IQNA

সংবাদ মাধ্যমে ধর্মের পবিত্রতা ক্ষুণ্নকারী বিষয়ের মোকাবিলায় নবী (সা.) এর উদাহরণ অনুসরণ করা উচিত

21:51 - March 27, 2008
সংবাদ: 1639094
মিডিয়াতে ব্লাসফেমীর জন্য সব মুসলিমের উচিত মুহাম্মাদ (সা.) এর উদাহরণ অনুসরণ করা, বলেছেন একজন আমেরিকান নও মুসলিম।
ইক্বনার সাথে সাক্ষাতকারে নও মুসলিম সুমাইয়া মিহ্যান ইসলাম ও মুসলিমদের বর্তমান ইস্যুগুলো নিয়ে ইক্বনার কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন।

ইক্বনা: আপনি জানেন গার্ট উইল্ডার্স, একজন ডানপন্থী ডাচ রাজনীতিক। কিছুদিন আগে তার দেশে ও মুসলিম বিশ্বে হইচই-এর সৃষ্টি করেছেন একটি কোরআন বিরোধী ছবি বানিয়ে। যা সে বলছে এ সপ্তাহে প্রচার করা হবে। উইল্ডার্স ও তার সমর্থকরা বলেছে বাক স্বাধীনতার কথা যা তারা একটি অজুহাত হিসেবে দেখাচ্ছে ছবিটি প্রচারের বিষয়ে। যা নিঃসন্দেহে শত কোটির উপরে মুসলিমদের অনুভুতিকে আঘাত করবে। এই একই অজুহাতে কিছু ড্যানিশ সংবাদপত্র নবী (সা.) এর উপর ব্লাসফেমাস কার্টুন নতুন করে আবার ছাপিয়েছে। এগুলো কি যুক্তিযুক্ত?

মিস মিহ্যান: অবশ্যই মুহাম্মদ (সা.) কে অপমান করার কোন যুক্তি থাকতে পারে না যিনি আল্লাহর প্রেরিত শ্রেষ্ঠ নবীদের একজন।
'বাকস্বাধীনতা' শব্দটি ব্যবহার করে তারা ইসলামের ইমেজ নষ্ট করতে চায় এবং মুসলিমদের সর্বক্ষণ বিদ্রূপ করতে চায়। নয়তো আর কী কারণে ড্যানিশ পত্রিকাগুলো তা বারবার ছাপবে? আমরা মুসা ও ঈসা (আ.) এর উপর বিদ্রূপাত্মক কার্টুন দেখতে পাইনা কোন খস্টান ও ইহুদী সংবাদপত্রগুলোতে। ইসলাম ধর্ম সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে পৃথিবীতে এবং এর একটি নিজস্ব শক্তি আছে। ইসলামের শত্রুরা যে কোন উপায়ে গীর্জাগুলোতে তাদের আসন ধরে রাখতে চাইবে। উদাহরণ স্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রে খৃস্টান ধর্মপ্রচারক গ্রোসারী শপে মানুষদেরকে উৎসাহিত করতে যায় খৃস্টান ধর্মে ফেরত আসার জন্যে। আমি মনে করি অনেক মানুষ তাদের জন্মগত ধর্ম ছেড়ে দিচ্ছে কারণ তারা মিথ্যাকে আর সমর্থন দিতে চায়না যা তাদের ধর্মে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই বিশেষ করে আমি ক্যাথলিক খস্টান ধর্ম ছেড়ে দিয়ে ইসলাম বেছে নিয়েছি। মিথ্যা থেকে সত্য স্পষ্টই আলাদা।

গার্ট উইল্ডার্স পরিষ্কারভাবে ইসলাম ও মুসলিমকে ঘৃণা করে। সে চায় বাকী বিশ্ব তার সাথে যোগ দিক। তার কৌশল বাক স্বাধীনতা নয় বরং হানাহানি উস্কে দেয়ার স্বাধীনতা যেন তারা বলতে পারে ইসলাম একটি হিংসাত্মক ধর্ম।

ইক্বনা: আপনি কী মনে করেন যে মুসলিমদের কীভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত। কেউ কেউ বলে মুসলিমদের উচিত শান্ত থাকা কারণ তার লক্ষ্যই হচ্ছে মুসলিমরা হিংসাত্মক আন্দোলন করুক যেন তারা বলতে পারে ইসলাম একটি হিংসাত্মক ধর্ম। আবার অন্যদিকে কিছু মুসলিশ জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন চুপ করে থাকলে তা তাদেরকে আরও সাহসী করে তুলবে।

মিস মিহ্যান: আমি মনে করি সব মুসলিমের উচিত মুহাম্মাদ (সা.) এর উদাহরণ অনুসরণ করা। তিনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। তাকে প্রকাশ্যে বিদ্রুপ করা হতো, মারা হতো, অপমান করা হতো তার প্রচার কাজের সময়, এমনকি তার শত্রুরা ময়লা ও পশুর বিষ্টা তার দিকে ছুড়ে দিতো। কিন্তু তিনি ছিলেন শান্তিপূর্ণ এবং তা সহ্য করেছেন।

ইসলাম বিরোধীরা মিডিয়াতে মুসলিমদের দেখায় তারা একদল রক্তপিপাসু অসভ্য প্রাণী। যদি আমরা জানি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলিমদেরকে পবিত্রতায়, ব্যবহারে ও বিশ্বাসে সর্বোচ্চ স্তরে উঠিয়েছেন। মুসলিমরা পতাকা পোড়াচ্ছে এবং সম্পদের ক্ষতি করছে এমন ভিডিও ফুটেজ বিরাট খরব হয়ে আসবে। আমাদের শত্রুরা চাচ্ছে আমরা রাগ হয়ে তার প্রতিবাদ করি। যেন তারা আমাদের সম্পর্কে যা বলে তা সত্যের মতো দেখা যায়।
captcha