ইকনা’র প্রতিবেদন: জার্মানির ক্ষমতাসীন খ্রিস্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ ইউরগেন হার্ট ইসরাইলি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের অমানবিক মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন।
শাহাব নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, হার্ট বলেছেন, গাজা উপত্যকায় হামলা তীব্রতর করা এবং কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের হত্যার বিষয়ে বেন-গভিরের মন্তব্যের পর এই দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের মন্তব্য নিন্দনীয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত এর জবাবে বেন-গভিরকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা।
এর আগে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গাজার বৈশ্বিক সংহতি নৌবহরের কর্মীদের সাথে বেন-গভিরের অসদাচরণের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ইইউ নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানিয়েছেন।
পরবর্তীতে ফ্রান্স ও স্পেনও ইতালির এই উদ্যোগে যোগ দেয়। এই তিন দেশ কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে বেন-গভির ও অন্যান্য ইসরাইলি মন্ত্রীদের ২৭ সদস্যরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা এবং ইইউতে তাদের আর্থিক সম্পদ জব্দ করা অন্তর্ভুক্ত।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউরোপীয় নেতারা এবং এমনকি ইসরাইলি শাসন নিজেও বেন-গভিরকে একটি ‘বিশেষ ব্যক্তি’ হিসেবে তুলে ধরছে। এর উদ্দেশ্য হলো এমন ধারণা দেওয়া যে, ইসরাইলের মানবাধিকার লঙ্ঘন পদ্ধতিগত বা ব্যাপক নয়। তারা ভালোভাবে জানে যে, এই লঙ্ঘনগুলোকে পদ্ধতিগত ও ব্যাপক হিসেবে স্বীকার করা মানে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ স্বীকার করার সমান। তাই শুধু ‘একজন ব্যক্তি’কে প্রকাশ্যে নিন্দা করা, শুধু ‘একজন ব্যক্তি’র বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া এবং শুধু ‘একজন ব্যক্তি’র কাজের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে তারা দখলদার শাসনকে সবচেয়ে গুরুতর আইনি অভিযোগ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
বাস্তবে এই নিন্দাগুলো মানবাধিকার অগ্রগতির জন্য নয়, বরং একটি মৌলিক সমস্যা লুকানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। 4370433#