IQNA

অস্ট্রেলিয়ান সিনেটরের ইসলাম ও কুরআনের প্রতি অপমান: ‘শর্তসাপেক্ষ’ ক্ষমাপ্রার্থনায় জনরোষ আরও বেড়েছে

14:45 - February 19, 2026
সংবাদ: 3478931
ইকনা- অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী সিনেটর পলিন হ্যানসন (Pauline Hanson) ইসলাম ও পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়ার পর ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়েছেন। তার ‘শর্তসাপেক্ষ’ ক্ষমাপ্রার্থনা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে।

ইকনা (আন্তর্জাতিক কুরআন সংবাদ সংস্থা)-এর প্রতিবেদন অনুসারে, আল-কুদস নিউজ (القدس) থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়:

হ্যানসন, যিনি ‘ওয়ান নেশন’ (One Nation) দলের নেত্রী, অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন যেন দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়। তিনি মিডিয়ায় দাবি করেছেন যে, কুরআনের আয়াতগুলো পশ্চিমা সমাজের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি শুধু ইসলাম ধর্মকেই আক্রমণ করেননি; প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন যে, অস্ট্রেলিয়ায় ‘ভালো মুসলিম’ বলে কেউ আছে কি না এবং তাদের নিয়ত কীভাবে যাচাই করা যাবে। এই বক্তব্যগুলো স্থানীয় মিডিয়ায় প্রচারিত হওয়ার পর দেশের জাতিগত বৈষম্যবিরোধী সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়ার জাতিগত বৈষম্যবিরোধী কমিশনার গিরিধরণ সিভারামান (Giridharan Sivaraman) এই সংকটে হস্তক্ষেপ করে সিনেটর হ্যানসনের কাছে অবিলম্বে আনুষ্ঠানিক ও নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন:

“এ ধরনের বক্তব্য সমগ্র একটি সম্প্রদায়কে অপমান করে, তাদের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এবং অভ্যন্তরীণ বিভেদকে আরও গভীর করে। সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি কোনো নাগরিক গোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করে বা তাদের আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে অর্জন করা যায় না। ঘৃণা ছড়ানো ভয়কে বাড়িয়ে দেয় এবং নাগরিক শান্তিকে বিপন্ন করে। প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের এর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় হ্যানসন আংশিকভাবে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে বলেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন ‘ভালো মুসলিম’ আছে। কিন্তু তার ক্ষমাপ্রার্থনা এতটাই শর্তসাপেক্ষ ও আপত্তিকর ছিল যে তা আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি ক্ষমা চেয়েছেন শুধুমাত্র সেই মুসলিমদের জন্য যারা শরিয়াহ অনুসরণ করে না বা বহুবিবাহে বিশ্বাসী নয়—যা পর্যবেক্ষকরা মানবাধিকারের দাবিকে এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল বলে মনে করেছেন।

এছাড়া তিনি তার ক্ষমাপ্রার্থনাকে ‘খিলাফতপন্থী’ বা গাজা থেকে আগত শরণার্থীদের বাদ দিয়ে সীমাবদ্ধ করেছেন, যা তার বিরুদ্ধে সমালোচনাকে আরও তীব্র করেছে। সমালোচকরা এই ‘শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা’কে অভিবাসী ও বিশেষ করে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রতি অব্যাহত জাতিগত বৈষম্যের প্রমাণ বলে অভিহিত করেছেন।

পলিন হ্যানসনের ‘ওয়ান নেশন’ দল ফেডারেল পার্লামেন্টে সীমিত প্রতিনিধিত্ব রাখে—একটি আসন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এবং চারটি আসন সিনেটে। এই ঘটনা ঘটছে যখন অস্ট্রেলিয়া ২০২৮ সালের মে মাসে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। 4335397#

captcha