
হামাসকে ধ্বংস করে নিজের পণবন্দিদের মুক্ত করতে ইসরাইলের ব্যর্থতা এবং ইরানের ট্রু প্রমিজ নামক অভিযানের জবাব দেয়ার সাহস দেখাতে না পারার কারণে ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রচণ্ডভাবে মানসম্মান রক্ষা করার সংকটে পড়েছে। এ কারণে ইহুদিবাদীরা নিজেদের হারানো ভাবমূর্তি ফিরে পাওয়ার আশায় সাইবার জগতে চরম মিথ্যাচার ও সাইবার বুলিং শুরু করেছে। এদের মধ্যে ইসরাইলি সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দানকারী ইডি কোহেন নামক এক ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।
শক্তিমত্তা প্রদর্শনের চেষ্টা
ইডি কোহেন সামাজিক মাধ্যম এক্স- এ ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নানা সংকট বিশেষ করে ইসরাইল ছেড়ে ইহুদিবাদী অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়া, বিমানবন্দরগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে ভয়াবহ মতবিরোধের বিষটি চেপে গিয়ে ইসরাইলকে নিরাপদ আবাস বলে তুলে ধরেছে। অথচ ইসরাইল প্রকৃত অর্থে কতটা অনিরাপদ তা ফুটে ওঠে লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর বক্তব্যে। তিনি ইসরাইলকে মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল ও নিরাপত্তাহীন বলে অভিহিত করেছেন।
কোহেন লিখেছে: যে কেউ নেতানিয়াহুর বাড়িতে ঢুকবে সে নিরাপদ, আর যে কেউ [আয়াতুল্লাহ] খামেনেয়ীর বাড়িতে ঢুকবে সে খবরের অংশ হয়ে যাবে।
ক্যাপশান: ইহুদিবাদী ইসরাইলের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের লক্ষ্যে কোহেনের এক্স বার্তা
ইহুদিবাদীদের মধ্যে আশা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা
এক্স-এ প্রকাশিত আরেকটি পোস্টে কোহেন প্রতিরোধ যোদ্ধাদের শাহাদাতের একটি ছবি প্রকাশ করে ইহুদিবাদীদেরকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সে লিখেছে: শুভ সকাল, এদেরকে ছাড়া সকালটা কতোই না মনোরম
ইহুদিবাদীদের মধ্যে আশা জাগিয়ে তোলা কোহেনের টুইটসে তার আরেকটি টুইটারে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর আগে প্রতিরোধ ফ্রন্টের কৌশলগত ধৈর্য ও মনস্ত্বাত্তিক যুদ্ধের কৌশল উপলব্ধি করতে না পেরে কোহেন লিখেছে: ১৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেল। কোনো ঘটনা ঘটল না। মিথ্যা ও ভুয়া হুম্বিতম্বি। তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এগুলো বাজে কথা। আপনারা ভীতুর ডিম।
ইহুদিবাদীদের মধ্যে আশা জাগিয়ে তোলা কোহেনের টুইটকোহেন তার এক্স পেজে এমন সময় এই পোস্ট করেছে যখন ইসরাইলে চরম আঘাত হানার আগে প্রতিরোধ অক্ষ ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে বিস্তৃত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে যার ফলে ইহুদিবাদীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং তারা ভূগর্ভস্থ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাচ্ছে।
অন্যদিকে কোহেন একবারও একথা বলে না যে, ইসরাইলি সেনারা গাজার চোরাবালিতে আটকা পড়েছে। সেইসঙ্গে গাজা, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাক থেকে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি ভূখণ্ডে আঘাত হানছে।
আরব ও মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টির চেষ্টা
ইডি কোহেন একইসঙ্গে উপনিবেশবাদীদের চিরায়ত নীতি অর্থাৎ ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ অনুসরণ করে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সে তার এক্স পেজে লিখেছে: সুন্নিরা জানে যে, তাদের প্রধান হুমকি ইসরাইল নয় বরং ইরান। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে কোহেন তার পোস্টগুলো আরবি ভাষায় প্রকাশ করছে।
আরব ও মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টির চেষ্টাকোহেন তার আরেকটি টুইটে লিখেছে: সৌদি আরব ইসমাইল হানিয়ার [শাহাদাতের] নিহত হওয়ার ব্যাপারে উল্লাস প্রকাশ করেছে।
আরব ও মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টির চেষ্টাকিন্তু আরব দেশগুলোর তরুণ প্রজন্ম ইহুদিবাদীদের এই পুরনো কৌশল ধরে ফেলেছে এবং তারা কোহেনের এই দাবিকে হাসিঠাট্টায় পরিণত করেছে।
একজন সুন্নি আলেম ইসমাইল হানিয়ার জানাযার নামাজে শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর ইমামতি করার দৃশ্যকে চমৎকার দৃশ্য বলে মন্তব্য করেছেন। আশ-শেইখ মুসা আল-খালাফ নামক আরেকজন সুন্নি আলেম বলেছেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের শিয়া ও সুন্নী মুসলমানদের মধ্যে চমৎকার ঐক্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হামাসের সুন্নি নেতা ইসমাইল হানিয়ার রক্তের বদলা নেয়ার যে প্রস্তুতি শিয়া ইরান নিচ্ছে তার প্রতি বিশ্বের দেড়শ কোটি মুসলমান সমর্থন জানিয়েছে। #
পার্সটুডে