
বুধবার পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ সফরকালে ন্যাটো মহাসচিব আরো বলেন, "এখন একা কাজ করার সময় নয়; ইউরোপের জন্যও নয়, উত্তর আমেরিকার জন্যও নয়। বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা সমস্যাটা এতটাই ব্যাপক যে আমরা কেউই একা এগুলো মোকাবেলা করতে পারব না।"
পার্সটুডের তথ্য বলছে, ওয়াশিংটন ন্যাটো সদস্যদের উপর তাদের সামরিক বাজেট বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে, কিন্তু ইউরোপীয়রা এই সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছে। রুট আরও বলেন, "ন্যাটোর কোন বিকল্প নেই।" তবে ন্যাটো মহাসচিব নিজে সংস্থার গঠনতন্ত্রের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রতি মার্কিন প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়ে সন্দিহান নন বলে মন্তব্য করেন।
উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো)'র গঠনতন্ত্রের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে ন্যাটো সদস্যদের সাধারণ প্রতিরক্ষা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে, এটাকে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির হৃদয় বলা হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী ন্যাটোর কোনো এক সদস্যের উপর আক্রমণকে তার সকল সদস্যের উপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ন্যাটোর গঠনতন্ত্রের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ বলে কিছু নেই: ইউক্রেনের কর্মকর্তা
ন্যাটোর গঠনতন্ত্রের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্য এমন এক সময় এলো যখন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেছেন, ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যরা এটা ভালো করেই জানেন যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোটকে রাশিয়ার হাত থেকে রক্ষা করার কোনও ইচ্ছা তাদের নেই। লন্ডনে নিযুক্ত কিয়েভের রাষ্ট্রদূত ভ্যালেরি জালুঝনি স্পষ্ট করে বলেছেন, উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো)-এর গঠনতন্ত্রে কার্যত পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদ বলে কিছু নেই।
জালোঝনির মতে, ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে এই সামরিক জোটের সদস্যদের উপর যেকোনো আক্রমণ মানে সমগ্র জোটের উপর আক্রমণ। আসলে তা বাস্তবায়ন হয় না।
ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরণের সম্পৃক্ততা ফাঁস
মার্কি সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক তদন্ত থেকে জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধারণার চেয়ে বেশি মাত্রায় ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত। অতীতে যা ধারণা করা হতো এই মাত্রা তার চেয়ে অনেক বেশি।
ন্যাটোর জন্য উত্তর মেরু হচ্ছে রাশিয়ার সাথে সংঘাতের স্থান: পুতিন
মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস যখন ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে, তখনই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উত্তর মেরুতে ন্যাটোর কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এই অঞ্চলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। গ্রিনল্যান্ডকে সংযুক্ত করার মার্কিন অভিপ্রায়ের কথা উল্লেখ করে পুতিন এই বিষয়টিকে উত্তর মেরুর ভূ-কৌশলগত, সামরিক-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে সম্পর্কিত বলে মন্তব্য করেছেন। পার্সটুডে