
আন্তর্জাতিক কুরআন নিউজ এজেন্সি (ইকনা) জানিয়েছে, ভ্যাটিকানের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নবী ঈসা (আ.)-ই মানবজাতির একমাত্র মুক্তিদাতা। এই ঘোষণা দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে।
ভ্যাটিকানের ধর্মীয় দপ্তর তাদের নতুন নির্দেশিকায় বিশ্বের প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ক্যাথলিকের উদ্দেশ্যে জানিয়েছে—“সহ-উদ্ধারকর্ত্রী” বা Co-Redemptrix শিরোনামটি মরিয়মের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এটি খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
এই সিদ্ধান্তটি মরিয়মের “উদ্ধার” প্রক্রিয়ায় ভূমিকা নিয়ে বহু বছরের আলোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। যদিও খ্রিষ্টানরা বিশ্বাস করেন ঈসা (আ.) নিজের আত্মত্যাগ ও মৃত্যুর মাধ্যমে মানবজাতিকে উদ্ধার করেছেন, কিছু ক্যাথলিক ধর্মতাত্ত্বিক মনে করেন মরিয়ম (আ.)ও ঈশ্বরের আদেশে সম্মতি দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছিলেন।
নতুন নির্দেশিকায় মরিয়মের ভূমিকা ঈশ্বর ও মানবতার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মরিয়ম নবী ঈসা (আ.)-কে পৃথিবীতে আনয়নের মাধ্যমে মানবজাতির জন্য মুক্তির দ্বার উন্মুক্ত করেছেন।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্যাথলিক ও অন্যান্য খ্রিষ্টানদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভ্যাটিকানের মতে, এই ঘোষণা গির্জার শিক্ষা পরিষ্কার করার এবং মরিয়মের ভূমিকা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার প্রচেষ্টা।
পূর্বে দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিলে কিছু বিশপ মরিয়ম (আ.)-কে ঈসা (আ.)-এর পাশাপাশি “উদ্ধারকর্ত্রী” হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত সেই পরিভাষাটি গৃহীত হয়নি; বরং তাঁর ভূমিকা পরিষ্কারভাবে নির্ধারিত হয়।
কুরআনের দৃষ্টিতে মরিয়ম (আ.)-এর মর্যাদা
মরিয়ম (আ.) ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি—এই তিনটি ঐশী ধর্মেই এক মহীয়সী নারী। কুরআন মাজিদে তিনি একমাত্র নারী যার নামে একটি পূর্ণ সূরা রয়েছে—সূরা মরিয়ম। কুরআন তাঁকে পবিত্র, সতী এবং ঈশ্বরনির্ভর নারী হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর অলৌকিকভাবে ঈসা (আ.)-কে ধারণ করা আল্লাহর সৃষ্টিশক্তির এক নিদর্শন। কুরআন ও বাইবেল উভয়েই মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে বহু মিল পাওয়া যায়, যদিও কিছু বিষয়ে পার্থক্যও রয়েছে।
কুরআনের দৃষ্টিতে মরিয়ম (আ.)-এর ব্যক্তিত্ব স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ—তিনি ঈসা (আ.)-এর মা হওয়ার বাইরেও নিজগুণে মহিমান্বিতা অর্জন করেছেন। কিন্তু বাইবেলে মরিয়মের মূল্যায়ন প্রধানত ঈসা (আ.)-এর মাতৃত্বের ভিত্তিতেই করা হয়েছে।
তবে উভয় ধর্মেই মরিয়ম (আ.)-কে এক পবিত্র ও সম্মানিত নারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। 4316077 #