IQNA

ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কেনিয়ায় হাজারো গাছ রোপণ

0:04 - November 04, 2025
সংবাদ: 3478372
ইকনা- কেনিয়ার মুসলমানরা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি জানাতে নাইরোবির উহুরু পার্কে হাজার হাজার গাছ রোপণ করেছেন।

ইস্টলি ভয়েস–এর বরাতে ইকনা জানায়, কেনিয়ার মুসলমানরা পরিবেশবান্ধব ও রাজনৈতিক একটি উদ্যোগের অংশ হিসেবে নাইরোবির উহুরু পার্কে ১০ হাজার গাছ রোপণ করেছেন, যা ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতির প্রতীক।
“ভয়েসেস ফর প্যালেস্টাইন” নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। উহুরু পার্ক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পার্ক পর্যন্ত বিস্তৃত এই কর্মসূচি আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা এবং ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বরের বেলফোর ঘোষণার এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর সেই ঘটনার স্মরণে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা মনে করিয়ে দেওয়া।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা ১০ হাজার গাছ রোপণ করেন, যা স্মরণ, প্রতিরোধ ও পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে। এই গাছগুলো ফিলিস্তিনিদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের দুর্ভোগ—বাস্তুচ্যুতি, দখল ও সহিংসতার—এক জীবন্ত স্মারক হিসেবে থাকবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ কেনিয়ার জাতীয় বৃক্ষ আচ্ছাদন বৃদ্ধি ও সবুজ এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যকেও সমর্থন করে।
নাইরোবির জামে মসজিদের ইমাম শায়খ বদর জাফর সমাবেশে বলেন, “এই কর্মসূচি শুধু পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক শান্তির আহ্বান।” তিনি যোগ করেন, “এটি শুধু গাছ রোপণ নয়, এটি ন্যায়বিচারের জন্য একটি বৈশ্বিক ডাক।”
আয়োজকদের মতে, ২ নভেম্বর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছে বেলফোর ঘোষণার বার্ষিকী উপলক্ষে। তারা বলেন, এই দিনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে কেনিয়ার পরিবেশবান্ধব প্রচেষ্টাকে বৈশ্বিক মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনের অন্যান্য অঞ্চলে চলমান মানবিক সংকট সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। অংশগ্রহণকারীরা শান্তি ও ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়ে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন, কেউ কেউ নিহতদের জন্য দোয়াও করেন।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই গাছগুলো শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্থায়ী প্রতীক হিসেবে থাকবে এবং ফিলিস্তিনের জন্য ন্যায়বিচার বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে—শুধু আঞ্চলিক বা রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে নয়।
শায়খ বদর ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতা কেনিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়সহ সাধারণ মানুষকে শান্তি ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন। তারা আহ্বান জানান, যেন বিশ্বাসভিত্তিক উদ্যোগগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় অন্তত ৬১ হাজার শিশু নিহত বা আহত হয়েছে—গড়ে প্রতি ১৭ মিনিটে একজন শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের কারণে মানসিক আঘাত, অভিভাবকহীনতা বা বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছে। 4314520#

captcha