
ইকনা নিউজের বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক টাইমস জানিয়েছে, তারা এমন এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে মানবপাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে মোসাদের সম্ভাব্য সম্পর্কের নানা দিক উঠে এসেছে।
নথিতে এমন ইমেইলের কথাও রয়েছে যেখানে ভারতীয়-আমেরিকান লেখক ও বিকল্প চিকিৎসাবিদ দীপক চোপড়া ২০১৭ সালে এপস্টেইনকে তেল আবিবে আসার আমন্ত্রণ জানায়।
একটি বার্তায় চোপড়া লেখেন, “আমাদের সঙ্গে ইসরায়েলে চলো। বিশ্রাম নাও, মজার মানুষের সঙ্গে সময় কাটাও। চাইলে ছদ্মনাম ব্যবহার করো। তোমার মেয়েদেরও নিয়ে এসো।”
তবে এপস্টেইন এতে অনীহা প্রকাশ করে জবাব দেন, “অন্য কোনো জায়গা। আমি ইসরায়েল পছন্দ করি না। একেবারেই না।”
টাইমস জানায়, কেন তিনি এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তা এখনও রহস্য। প্রকাশিত নথিগুলো ইসরায়েলি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ককে জটিল ও অস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এমন অভিযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে যে এপস্টেইন কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করত। বিশেষ করে এফবিআইয়ের এক গোপন সূত্র দাবি করেছে—ইসরায়েল সম্পর্কে প্রকাশ্য অপছন্দ থাকা সত্ত্বেও এপস্টেইন গোপনে মোসাদের জন্য কাজ করত।
এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস অফিসের ২০২০ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, “আমাদের সূত্র নিশ্চিত যে এপস্টেইন একজন মোসাদ এজেন্ট এবং তাকে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।”
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়, এপস্টেইন তার দীর্ঘদিনের আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিটজের মাধ্যমে মার্কিন ও মিত্র গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে ডারশোভিটজ এসব অভিযোগ হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি কর, এহুদ বারাকের সঙ্গে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করে না যে, সে মোসাদের গুপ্তচর ছিল।
২০১৮ সালে এক ইমেইলে এপস্টেইন বারাককে অনুরোধ করেন যেন তিনি স্পষ্ট করেন—এপস্টেইন মোসাদের হয়ে কাজ করত না।
নথিতে আরও জানা যায়, এপস্টেইন একটি ইসরায়েলি প্রযুক্তি স্টার্টআপে দেড় মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল এবং ইসরায়েল ভ্রমণের পরিকল্পনাও করত।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লিনেট নুসবাখার বলেন, “তার অর্থের উৎস নিয়ে বড় ধরনের রহস্য রয়েছে। তবে সে সরকারি গোয়েন্দা এজেন্ট ছিল—এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই।”
প্রতিবেদনে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের পরিবার সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। তার বাবা রবার্ট ম্যাক্সওয়েলকে বহুদিন ধরেই মোসাদের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হতো। ১৯৯১ সালে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয় এবং তাকে জেরুজালেমে দাফন করা হয়।
এপস্টেইনের কিছু ইমেইলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সে বিশ্বাস করত ম্যাক্সওয়েলকে মোসাদ হত্যা করেছে।
তবে টাইমস যেসব বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের অধিকাংশই বলেছে—এপস্টেইন বা ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে ইসরায়েলের শীর্ষ গোয়েন্দা মহলের প্রত্যক্ষ সম্পর্কের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
একজন অজ্ঞাতপরিচয় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলে যে, “মোসাদ কাকে নিয়োগ দেয়, তা কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না। যে কেউ গুপ্তচর হতে পারে।” 4333368#