
জিনাতুন নিসা বেগম ৫ অক্টোবর ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা দিলরাজ বানু ছিলেন পারস্যের সাফাভিদ রাজপরিবারের শাহজাদি।
রাজকীয় ব্যবস্থাপনায় শাহজাদি জিনাতুন নিসা বেগমের লেখাপড়া সম্পন্ন হয়। তাঁর বাবা সম্রাট আওরঙ্গজেব ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক ও ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন জ্ঞানানুরাগী। ফলে তাঁর তিন মেয়েই ধর্মীয় ও জাগতিক জ্ঞানে পাণ্ডিত্য লাভ করেন। জিনাতুন নিসার অন্য দুই বোন হলেন বড় বোন জেবুন নিসা বেগম ও ছোট বোন জুবদাতুন নিসা বেগম। ব্যক্তিগত জীবনে জিনাতুন নিসা বেগম অবিবাহিত ছিলেন।
সাম্রাজ্যের হিন্দু-মুসলিম-নির্বিশেষে সব নাগরিক তাঁর কাছ থেকে সমান সহযোগিতা লাভ করত। তাঁর কাছে কোনো কিছু চেয়ে কেউ খালি হাতে ফিরত না।
যদিও ভাই মুহাম্মদ কামবখশের পক্ষ নেওয়ায় তিনি একাধিকবার বাবার বিরাগভাজন হন, তবু তিনিই ছিলেন বাবার শেষ জীবনের নিত্যসঙ্গী। দাক্ষিণাত্যে বসবাসের সময় সম্রাট আওরঙ্গজেবের পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন জিনাতুন নিসা বেগম। তিনি দীর্ঘ জীবন লাভ করেন।
ফলে পরিবারের সবাই তাঁকে সম্মান ও সমীহ করত।
জিনাতুন নিসা অযোধ্যা ও বাংলাকে সংযুক্তকারী মহাসড়কের পাশে ১৪টি সরাইখানা (আবাসিক হোটেল, যাতে পথিকরা বিশ্রাম ও আশ্রয় নিত) নির্মাণ করেন। তিনি ৩৭ বছর বয়সে এই প্রকল্প হাতে নেন এবং বাবার প্রশংসা অর্জন করেন। ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থে দিল্লিতে জিনাতুল মসজিদ নির্মাণ করেন। লালকেল্লার নদীর দিকের দেয়ালের সঙ্গে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। কথিত আছে, বাবার কাছ থেকে বিয়ের খরচ বাবদ অর্থ দাবি করেন এবং সেই টাকা দিয়ে তিনি ঐতিহাসিক এই মসজিদ নির্মাণ করেন।
জিনাতুল মসজিদ মোগল স্থাপত্যরীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। মসজিদে দামি মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। লাল বেলেপাথর দিয়ে তার নকশা করা হয়েছে। মসজিদের সম্মুখভাগে দুটি তিনতলা দৃষ্টিনন্দন মিনার রয়েছে। ব্রিটিশ বাহিনী দিল্লি দখল করার পর মসজিদটিকে সেনাবাহিনীর বেকারি হিসেবে এবং এর একাংশকে আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করত। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পর জিনাতুল মসজিদে ফের নামাজ শুরু হয়। মসজিদটি দিল্লির একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।
জিনাতুন নিসা বেগম ১৮ মে ১৭২১ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তাঁকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত জিনাতুল মসজিদের পাশেই দাফন করা হয়। তাঁর কবরের ওপর লেখা আছে,
‘আমার কবরের জন্য বন্ধু/কেবল আল্লাহর ক্ষমাই যথেষ্ট
আমার কবরের ফুলের ছাউনি/আমার প্রভুর দয়ার ছায়া।
তথ্যসূত্র : ইনফিনিট উইমেন ডটকম, হেরিটেজ টাইম
ডটআইএন ও উইকিপিডিয়া