
অ্যাঙ্গোলা আফ্রিকার দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি। রুয়ান্ডা দেশটির সর্ববৃহৎ শহর এবং রাজধানী। দেশটির মোট আয়তন ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা দুই কোটি ৫৭ লাখ ৮৯ হাজার ২৪ জন।
তাদের বেশির ভাগই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। অ্যাঙ্গোলায় মুসলিমরা একটি ক্ষুদ্র ধর্মীয় জনগোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করে। পর্তুগিজ দেশটির রাষ্ট্রীয় ভাষা।
ধারণা করা হয়, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে অ্যাঙ্গোলায় মানববসতি গড়ে উঠেছিল।
তবে গর্তুগিজ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত সেখানে কোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামো ছিল না। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বছর অ্যাঙ্গোলা শাসন করে পর্তুগিজ। ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৮ বছর গৃহযুদ্ধ চলে দেশটিতে। বিশ্লেষকরা অভিযোগ করেন, বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মদদ ও বিপুল খনিজসম্পদ দখলের আকাঙ্ক্ষা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছে।
অ্যাঙ্গোলায় ইসলাম প্রচারের ইতিহাস খুব বেশি পুরনো নয়।
গত শতাব্দীর মধ্যভাগে সেখানে ইসলামের আলো পৌঁছায়। ধারণা করা হয়, আফ্রিকায় মুসলিম শাসকদের অন্তর্দ্বন্দ্ব, আফ্রিকাজুড়ে ইউরোপিয়ানদের আগ্রাসন এবং মুসলিম ভূখণ্ড থেকে দূরত্ব অ্যাঙ্গোলায় ইসলাম পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার কারণ। এ ছাড়া ৫০০ বছরের খ্রিস্টান ঔপনিবেশিক শাসনও দেশটির জনসাধারণকে ইসলামমুখী হতে দেয়নি। ১৯৬১ সালে অ্যাঙ্গোলায় স্বাধীনতাসংগ্রাম শুরু হলে স্বাধীনতাকামী বহু মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয় এবং তারা প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতেও আশ্রয় নেয়। তাদের অনেকেই ইসলাম ও মুসলমানের প্রতি সুধারণা নিয়ে ফিরে আসে। তবু সে সময় জনসাধারণের ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা, নিরক্ষরতা ও কমিউনিস্ট শাসনের কারণে অ্যাঙ্গোলায় ইসলাম প্রচার সহজ ছিল না। তার পরও অ্যাঙ্গোলায় ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। গত শতকের আশি ও নব্বইয়ের দশকে মুসলিম ব্যবসায়ীরা অ্যাঙ্গোলায় পাড়ি জমাতে শুরু করে। তাদের বেশির ভাগই এসেছিল পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলো থেকে। যেমন সেনেগাল, মালি, গিনি, গাম্বিয়া, মৌরিতানিয়া। লেবানন, মিসর ও ফিলিস্তিন থেকে বহু আরব মুসলিম আসে। ভারত-পাকিস্তান থেকেও স্বল্পসংখ্যক মুসলিম ব্যবসায়ী আগমন করে।
১৯৯১ সালে আঙ্গোলার ব্লাংকায় প্রথম মসজিদ নির্মাণ করা হয়। দেশটিতে ইসলাম প্রচারে যুবকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা বাণিজ্যিক অঞ্চলে ও নিজেদের প্রতিবেশীদের ভেতরে প্রথমে ইসলাম প্রচার করে। ১৯৯৪ সালে অ্যাঙ্গোলা থেকে প্রথম হজ কাফেলা বের হয়। উসমান বাহ, মুহাম্মদ সাঙ্গো ও শায়খ আদম জাকেতি এবং তাদের সহযোগীরা ইসলাম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশটিতে ইসলাম প্রচারে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় বিশেষ সহযোগিতা করে। বর্তমানে শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা ও দারিদ্র্যতা দেশটিতে ইসলাম প্রসারে গুরুতর বাধা।
ধারণা করা হয়, অ্যাঙ্গোলায় মুসলমানদের সংখ্যা এক লাখ ৯৫ হাজার। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত সংখ্যা ৮০ হাজার। দেশটির বেশির ভাগ মুসলিম সুন্নি মতাদর্শে বিশ্বাসী। তবে স্বল্পসংখ্যক শিয়া মতাবলম্বীও সেখানে রয়েছে। ইসলামিক কমিউনিটি অব অ্যাঙ্গোলা দেশটির সর্ববৃহৎ মুসলিম সংস্থা। সংস্থাটি অ্যাঙ্গোলার কেন্দ্রীয় মসজিদ ও হজ ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত। তাদের প্রচেষ্টায় প্রতিবছর তিন থেকে চারজন নওমুসলিম হজ করার সুযোগ পায়। ‘আইদা’ অ্যাঙ্গোলার অন্যতম মুসলিম সাহায্য সংস্থা। দেশটিতে আটটি সরকার অনুমোদিত মসজিদ রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১০০ নামাজকক্ষ আছে বলে ধারণা করা হয়।
ধর্ম পালনে স্বাধীন হলেও অ্যাঙ্গোলিয়ান মুসলিমদের বড় দুঃখ হলো দেশটিতে ধর্ম হিসেবে ইসলামের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। ২০০৪ সালে প্রণীত আইন অনুসারে অ্যাঙ্গোলায় কোনো ধর্মকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে হলে কমপক্ষে এক লাখ নাগরিক তার অনুসারী হতে হবে এবং দেশের দুই-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ডে তাদের উপস্থিতি থাকতে হবে। এই শর্তের কারণে অ্যাঙ্গোলায় রাষ্ট্র স্বীকৃত কোনো ধর্ম নয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বঞ্চিত করতেই এই আইন করা হয়েছে। কেননা সরকার স্বীকৃত ৮৩ ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর সবগুলোর মৌলিক পরিচয় খ্রিস্টান।
সূত্র : ইসলাম ওয়ে ডটনেট ও আনাদুলু এজেন্সি