আমাদের ধর্মের নীতির ভিত্তিতে নিপীড়ন ও নিপীড়ন মেনে নেয়াকে নিন্দা করা হয় এবং অন্যদিকে, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের উপর জোর দেওয়া হয়।"

তিনি আরও বলেছেন, ইমাম খোমেনি (র) ইরানের ও বিশ্বের জাতিগুলোর সামনে এক মহান শিক্ষা তুলে ধরেছেন। আর ওই শিক্ষাটি হল: আমরা জুলুমের মোকাবেলায় রুখে দাঁড়াতে পারি এবং এভাবে নতুন সভ্যতা গড়ার পথ সুগম করতে পারব। ইমাম খোমেনি (র) চারটি মূলনীতিতে বিশ্বাস করতেন। এই চার মূলনীতি হল: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, লক্ষ্যের প্রতি বিশ্বাস, কর্মপন্থার প্রতি বিশ্বাস ও জনগণের প্রতি বিশ্বাস। তিনি এই চার নীতির প্রতি বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিপ্লব করেছেন এবং ইরানে ও বিশ্বে পরিবর্তন এনেছেন। ফলে বদলে গেছে বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত সমীকরণগুলো।  

জনাব রামাজানি আরও বলেছেন,

“বিশ্বে পরিবর্তন ঘটতে হবে যাতে বিশ্বের সম্পদ সকল মানুষের মধ্যে ন্যায্যভাবে বন্টন করা হয়, বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশ বিশ্বের ৯০ শতাংশ সম্পদ থেকে উপকৃত হয় না, বরং বিশ্বের জনসংখ্যার নব্বুই শতাংশ কেবল ১০ শতাংশ সম্পদ থেকে ভোগ করছে।"... (অসমাপ্ত) 

captcha