
কুরআনের অন্যতম দৃষ্টান্ত হলো মুসলমানদের মধ্যে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। মহান আল্লাহ বলেন:
“إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ”
অর্থাৎ, “নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; অতএব তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও” (সূরা হুজুরাত, আয়াত ১০)।
এ ছাড়া সূরা তাওবার আয়াত ৭১-এ আল্লাহ তায়ালা সামাজিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:
“وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ”
অর্থাৎ, “বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারীরা একে অপরের অভিভাবক। তারা সৎ কাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে।”
এ থেকে বোঝা যায়, মুমিনদের মধ্যে ‘ওলায়াত’ বা পারস্পরিক সহায়তা একে অপরের প্রতি সমর্থন ও দায়িত্ববোধের প্রতীক।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হলো “আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার”—অর্থাৎ সমাজে ভালো কাজে উৎসাহ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ। ইসলামী সমাজে ব্যক্তির ও সমাজের ভাগ্য একে অপরের সঙ্গে জড়িত; তাই নৈতিক অবক্ষয় রোধে পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
কুরআন একইসাথে সতর্ক করেছে মুনাফিকদের সহযোগিতার ধরন সম্পর্কে, যেখানে তারা মন্দকে প্রচার করে এবং ভালো থেকে বিরত রাখে:
“الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمُنْكَرِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمَعْرُوفِ…”
(সূরা তাওবা, আয়াত ৬৭)।
সার্বিকভাবে, যত নেক কাজ রয়েছে, তত উপায়ে সহযোগিতার দৃষ্টান্তও কুরআনে পাওয়া যায়—যেমন উপহার দেওয়া, অন্যকে আনন্দিত করা, মুমিন ভাইয়ের দুঃখ মোচন, ক্ষুধার্তকে আহার করানো, অসুস্থের খোঁজখবর নেওয়া এবং পারিবারিক কাজে পারস্পরিক সহায়তা করা।
এই সকল কর্মকাণ্ড “নেকি ও তাকওয়ার ওপর ভিত্তিক সহযোগিতা”-এরই বাস্তব প্রকাশ। 3495149#