
মিসরের বৃহত্তম কোরআন তিলাওয়াত প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠান ‘দাওলাতুত তিলাওয়াত’ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ট্রেন্ড হয়েছে। দেশের ভেতর ও বাইরে কোরআনপ্রেমী দর্শকদের মধ্যে এই অনুষ্ঠান ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আল-আজহার এর চরমপন্থা প্রতিরোধ কেন্দ্র এক বিবৃতিতে অনুষ্ঠানটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে—এই আয়োজন মিসরের দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী কোরআন তিলাওয়াতের ধারাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
মিসরের ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয় ও মিডিয়া কোম্পানি “আল-মুতাহিদা”-র সহযোগিতায় তৈরি এই অনুষ্ঠানটি তিলাওয়াত ও তর্জিমা (রতিল)– উভয় বিভাগে প্রতিভাবান কোরআন পাঠকদের বাছাইয়ের উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হয়।
প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব গত ২৩ ও ২৪ নভেম্বর জাতীয় টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হওয়ার পরই আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ব্রিটিশ খ্যাতিমান কারী মুহাম্মদ আইয়ুব আসিফ ও মাত্র ১২ বছরের মিসরীয় শিশু কারী মুহাম্মদ হাসান আল-কাল্লাজি–এর যৌথ তিলাওয়াত।
দুইজনের তিলাওয়াত দর্শক ও বিচারকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
মুহাম্মদ আইয়ুব আসিফ পাকিস্তান বংশোদ্ভূত এবং ১০ বছর কায়রোতে তিলাওয়াত শাস্ত্র শেখার পর আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি আগে আর্সেনাল ফুটবল ক্লাবে খেলোয়াড় ছিলেন বলে জানা গেছে।
১৯ বছর বয়সী দৃষ্টিহীন হাফেজ মুহাম্মদ আহমদ হাসান সূরা ইউসুফ থেকে মনোমুগ্ধকর তিলাওয়াত করেন, যা বিচারকদের বিস্মিত করে। তাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কণ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
হাফেজ মুহাম্মদ তিন বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ শুরু করেন এবং আট বছর বয়সেই সম্পূর্ণ হিফজ সম্পন্ন করেন।

এই অনুষ্ঠান “এক্স (টুইটার)” ও গুগলে ট্রেন্ডে উঠে আসে। মিসর ছাড়াও কুয়েত, কাতার, জর্ডানসহ বহু দেশে এটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত অনুষ্ঠানের তালিকায় উঠে যায়।
তিলাওয়াতের সময় এক প্রতিযোগীর কান্নায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়া এবং তরুণ দৃষ্টিহীন হাফেজের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার হাত চুম্বন করা—এসব মুহূর্ত দর্শক হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
এই প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কার মূল্য ৩.৫ মিলিয়ন মিসরীয় পাউন্ড।
তিলাওয়াত ও রতিল বিভাগের প্রথম স্থান অধিকারী প্রত্যেকে ১ মিলিয়ন পাউন্ড পুরস্কার পাবেন।
এছাড়া বিজয়ীদের কণ্ঠে সম্পূর্ণ কোরআন রেকর্ড করে ‘মিসর কোরআন কারিম’ চ্যানেলে প্রচার করা হবে।
আগামী রমজানে তারা কায়রোর ইমাম হুসাইন (রহ.) মসজিদে তারাবিহের ইমামতিও করবেন।

আল-আজহার কেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানায়— ‘দাওলাতুত তিলাওয়াত’ চরমপন্থার বিরুদ্ধে শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার বার্তা ছড়ানো এক অনন্য উদ্যোগ। এই অনুষ্ঠান তরুণদের নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি এবং কোরআনের মর্মবাণীর প্রতি অনুরাগ বাড়াতে সহায়তা করবে।’
প্রাথমিক বাছাইয়ে বিভিন্ন প্রদেশ থেকে ১৪,০০০ জনেরও বেশি প্রতিযোগী অংশ নেয়।
চূড়ান্ত পর্বে ৩২ জন প্রতিযোগী নির্বাচিত হন। বিচারকমণ্ডলীতে আল-আজহার ও মিসরের শীর্ষ কারী, আলেম ও তাজবিদ বিশেষজ্ঞরা দায়িত্ব পালন করেন। 4317246#