
ইসরাইলি সেনা কমান্ডাররা বলেছে, গাজার নেতজারিম করিডোরে একটি স্থান এখন ‘লাশের এলাকা’ নামে পরিচিত এবং গাজাবাসীও বিষয়টি জানে। ইহুদিবাদী বাহিনীর ২৫২তম ব্রিগেডের একজন কমান্ডার বলেছে, ওই এলাকায় ভুলবশত কোনো ফিলিস্তিনি আসামাত্র তাকে গুলি করে লাশ রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। পরে সেটি কুকুরের খাদ্যে পরিণত হয়।
হারেতজ জানিয়েছে, গাজায় মোতায়েন ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে এখন কে কতো বেশি ফিলিস্তিনি হত্যা করতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলছে। বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে তাকে হামাস যোদ্ধা বলে চালিয়ে দেয়া হয়।
আরেকজন ইসরাইলি কমান্ডারের বরাত দিয়ে দৈনিকটি জানিয়েছে, এই প্রথম কোনো যুদ্ধে ইহুদিবাদী সেনাদের জন্য ‘যা খুশি তাই করার এবং কোনো জবাবদিহি না রাখার’ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব কমান্ডার তাদের ইউনিটগুলোর জন্য যত বেশি পারা যায় ‘বিজয়’ রেকর্ড করার চেষ্টা করছে। একজন ইহুদিবাদী সেনা কমান্ডার বলেছে, গাজার উত্তরাঞ্চলকে যত বেশি পারা যায় ফিলিস্তিনি মুক্ত করাকে সে ‘বিজয়’ হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
একজন ইসরাইলি সেনা তার সহকর্মীদের বলেছে, সে একদিন ১৬ বছরের এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে হত্যা করার পর তার কমান্ডার তার প্রশংসা করে এবং তাকে পরদিন আরো ১০ ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়।
হারেতজ একাধিক ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইহুদিবাদী বাহিনীর ৯৯ ব্রিগেড একবার হেলিকপ্টার থেকে একজন বৃদ্ধ ও দুই শিশুকে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে দেখে তাদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তিন জনকেই হত্যা করে। আরেক সেনা দৈনিকটিকে জানায়, একবার ইসরাইলি সেনারা ২০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে যাদের মধ্যে মাত্র ১০ জন ছিলেন হামাস যোদ্ধা। কিন্তু দখলদার বাহিনী তাদের সবাইকে ‘হামাস সন্ত্রাসী’ বলে চালিয়ে দেয়।
গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনারা কী ভয়াবহ পাশবিকতা ও নৃশংসতায় মেতে উঠেছে তার সামান্য একটি চিত্র হারেতজ পত্রিকার এই প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারনা। তারা মনে করছেন, প্রকৃতপক্ষে গাজা উপত্যকায় তারা এর চেয়ে অনেক বেশী নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে। পার্সটুডে#