IQNA

মরোক্কোর লেখকের সঙ্গে ইকনা–র সাক্ষাৎকার:

“হযরত ফাতেমা (সা.) রাসুলের (সা.) রিসালাতকে দৃঢ় করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন”

21:37 - November 25, 2025
সংবাদ: 3478494
ইকনা- মরোক্কোর লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী হায়াত লালাব বলেন, হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.) মুসলিম নারীদের সচেতনতা ও শিক্ষা বিস্তারের জন্য প্রথম মহিলা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং নিজের ঘরকে নারীদের জ্ঞানার্জনের স্কুলে পরিণত করেছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহর (সা.) পবিত্র রিসালাতকে শক্তিশালী করা এবং সামাজিক সংহতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিশ্বস্ত রেওয়ায়েত অনুসারে, ১৩ জমাদিউল আউয়ালযা আগামীকাল ৩ আযরপবিত্র নবীর (সা.) দুঃখময় কন্যা হযরত ফাতেমা যাহরার (সা.) শাহাদাতবার্ষিকী

হযরত ফাতেমা (সা.) ইবাদতে বিখ্যাত ছিলেন। তাঁর উপাধিগুলোর মধ্যে জাকিয়াহ যাকিয়াহ রয়েছেযা আত্মশুদ্ধির প্রতি তাঁর অতুলনীয় যত্নের প্রতীক। আল্লাহ তাআলা বলেন: যে নিজেকে পবিত্র করলনিশ্চয় সে সফল হল।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর ইবাদতকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: আমার মেয়ে ফাতেমা বিশ্বের সমস্ত নারীর নেতা। তিনি আমার অঙ্গ, আমার নয়নমণি, আমার হৃদয়ের ফল, আমার আত্মার অংশ। তিনি মানব রূপে হুর। যখন তিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে ইবাদত করেন, তাঁর নূর আসমানের ফেরেশতাদের ওপর এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যেমন তারার আলো ভূমির মানুষের ওপর ছড়িয়ে পড়েএবং আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেন: দেখ, আমার বান্দা ফাতেমা কেমন ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে আমার সামনে দাঁড়িয়েছে! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছিআমি তাঁর অনুসারীদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেব।’”

এ উপলক্ষে ইকনা হায়াত লালাবএর সঙ্গে হযরত যাহরার (সা.) সামাজিক ভূমিকা, কোরআনে তাঁর মর্যাদা, মুসলিম নারীদের জন্য তাঁর আদর্শিক অবস্থান এবং রাসুলের (সা.) কাছে তাঁর সম্মানের বিষয়ে কথা বলেছে।

 

কেন তাঁকে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন”—বিশ্বের নারীসমূহের নেত্রী বলা হয়?

লালাব বলেন, আল্লাহ তাআলা হযরত ফাতেমা (সা.)কে এমন অনন্য বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যা কোনো নারীর ক্ষেত্রে আগে দেখা যায়নি। তিনি পূর্ণতা ও কمالের সকল স্তরে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। কোরআন ও রেওয়ায়েতে তাঁর মর্যাদা স্পষ্ট। তিনি নবুয়াত ও ইমামতের মাঝে একেবারে স্বর্গীয় যোগসূত্র।

তিনি নবীজীর (সা.) কন্যা, পিতার মা, এবং সব ইমামের (আ.) জননী

হযরত মাযহাবের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাঁর সত্তা তুবা বৃক্ষের ফল”—অর্থাৎ জান্নাতের নূর থেকে সৃষ্টি।

হযরত মারইয়াম (আ.) তাঁর যুগের সেরা মহিলা ছিলেন, কিন্তু হযরত ফাতেমা (সা.) সব যুগের সমস্ত নারীর নেত্রী

এই উপাধি সহীহ বুখারি, আলবিদায়াহ ওয়াননিহায়াহ, কানযুল উম্মালসহ সুন্নি সূত্রেও এসেছে।

 

তাঁর সামাজিক ভূমিকা কী ছিল?

হযরত ফাতেমা (সা.) শুধু স্ত্রী ও মা হিসেবেই নন, সমাজের বহু ক্ষেত্রে সক্রিয় ছিলেন।
তিনিনবীজীর (সা.) কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন, সন্তানদের লালনপালন করেছেন, কঠিন রাজনৈতিকসামাজিক পরিস্থিতিতেও সমাজের নারীদের শিক্ষায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, নারীদের প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, নিজের ঘরকে নারীদের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বানিয়েছেন, দরিদ্র ও অভাবীদের সাহায্য করেছেন এবং এবং ইসলামের সত্য বার্তা প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।

লালাব বলেন, ফাতেমা (সা.)এর জীবন অধ্যয়ন করলে বোঝা যায়তিনি সমাজ গঠনে এক অনন্য নেতা ছিলেন।

حضرت فاطمه (س) نقش مهمی در تحکیم رسالت پیامبر (ص) داشتند

কোরআনে হযরত ফাতেমা (সা.)এর মর্যাদা

লালাব বিভিন্ন আয়াতের উল্লেখ করেন:

১) আয়াতুত তাহির সুরা আহযাব ৩৩

আল্লাহ চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতেহে আহলে বাইত।

এই আয়াত আহলে কিসাএর বিষয়ে নাজিল হয়েছে।

২) আয়াতুল মুবাহেলা সুরা আলে ইমরান ৬১

এ আয়াতে আমাদের নারীদেরবলতে স্পষ্টভাবে হযরত ফাতেমা (সা.)কে বোঝায়।

۳) সুরা কদর

রেওয়ায়েতে আছেযে ফাতেমা (সা.)এর প্রকৃত পরিচয় বুঝল, সে কদরের রাতকে বুঝল।

৪) সুরা কাউসার

নিশ্চয়ই আমি তোমাকে কাউসার দান করেছি।

নবীজীর (সা.) বংশ হযরত ফাতেমা (সা.)এর মাধ্যমেই চলমান থাকবেএটিই কাউসার

৫) সুরা নূরের আয়াত ৩৫

ইমাম কাযিম (আ.)এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী—“মিশকাতফাতেমা (সা.), “মিসবাহহাসান (আ.) এবং যুজাজাহহুসাইন (আ.)।

নারীদের জন্য কেন তিনি সর্বোত্তম আদর্শ?

লালাব জানান, যদি মুসলিম নারীরা হযরত ফাতেমা (সা.)কে জীবনের রোলমডেল বানাতেনশালীনতা অশালীনতার জায়গা নিত না, সন্তানরা ইসলামী আদর্শে গড়ে উঠত এবং পরিবারসমাজ উভয়ই আলোকিত হতো।

 

রাসুলুল্লাহর (সা.) কাছে হযরত ফাতেমা (সা.)এর স্থান

নবীজী (সা.) বলেন:ফাতেমা আমার অংশ। যে তাকে কষ্ট দেয়, সে আমাকে কষ্ট দেয়; আর যে আমাকে কষ্ট দেয়, সে আল্লাহকে কষ্ট দেয়।

রাসুল (সা.) জানতেনতাঁর পরে তাঁর কন্যার উপর অত্যাচার হবে, তাই মুসলমানদের তাঁর আসল মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন করেছিলেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাতেমা (সা.)এর জীবনচর্যা পড়ানো কেন জরুরি?

লালাব বলেনএটি অত্যন্ত জরুরি, যাতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ইসলামী পরিচয় ও নৈতিকতা দৃঢ় হয়। ইহুদিখ্রিষ্টান প্রভাবিত শিক্ষাক্রম মুসলিম যুবকদের মূলধারা থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। অতএব, আহলে বাইতের (আ.) জীবনীসমূহ পড়ানো একান্ত প্রয়োজন

 

ফাতেমি জীবনধারার প্রধান দিকগুলো কী?

·         স্বামীর প্রতি সম্মান ও সহায়তা

·         সন্তানদের আদর্শিক ইসলামী শিক্ষা

·         নৈতিক দৃঢ়তা

·         অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান

হযরত যাহরার (সা.) শিক্ষায় গড়া সন্তানরাইইমাম হাসান, ইমাম হুসাইন (আ.), বীরঙ্গনা জয়নব (আ.)।

হায়াত লালাব বলেন:হযরত ফাতেমার (সা.) আলো কেয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের হৃদয়ে জ্বলে থাকবে। 4316272#

 

captcha