IQNA

শহীদ নেতার কৌশলগত ভূমিকায় কুরআনী কার্যক্রমের অবকাঠামো উন্নয়ন

14:16 - July 29, 2026
সংবাদ: 3479541
আন্তর্জাতিক কারীর ব্যাখ্যা: শহীদ নেতার কৌশলগত ভূমিকায় কুরআনী কার্যক্রমের অবকাঠামো উন্নয়ন
ইকনা’র প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কারী হামেদ ভালিজাদেহ বলেছেন, যদি আজ ইরান ইসলামী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কুরআনী দেশ হয়ে উঠেছে, তাহলে তা শহীদ নেতার গভীর ও ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ফল।

ইরানের সমসাময়িক ইতিহাসের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহুল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর মতো কেউ রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব এবং কুরআনী সংস্কৃতি প্রচার — উভয় ক্ষেত্রে এত স্থায়ী ভূমিকা রাখেননি। বিপ্লবের আগে থেকেই কুরআনী মজলিসে নিয়মিত উপস্থিতি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম কারী ও হাফেজ তৈরি, বিশেষায়িত কুরআনী প্রতিষ্ঠান গঠনে সহায়তা এবং কুরআনের ধারণাকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রবাহিত করার উপর জোর — এগুলো তাঁর অবদানের অংশমাত্র।

হামেদ ভালিজাদেহ ইকনার সাথে এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, শহীদ নেতা শুধু কুরআনী কার্যক্রমের সমর্থক ছিলেন না, বরং ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রে নতুন কুরআনী ধারার স্থপতি ছিলেন। আজ হাজার হাজার কুরআনী কর্মী তৈরি এবং দেশের কুরআনী বাস্তুতন্ত্র গঠনের মধ্যে তার ফল দেখা যাচ্ছে।

মাশহাদের কুরআনী মজলিস: একটি স্থায়ী ধারার সূচনা

ভালিজাদেহ বলেন, শহীদ নেতা মাশহাদে যে কুরআনী হালকা গঠন করেছিলেন, পরবর্তীতে তা দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কুরআনী ধারার ভিত্তি হয়ে ওঠে। মাশহাদ কারীদের সংগঠনের শিকড় এবং আজকের অনেক কুরআনী প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের পরিচয় ও বন্ধুত্ব সেই মজলিসগুলো থেকেই শুরু। তাঁর যৌবনের তিলাওয়াতগুলোও দেখায় যে, তিনি তিলাওয়াতের শিল্পে দক্ষ ছিলেন।

কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিষ্ঠান গঠন

তিনি বলেন, সুপ্রিম কুরআন কাউন্সিল, কুরআন রেডিও এবং অন্যান্য বিশেষায়িত কাঠামো গঠন ও শক্তিশালীকরণ তাঁর ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ফল। অনেক দেশে কুরআনী কার্যক্রম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে, কিন্তু ইরানে শহীদ নেতার নির্দেশনায় তা সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত হয়েছে।

পরিমাণগত ও গুণগত উন্নয়নের দাবি

শহীদ নেতা একসাথে দুটি পন্থা অনুসরণ করেছেন — কুরআনী সমাজের পরিমাণগত সম্প্রসারণ এবং গুণগত উন্নয়ন। ১ কোটি হাফেজ তৈরির দাবি শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং সমাজের বড় অংশকে কুরআনের সাথে পরিচিত করার দৃষ্টিভঙ্গি। পাশাপাশি তিনি “অর্থকেন্দ্রিক তিলাওয়াত”, উস্তাদ মুস্তফা ইসমাইলের পদ্ধতি এবং ইরানি তিলাওয়াত শৈলী গঠনের উপর জোর দিয়েছেন।

প্রধান উদ্বেগ: কুরআনকে চিন্তা ও জীবনধারার ভিত্তি করা

ভালিজাদেহ বলেন, শহীদ নেতার প্রধান উদ্বেগ ছিল কুরআনের প্রতি শুধু বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি অতিক্রম করা। তিনি সবসময় বলতেন, কুরআনকে শুধু তিলাওয়াত বা ওয়াজের বই মনে করা যাবে না, বরং তা জীবনের কেন্দ্রে আনতে হবে এবং চিন্তা ও বিশ্লেষণের পদ্ধতি কুরআনের শিক্ষার উপর ভিত্তি করে গড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ নেতা “আত্মনির্মাণ” এবং “কুরআনের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক” — এই দুটি বিষয়ের উপর সবসময় জোর দিতেন। আত্মনির্মাণ শুধু রমজান মাসে সীমাবদ্ধ নয়, বছরজুড়ে চলতে হবে এবং সামাজিক প্রভাবও রাখতে হবে। কুরআনকে মানুষের সবচেয়ে ভালো সঙ্গী বানাতে হবে।

বিপ্লবের বড় অর্জন: কুরআনী বিশেষজ্ঞদের প্রজন্ম

ভালিজাদেহ বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অন্যতম বড় অর্জন হলো তিলাওয়াত, হিফজ, তাফসির, গবেষণা ও কুরআনী শিল্পে বড় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ তৈরি। বিপ্লবের আগে এত ব্যাপকতা ছিল না। সুপ্রিম কুরআন কাউন্সিল, দারুল কুরআন সংস্থা, কুরআন রেডিও এবং আন্তর্জাতিক কুরআন সংবাদ সংস্থা (ইকনা) — সবই শহীদ নেতার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে।

তিনি শেষে বলেন: “আজ ইরানে কুরআনের ক্ষেত্রে যেকোনো সাফল্য দেখা যায়, তার শিকড় শহীদ নেতার গভীর, কৌশলগত ও ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে নিহিত।”4366821#

captcha