
এবার শারার সঙ্গে দেখা করলো সৌদির প্রতিনিধি দল
*"
ইত্তেফাকের এ খবর নিয়ে কিছু কথা :
শারার সাথে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাঁকান ফীদান এবং মাযুরা ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) যে শারা ও তাহরীর আশ শামকে টেরোরিস্ট এবং শারার মাথার জন্য ১০ লাখ ডলারের ইন'আম (:পুরুস্কার ) ঘোষণা করেছিল সেই শারার সাথে মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবারা লিফের নেতৃত্বে মাযুরার ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলও দামেশকে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেছে । কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে এমনকি ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করার ঘোষণা দিয়েছে আবূ মুহাম্মদ আল - জূলানী ( আহমাদ আশ শারা' ) । সে আরো বলেছে : সিরিয়ার ভূখণ্ড ইসরাইলের বিরুদ্ধে আর ব্যবহৃত হতে দেবে না দামেশকের নয়া প্রশাসন। এমনকি সিরিয়ায় যখন ইসরাইল আগ্রাসন চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্ট্র্যাটেজিক অঞ্চল জবরদখল এবং সিরীয় সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্থাপনা সমূহের ৯০% বোমাবর্ষণ করে ধ্বংস করেছে তখন টেরোরিস্ট আল - জূলানীর নেতৃত্বাধীন হাইআত তাহরীরিশ শাম ও সিরিয়ার নয়া প্রশাসন সশস্ত্র প্রতিরোধ ও বাধা দেওয়া তো দূরের কথা প্রতিবাদ পর্যন্ত করে নি । অবশেষে এই অল্প কিছু দিন আগে ইসরাইলকে সিরিয়ায় আগ্রাসনের লোকদেখানো নামকে ওয়াস্তের মৌখিক আপত্তি জানিয়েছে। বাশার আসাদ সরকারের পতনের পর কেন ইসরাইল সিরিয়ার সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ৯০% ভাগ বোমা বর্ষণ করে ধ্বংস করল ? অথচ এই প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা দশকের পর দশক ধরে গড়ে উঠেছিল এবং বাশার আসাদের শাসনামলে তা ধ্বংস এবং সিরিয়ার স্ট্র্যাটেজিক অঞ্চল সমূহের এক ইঞ্চিও দখল করতে পারে নি ইসরাইল । কিন্তু এই টেরোরিস্টদের নারোদ মনি আল - জূলানীর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী সংগঠন হাই'আত তহরীরিশ শাম সিরিয়ার ক্ষমতা দখলের ঠিক পর পরই এ সব অপকর্ম সিরিয়ায় করতে পারল ( অর্থাৎ আগ্রাসন চালিয়ে সামরিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্ট্র্যাটেজিক সিরীয় ভূখণ্ড ও অঞ্চল জবর দখল এবং দেশটির সামরিক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সক্ষমতার ৯০% ভাগ ধ্বংস সাধন ) । আর এ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে বাশার আসাদ সরকারের পতন ও সিরিয়ায় টেরোরিস্ট আল - জূলানীর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী সংগঠন হাই'আত তাহরীরিশ শামের ক্ষমতা দখল ইসরাইলের জন্য শাপে বর হয়েছে ও উপকারেই এসেছে। এখন সিরিয়া ইসরাইলের মোকাবেলায় অত্যন্ত দুর্বল একটি দেশে পরিণত হয়েছে। ইসরাইল চায় না তার আশেপাশের দেশগুলো তথা পশ্চিম এশিয়ার ( মধ্য প্রাচ্য ) কোনো দেশ সামরিক ও প্রতিরক্ষার দিক থেকে শক্তিশালী হোক বা থাকুক । আর বাশার আসাদ সরকারের পতন ও হাইআত তাহরীরিশ শামের উত্থান ইসরাইল , পশ্চিমা বিশেষ করে মাযুরার ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ সংরক্ষণ করেছে এবং ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ পরিপন্থী হয়ে গেছে। তাহলে প্রমাণিত হল যে সিরিয়ার নয়া প্রশাসন সাবেক বাশার আসাদ প্রশাসন অপেক্ষা অধিক মন্দ ও খারাপ। শোনা যাচ্ছে যে , আল - জূলানীর সবুজ সংকেতে মাযুরা ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) দামেশকের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করবে যার ঘোষণা আল - জূলানী অতি শীঘ্রই দিবে। এ ছাড়া সিরিয়ার হাসাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত খারাব আর জীর্ ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান সমূহ সামরিক সাজ সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি এবং মার্কিন সৈন্যদের পৌঁছে দিচ্ছে।
আসলে আরব প্রতিক্রিয়াশীল কুচক্রী দেশগুলোর সহায়তায় তুরস্ক, মাযুরা ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) ও ইসরাইল অধিক মন্দকেই ( সন্ত্রাসী হাই'আত তাহরীরিশ শামের সরকার ) চাপিয়ে দিয়েছে সিরীয় জনগণের ওপর । কার্যতঃ সিরিয়াকে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর দুশমন ইহুদী যায়নবাদী ইসরাইল এবং পশ্চিমা বিধর্মী নাসারা ( খ্রীষ্টান ) বিশেষ করে মাযুরার ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) হাতেই সোপর্দ করা হয়েছে । আর তুরস্ক ওদের সাথে সিরিয়ার মালে গণীমতের কিছু উচ্ছিষ্ট অংশ পাওয়ার তালে রয়েছে।
সিরিয়ার নয়া প্রশাসন ইরান ছাড়া সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও দেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছে।
তুরস্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ ষড়যন্ত্র মূলক পরিকল্পনা ও প্ল্যানে এমন এক সময় পিছন থেকে ছুরি মেরে বাশার আসাদ সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে যাতে ইসরাইল গাযা ও লেবাননের চোরাবালিতে ডুবে যাওয়া থেকে উদ্ধার পায় এবং অত্র এলাকা ও অঞ্চলে পাশ্চাত্য বিশেষ করে মাযুরার ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) আরো অনেক সাম্রাজ্যবাদী নীল নকশা ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় ।
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান