IQNA

মায়ানমার জান্তাও সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করল

15:15 - April 02, 2025
সংবাদ: 3477139
ইকনা- মায়ানমারের সামরিক বাহিনী ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ সরবরাহ ও পুনর্গঠনের গতি বাড়াতে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন জান্তার রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক পরিষদ জানিয়েছে, এই চুক্তি ২ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল, যাতে ত্রাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে। তবে সামরিক বাহিনী বুধবারের ঘোষণার আগ পর্যন্ত একই পদক্ষেপ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল।
 
 
গত শুক্রবার ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এখন পর্যন্ত কমপক্ষে দুই হাজার ৮৮৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। ভূমিকম্পের কম্পন কয়েক শ মাইল দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডও। সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা বর্তমানে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।
 
 
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মায়ানমার গৃহযুদ্ধের কারণে ব্যাপক সহিংসতার কবলে রয়েছে। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত মিলিশিয়া ও প্রতিরোধ বাহিনীগুলো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
 
ত্রাণবাহী চীনা রেড ক্রসের গাড়িবহরে গুলি
এদিকে মায়ানমারের সামরিক বাহিনী স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে ত্রাণবাহী চীনা রেড ক্রসের গাড়িবহরের দিকে গুলি ছুড়েছে। সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানিয়েছে, পূর্ব শান রাজ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ৯টি যানবাহনের ওই বহরের দিকে মেশিনগান দিয়ে গুলি চালায়।
 
এই বহরটি ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর মান্দালয়ের দিকে যাচ্ছিল। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জান্তা সরকার এই ঘটনার তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। তবে তারা সরাসরি গাড়িগুলোর দিকে গুলি ছোড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বহরটি থামতে সংকেত দেওয়া হলেও না থামায় সেনারা ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
 
 
অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানায়, তাদের উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী নিরাপদ রয়েছে। তারা আশা করে, ‘মায়ানমারের সব পক্ষ ও গোষ্ঠী ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।’
 
মায়ানমারে মানবিক সংকট আরো তীব্র হয়েছে
গত সপ্তাহের ভূমিকম্পের পর মায়ানমারে মানবিক সংকট মারাত্মকভাবে বেড়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে জান্তার দেওয়া মৃতের সংখ্যা যা বলা হচ্ছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বহু আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও বিভিন্ন বিদেশি সরকার ভূমিকম্প আক্রান্ত অঞ্চলে উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। 
 
এক সামরিক মুখপাত্র বুধবার জানান, মঙ্গলবার রাতে সেনারা নাউংচো টাউনশিপ থেকে আসা ওই ত্রাণ বহরটি দেখে। বহরের গাড়িগুলোতে চীনা স্টিকার ও মায়ানমারের নম্বর প্লেট ছিল, তবে সেনারা আগেভাগে এই বহরের গতিবিধি সম্পর্কে কোনো তথ্য পায়নি।
 
তিনি বলেন, ‘আমরা বহরটি দেখে থামানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা থামেনি। তখন আমরা ২০০ মিটার দূর থেকে গুলি চালাই, তবু তারা থামেনি। যখন তারা প্রায় ১০০ মিটারের মধ্যে চলে আসে, তখন আমরা তিনটি ফাঁকা গুলি ছুড়ি। এরপর গাড়িগুলো ঘুরে নাউংচোর দিকে ফিরে যায়।’
 
মুখপাত্র আরো জানান, মান্দালয়ে উদ্ধার সহায়তা দিচ্ছে চীনের ব্লু স্কাই রেসকিউ টিম এবং তারা এই রুট দিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা সুরক্ষা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ত্রাণ সহায়তা দিতে চাইলে তাদের অবশ্যই মায়ানমার সরকারকে আগেভাগে জানাতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
 
এদিকে রেড ক্রসের বহরকে পাহারা দেওয়া টিএনএলএ জানিয়েছে, তারা মান্দালয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সামরিক পরিষদকে আগেই অবহিত করেছিল। বহরটি নাউংচোতে ফিরে গেলেও তাদের যাত্রা আবার শুরু হবে বলে টিএনএলএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
 
সূত্র : বিবিসি
 
captcha