IQNA

ইরাকি ক্বারির বক্তব্য: কুরআনের অপব্যবহার আল্লাহর শিক্ষার মূল ভাবনার পরিপন্থী

9:49 - April 27, 2026
সংবাদ: 3479088
ইকনা-ইরাকের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারি ওসামা কারবালাই বলেছেন, কুয়েতি ক্বারি মিশারি রাশেদ আল-আফাসির সাম্প্রতিক অবস্থান—যেখানে তিনি মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনকে সমর্থন করার মতো বক্তব্য দিয়েছেন—তা কুরআনের মৌলিক শিক্ষা ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইকনা’র বরাতে জানা যায়, আল-আফাসি সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি কুরআনের আয়াতের বিকৃত ব্যবহার করে ইরান ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এতে তিনি সূরা লাহাবের আয়াত পরিবর্তিতভাবে ব্যবহার করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, তিনি গাজায় ইসরায়েলি হামলা বা নিরপরাধ মানুষের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

এ প্রসঙ্গে ইকনা’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ওসামা কারবালাই বলেন, কুরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়; বরং এটি একটি নৈতিক ও সভ্যতাগত দিকনির্দেশনা। তিনি বলেন, “যে কুরআন নিপীড়িতদের পক্ষে দাঁড়াতে বলে, তা কখনোই এমন বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না, যা অন্যায়ের পক্ষে নৈতিক আবরণ তৈরি করে।”

ইরাকি ক্বারির বক্তব্য: কুরআনের অপব্যবহার আল্লাহর শিক্ষার মূল ভাবনার পরিপন্থী

ইরাকের আন্তর্জাতিক ক্বারি ওসামা কারবালাই কুয়েতি ক্বারি মিশারি রাশেদ আল-আফাসির সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, কুরআনের আয়াতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা আল্লাহর বাণীর প্রকৃত চেতনার পরিপন্থী। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক কুরআন সংবাদ সংস্থা (একনা) তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছে। নিচে প্রশ্নোত্তর আকারে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো:

ইকনার প্রশ্ন: আল-আফাসির সাম্প্রতিক অবস্থান কতটা সেই হাদিসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—“অনেক ক্বারি আছেন, যাদেরকে কুরআনই লানত করে”?

উত্তর: যখন একজন খ্যাতিমান ক্বারি নিজেকে এমন রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করেন, যা মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনকে ন্যায্যতা দেয়, অথবা এমন একটি ইসলামী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় যা দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য পরিচিত, তখন তা এই হাদিসের একটি বিপজ্জনক উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। কুরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়; এটি একটি নৈতিক ও সভ্যতাগত প্রকল্প। যে কুরআন নিপীড়িতদের সমর্থন ও জুলুমের বিরোধিতা করতে বলে, তা কখনোই এমন বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না, যা হত্যাকাণ্ড, অবরোধ ও আগ্রাসনের মতো অপরাধকে আড়াল করে।

প্রশ্ন: আল-আফাসির এ ধরনের নেতিবাচক চিন্তা ও বিশ্বাস মুসলিম বিশ্বের জনমতের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে?

উত্তর: মিশারি আল-আফাসির ঝুঁকি এখানেই যে তিনি কেবল একজন সাধারণ ক্বারি নন; বরং তিনি মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি। ফলে তার বক্তব্য ব্যক্তিগত সীমার বাইরে গিয়ে বৃহত্তর সমাজে প্রভাব ফেলে। এ ধরনের মতাদর্শ, যা ঐতিহাসিকভাবে আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি বিরূপ মনোভাবের সঙ্গে যুক্ত, মুসলিম সমাজে বিভাজনকে আরও উসকে দেয়।

প্রশ্ন: এ ধরনের বিচ্যুতির মোকাবিলায় কুরআনকর্মী, ক্বারি, হাফেজ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের দায়িত্ব কী?

উত্তর: প্রথম দায়িত্ব হলো—এটা স্পষ্ট করা যে কুরআন শুধু সুন্দর তিলাওয়াতের বিষয় নয়। একজন প্রকৃত ক্বারি সেই ব্যক্তি, যার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান কুরআনের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তাদের উচিত জিহাদ, প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচারের আয়াতগুলোও মানুষের সামনে তুলে ধরা।

প্রশ্ন: কুরআনের প্রকৃত জ্ঞান থেকে উপকৃত হওয়া এবং এ ধরনের বিচ্যুতি এড়াতে কী করা উচিত?

উত্তর: আমাদের উচিত কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তোলা—শুধু সুন্দর কণ্ঠের ভিত্তিতে নয়, বরং চিন্তা, বোঝাপড়া ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে। সমাজ এমন ক্বারি চায়, যিনি শুধু কুরআন তিলাওয়াত করেন না; বরং নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করেন এবং এর আয়াতকে কাজের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেন।

4348463

captcha