
আন্তোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে গাজায় ইসরায়েলের নীতি কেবল সামরিক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তারা সচেতনভাবে ঐতিহাসিক চিহ্ন মুছে ফেলা, জাতিগত পরিচয় দুর্বল করা এবং ফিলিস্তিনিদের সমষ্টিগত স্মৃতি ধ্বংস করার দিকে দায়িত্বশীলভাবে অগ্রসর হয়েছে।
বর্তমানে মিরাস ও মনিটরিং ইনস্টিটিউটের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ওসমানীয় যুগের গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি ও দলিলসমূহ উদ্ধার-অপেক্ষায় আছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দখলদার ইসরায়েলি সরকার এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে যে, ফিলিস্তিনিরা নাকি কখনোই এই ভূমির অধিবাসী ছিল না। এই উদ্দেশ্যে তারা নগর ও গ্রামের নাম হিব্রুতে বদলে দেওয়া, ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস, প্রতীক, ভাষা ও আর্কাইভ নথিসমূহ আক্রমণ এবং পরিচ্ছন্নকরণ নীতির মাধ্যমে পরিচয় মুছে ফেলার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
গত দুই বছর ধরে চলমান এই বহুমুখী গণহত্যা আসলে ইসরায়েলের ৭৭ বছরের পুরনো নীতির এক নগ্ন প্রকাশ।
‘লক্ষ্য হলো— জানানো যে ফিলিস্তিনিদের কোনো উত্তরাধিকার নেই’
মিরাস মনিটরিং সেন্টারের মহাপরিচালক হানিন আল-আমাসি জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে ১৯৪৮ সালের আগে প্রকাশিত বিরল পাণ্ডুলিপি, বই ও দলিলপত্র সংরক্ষিত ছিল। তিনি বলেন:
“এটি প্রথম আক্রমণ নয়। ২০১৪ সালের হামলায়ও কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু এই যুদ্ধে কোনো মানুষ, কোনো ভবন, কোনো ইতিহাসই আর বেঁচে নেই। পুরো ওসমানীয় আর্কাইভ এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে। আমরা ক্ষতির সঠিক পরিমাণও জানি না।”
পশ্চিম তীরেও চলমান লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ
ইসরায়েল বিশেষজ্ঞ গবেষক ওয়ালিদ হাব্বাস জানান, ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইসরায়েলি ‘সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ মোট ৬০টি নির্দেশ জারি করেছে, যা ফিলিস্তিনের প্রত্নসম্পদ লুট ও দখলকে বৈধতা দেয়। এগুলো ইসরায়েলের সরকারি নথিতেই প্রকাশিত হয়েছে।
তার মতে, পশ্চিম তীরের মোট ৩২৬টি প্রত্নস্থানের মধ্যে ২১৬ থেকে ২২০টি স্থান দখলদার বাহিনী সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করে ফেলেছে। 4319341#