Ar.trend.az ওয়েব সাইটের বরাত দিয়ে ইরানের কোরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে: যদিও মুসলিম বিশ্বের মধ্যমপন্থী নেতারা বিশেষ করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আলেমগণ, বেশ কয়েক বছর ধরে মুসলিম মাযহাবসমূহের মাঝে বিদ্যমান ঝগড়া বিবাদ ও মতানৈক্য দূর করে ঐক্য ও সংহতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন, তা সত্ত্বেও মিসরের আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান আহমাদ তাইয়্যেব ২রা মে বিকেলে আল আরবিয়্যাহ স্যাটেলাইট চ্যানেলের (যা সৌদি ওয়াহাবীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়) এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দাবী করেছেন যে, যেভাবে ইরান সেদেশে সুন্নি মাযহাবের প্রচার ও প্রসারের পথরোধ করে, আল আযহারও অন্য সকল ইসলামী দেশে শিয়া মাযহাবের প্রচার ও প্রসারের পথরোধ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে (!)
তিনি আরো দাবী করেছেন যে, ইরানের বেশ কিছু উলামার সাথে তারা অন্যান্য দেশে শিয়া মাযহাব প্রচার করবে না এবং আমারাও ইরানে সুন্নি মাযহাবের প্রচার করবো না এ ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছেছি।
আল আযহারের নতুন মুফতি, মিসরে শিয়া ছাত্রদের সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মসূচী অকার্যকর করতে আল আযহারের সতর্কতার কথা উল্লেখ করে বলেন: আমরা চাই না যে, সুন্নি যুবকরা ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের অজান্তে নিজেদের পূর্বের মাযহাব পরিবর্তন করে শিয়া মাযহাবের অনুসারী হয়ে যাক। অতঃপর একটি পরিষদ গঠন করুক এবং তা হতে একটি শিয়া কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করুক। এর ফলে যুদ্ধ বিগ্রহের সৃষ্টি হবে।
তাইয়্যেব আরো জানান: শিয়াদের সাথে চিন্তাগত বিষয়ে কাছাকাছি আসার বিষয়টি যা আল আযহারের প্রাক্তন মুফতি মাহমুদ শালতুতের যুগ হতে চলে আসছে, আমরা অব্যাহত রাখবো। আর আমাদের মাঝে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও সংলাপ আমাদের মাঝে বিদ্যমান মতানৈক্যকে কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু তিনি এ সাক্ষাতকারের একাংশে এ ধরনের মতৈক্য শুধুমাত্র চিন্তাগত এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে হবে বলে গুরুত্বারোপ করেন এবং আল আযহারে শিয়া ছাত্রদেরকে সুন্নি মাযহাব সম্পর্কে পরিচিত লাভের সুযোগ করে দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য যে, আহমাদ আত তাইয়্যেব ১৯শে মার্চ মিসরের প্রেসিডেন্ট হুসনী মোবারকের নির্দেশে আল আযহারের নতুন মুফতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। আর যেহেতু আল আযহারের মুফতি সেদেশের সরকারের মাধ্যমে মনোনীত হন তাই এটা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা যায় যে, আল আযহারের মুফতির সকল মতামত ও নীতি মিসরের সরকারের নীতি ও স্বার্থের সাথে সম্পৃক্ত। আর আল আযহারের নতুন মুফতি; আহমাদ তাইয়্যেব, প্রাক্তন মুফতি (গাজার চারপাশে দেয়াল তৈরীর বৈধতা দিয়ে ফতোয়া দানকারী মুফতি) মুহাম্মাদ সাইয়্যেদ তানতাভীর পদাংক অনুসরণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বলাবাহুল্য যে, আল আযহারে উগ্র ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের প্রভাবে প্রভাবান্বিত। যদিও আল আযহারের মুফতি বাহ্যিকভাবে এবং সাধারণ জনগণের সম্মুখে ওয়াহাবীদের উগ্রতা ও বাড়াবাড়ির বিরোধীতা করেন। কিন্তু আহলে সুন্নাতের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় কেন্দ্রটি উগ্র ওয়াহাবী ওলামাদের হাতের মুঠোয় বন্দী। তারা ঐক্য ও সংহতির পক্ষে আহ্বান না জানিয়ে মাযহাবগত ঝগড়া বিবাদকে আরো উস্কে দেয় এবং মুসলিম মাযহাবসমূহের মাঝে ব্যাপকভাবে মতানৈক্য সৃষ্টির জন্য সদা সচেষ্ট। #556821