ইকনা জানায়, আনাদোলুর বরাত দিয়ে, ইংল্যান্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে গড়ে প্রতি পাঁচ দিনে একবার মসজিদে হামলা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারকে লক্ষ্য করে ২৭টি হামলার নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ব্রিটিশ মুসলিম ফাউন্ডেশন ‘এক বিভেদমূলক গ্রীষ্ম: দেশজুড়ে ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণা বাড়ছে’ শিরোনামে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে নির্ধারিত সময়ে ইংল্যান্ডের মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারকে লক্ষ্য করে ঘৃণাপ্রসূত ২৭টি হামলার বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই হামলাগুলোয় সরাসরি ২৫টি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এগুলো ২৩টি শহর ও কাউন্টিতে ঘটেছে। ওয়িরাল, এপসম ও ওয়াটফোর্ড এলাকায় মসজিদে বারবার বা একযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হামলার ৪১ শতাংশে ক্রুশ, সেন্ট জর্জের পতাকাসহ অন্যান্য খ্রিস্টীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল ‘ভয় দেখানো’।
প্রতিবেদন অনুসারে, হামলার ২৬ শতাংশ ছিল সহিংস, যার মধ্যে কাচ ভাঙা, আক্রমণ ও ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচ্য সময়ে হামলাগুলো ব্যক্তিগত ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে শুরু করে সমন্বিত হামলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যার মধ্যে ভয় দেখানো, প্রতীকী সহিংসতা, ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগ বৃদ্ধি এবং বারবার লক্ষ্যবস্তু করা অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে যে, অনেক মুসলিম এই ঘটনাগুলোকে আকস্মিক ধ্বংসাত্মক কাজ বা বৈধ দেশপ্রেমের প্রকাশ হিসেবে দেখেন না; বরং তারা এগুলোকে হয়রানি, আগ্রাসন এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ব্রিটিশ সমাজের অংশ হিসেবে তাদের অন্তর্ভুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা বলে মনে করেন।
প্রতিবেদনে পুলিশ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ ও কমিউনিটিকে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দেওয়া হয়, মসজিদের বিরুদ্ধে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধের জন্য দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়ানো হয়। 4366760