গত কয়েক সপ্তাহে মুসলিম বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য ইক্বনার আন্তর্জাতিক ডেস্ক বেশ কিছু মুসলিম চিন্তাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। চিন্তাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা যা বলেছেন এখানে এর কিছু দিক উল্লেখ করা হলো।
হুজ্জাতুল ইসলাম মেইসাম আল ফারিজি, যিনি আয়াতুল্লাহ উযমা মোহাম্মাদ আল ইয়াকুবীর দপ্তরের পরিচালক তিনি বিশ্বাস করেন যে ইসলামী সংবাদ মাধ্যমগুলো কোরআনের বাণী প্রচারের চাইতে ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে বেশী নিয়োজিত আছে। তিনি বলেন, কোরআনের বাণী সম্প্রচারের কথা বলে আমি এটা বুঝাতে চচ্ছিনা যে তাদের উচিত কোরআন তেলাওয়াত এর পঠন পদ্ধতি এবং কোরআনের আয়াতের তাফসীর নিয়ে ব্যস্ত হবে। বরং দীর্ঘ মেয়াদী কৌশল এবং পদ্ধতিকে হতে হবে কোরআনের শিক্ষা ও নীতির উপর ভিত্তি করে যেভাবে কোরআনে তা রয়েছে।
সিরিয়ার প্রকাশকদের সমিতির প্রধান আদনান সালেম বলেছেন, ইসলামী সংবাদমাধ্যমগুলো পশ্চিমা সাংস্কৃতির আগ্রাসন ঠেকাতেই শুধু ব্যর্থ হয়নি বরং তারা প্রকৃতপক্ষে তাদের সংস্কৃতির প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছে।
ফিনল্যান্ডের ফাতেমাতুয যাহরা ইসলামিক সেন্টারের উপপ্রধান জনাব হায়দার আল হেলু জনাব সালেমের সাথে একমত। তিনি বলেন, বেশীরভাগ ইসলামী সংবাদ মাধ্যম কিছু বছর হলো যাত্রা শুরু করেছে এবং তাই গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য তাদের আরও কিছু পথ অতিক্রম করতে হবে। আর এ কারণে তাদের বেশীর ভাগেরই প্রোগ্রামগুলো পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলোর অনুকরণ মাত্র।
মিশরের আল আকসার সাপ্তাহিক সংখ্যার ধর্মীয় ডেস্কের এডিটর আমিনেহ মাজেদ বলেছেন, ইসলামী দেশগুলোর বিশেষ সম্ভাবনা এবং ক্ষমতা আছে কোরআনে ও ইসলামী সংস্কৃতি প্রচারের ক্ষেত্রে। কিন্তু যা তাদের অভাব রয়েছে তা হলো একটি ঐক্যবদ্ধ ও সুষ্ঠু কৌশলের। তাদের এই কৌশলের অভাব ইসলামি বিশ্বে ও সারা বিশ্বে ইসলামি সংস্কৃতি বিকাশ তাদেরকে অকার্যকর করেছে।
ইয়েমেনের একজন সাংবাদিক নাসের শারীফ তার মত প্রকাশ করে বলেছেন, ইসলামী সংবাদ মাধ্যমগুলো শুধু তাদের নিজস্ব বিশ্বাসগুলো তুলো ধরে অন্যান্য দল ও মাযহাবের মতামতকে অসম্মান করে। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা ঐক্যের জন্য ও বিভিন্ন মাযহাবের মধ্যে সমপ্রীতির জন্য ক্ষতিকর।
কুয়েতের দৈনিক আল নাহারের চীফ এডিটর বিশ্বাস করেন যে মুসলিম সংবাদ মাধ্যমগুলোর ঐতিহাসিক দায়িত্ব হচ্ছে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সহনশীলতার উৎকর্ষ ঘটানো।