
ইকনা কর্তৃক ITV News–এর বরাতে জানা যায়, লেস্টারশায়ার পুলিশ ডি মন্টফোর্ট ইউনিভার্সিটির (De Montfort University) সঙ্গে যৌথভাবে এই বিশেষ হিজাব তৈরি কাজ শুরু করেছে।
নতুন হিজাবটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে নিচের অংশটি প্রয়োজনে দ্রুত খুলে যেতে পারে—বিশেষ করে সংঘর্ষ বা টানাটানির সময়—যাতে নিরাপত্তা বজায় থাকে। ডিজাইন প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে থাকা মুসলিম নারী কর্মকর্তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে, যাতে এটি আরামদায়ক ও ব্যবহার উপযোগী হয়।
লেস্টারশায়ার পুলিশ জানায়, এই উদ্যোগটি ইতোমধ্যে অন্যান্য সেবামূলক সংস্থারও আগ্রহ কেড়েছে এবং ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত খাতেও এটি ব্যবহার হতে পারে।
এই ধারণাটি প্রথম প্রস্তাব করেন লেস্টার পুলিশ বাহিনীর সদস্য ইয়াসিন দেসাই, প্রায় ২০ বছর আগে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন হিজাব ডিজাইন পর্যালোচনার পর তিনি ২০২২ সালে ডি মন্টফোর্ট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে মাঠপর্যায়ের দায়িত্বের জন্য উপযোগী একটি হিজাব তৈরিতে কাজ শুরু করেন।
দেসাই বলেন, “এটি সঠিকভাবে তৈরি করতে অনেক বছর সময় লেগেছে। আমরা কর্মরত নারী কর্মকর্তাদের ওপর যুদ্ধ–সদৃশ পরিস্থিতিতে পরীক্ষাও করেছি। নিচের অংশটি খুলে ফেলা যায়, কিন্তু পুরো হিজাব ঠিক থাকে—যে কোনও পরিস্থিতিতে।”
তিনি আরও বলেন, “তিন বছর গবেষণা ও উন্নয়ন কাজের পর এই নিরাপদ ও অত্যন্ত কার্যকর ডিজাইন তৈরি হওয়ায় আমরা গর্বিত। এটি মুসলিম নারীদের মর্যাদা রক্ষা করে।”
নতুন হিজাব ব্যবহারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নতুন পুলিশ সদস্য হাফসা আবা-গানা ও সেহর নাস। আবা-গানা বলেন, “এই উদ্যোগ মুসলিম নারী কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে যে তারা দায়িত্ব পালন ও ধর্মীয় অনুশীলন—উভয়ই একসঙ্গে বজায় রাখতে পারবেন। বিশেষ করে নতুন সদস্যদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অন্য মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তা মারিনা ভাকা জানান, “হিজাবটি আরামদায়ক, নিরাপদ এবং দেখতে সুন্দর ও পেশাদার—যা আরও বেশি মুসলিম নারীকে পুলিশের পেশায় আসতে উৎসাহিত করবে।” 4320946#