
ইকনা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন, আল-জাজিরা সূত্রে: নজমা খান আল-জাজিরাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমে ইসলামবিদ্বেষ এখন আর শুধু হিংসা বা উৎপীড়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি আরও বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে এবং মুসলিম নারীদের অধিকার রক্ষার নামে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করছে।
প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি পালিত বিশ্ব হিজাব দিবস উপলক্ষে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন: “যারা নারী অধিকারের নামে কথা বলে এবং বলে যে তারা মুসলিম নারীদের মুক্ত করতে চায়, তারাই আমাদের কণ্ঠ চুপ করিয়ে দিচ্ছে।”
তার মতে, এই ধরনের বক্তব্য পাবলিক স্পেসে বৈষম্যকে নতুন ও গ্রহণযোগ্য রূপে পুনরুৎপাদন করছে।
এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান মুসলিম নারী আরও বলেন, এই বৈষম্য শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকেই শুরু হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে মুসলিম শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বুলিং (উৎপীড়ন) অত্যন্ত উচ্চহারে দেখা যায়।
তিনি বলেন: “গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে বুলিংয়ের হার প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু মুসলিম শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ৬০ শতাংশে পৌঁছে যায়—অর্থাৎ তিনগুণেরও বেশি। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।”
নজমা খানের মতে, কেবল কথায় ক্লিশে ভাঙা সম্ভব নয়; বরং সরাসরি বোঝাপড়ার জন্য এমন স্থান তৈরি করতে হয় যেখানে মানুষ নিজে অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে।
এই চিন্তা থেকেই তিনি এমন একটি উদ্যোগের কথা ভাবেন যেখানে বিভিন্ন ধর্মের নারীরা মাত্র একদিনের জন্য হিজাব পরবেন। তিনি বলেন: “হয়তো এর মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারবে যে হিজাব মিডিয়ায় যেভাবে দেখানো হয়, তা নয়। আমরা বোমা লুকিয়ে রাখি না বা কিছু বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করি না।”
তিনি জানান, এই উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া তার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি ছিল। তিনি বলেন: “আমি পুরো বিশ্ব বদলাতে চাইনি; শুধু একজনের মনোভাব বদলাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই ৬৭টি দেশের নারীরা এতে সাড়া দিয়েছেন।”
নজমা খানের মতে, এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রভাব হচ্ছে জনমতের বক্তব্যে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসা। এখন স্কুল, কলেজ, কর্মক্ষেত্র এবং এমনকি কিছু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানও বিশ্ব হিজাব দিবসে অংশ নিচ্ছে—যা দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম নারীদের সঙ্গে যুক্ত নেতিবাচক বর্ণনাকে বদলে দিচ্ছে। 4332102#