
ইকনা সূত্রে জানা যায়, হায়সম আলী তাবাতাবাই ৫ নভেম্বর ১৯৬৮ সালে বৈরুতের আল-বাশুরাহ অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন প্রতিষ্ঠার পরপরই তিনি এতে যোগ দেন এবং বিভিন্ন সামরিক ও কমান্ড প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নেন, বিশেষ করে ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবাননের মুক্তির আগে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অভিযানগুলোতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৯৩ ও ১৯৯৬ সালে ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময়েও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি নাবাতিয়া সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন এবং শেবার দখলকৃত খামার অঞ্চলের বারকাতুন-নাক্কার এলাকায় ইসরায়েলি সেনা আটক করার অভিযানের অন্যতম কমান্ডার ছিলেন।
২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি খিয়াম ফ্রন্টের কমান্ডার ছিলেন। ২০০৬ সালের জুলাই যুদ্ধেও তিনি খিয়াম সেক্টরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেন।
পরবর্তীতে তিনি ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনীর কমান্ডো ইউনিটের দায়িত্ব নেন এবং শহীদ ইমাদ মুগনিয়েহ’র শাহাদাতের পর ‘রিযওয়ান ফোর্স’ গঠনে এবং উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
তাবাতাবাই পূর্ব লেবানন সীমান্তে তাকফিরি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং নেতৃত্বদানকারী ছিলেন।
তিনি ২০২৪ সালের ‘ওলি আল-বাস’ সামরিক অভিযানের অন্যতম কমান্ডার ছিলেন এবং শাহাদাতের আগ পর্যন্ত হিযবুল্লাহর সামরিক কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
হিযবুল্লাহ রবিবার রাত (২ আজার ১৪০৪) এক সরকারি বিবৃতিতে তাদের প্রধান জিহাদি কমান্ডার হায়সম আলী তাবাতাবাই (সৈয়্যেদ আবু আলী)-এর শাহাদাতের সংবাদ জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি বিমান হামলায় বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের হারত হরিকে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
উল্লেখ্য, একই দিন বিকেলে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়া এলাকায় বিমান হামলা চালায়। 4318904#