IQNA

সিরিয়ার শিয়া অধ্যুষিত দু’টি শহরকে ঘিরে রেখেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা

8:51 - September 14, 2012
সংবাদ: 2410856
আন্তর্জাতিক বিভাগ : সিরিয়ার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা –যাদের অধিকাংশই সালাফী এবং ওয়াহাবী চিন্তাধারার অধিকারী- হালাব অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী দু’টি শিয়া অধ্যুষিত শহরকে ঘিরে সেখানে যেকোন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
আল-আলাম –এর ওয়েব সাইটের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট : হালাব অঞ্চলের নিকটে অবস্থিত ‘যাহরা’ ও ‘নাবাল’ নামক দু’টি শিয়া অধ্যুষিত শহরকে ঘিরে রেখেছে সন্ত্রাসীরা। যদিও বাহ্যিকভাবে গোত্র ভিত্তিক দ্বন্দের কারণে তাদেরকে অবরোধ করে রাখা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে এ দু’টি শহর তুরস্কের সীমান্তের পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
সন্ত্রাসীদের কর্তৃক সৃষ্ট এ অবরোধে পড়ে ২ শহরের বাসিন্দারা প্রচন্ড খাদ্য সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
যাহরা ও নাবাল শহর দু’টি হালাব হতে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং তুরস্কে সীমান্তে প্রবেশের পথ ‘বাবুস সালামাহ’ হতে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।
এ শহর দু’টির পূর্ব, দক্ষিন ও উত্তরে বেশ কয়েকটি সুন্নি অধ্যুষিত গ্রাম রয়েছে, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঐ সকল গ্রামগুলোতে আস্তানা স্থাপন করেছে। এছাড়া এর পশ্চিমে কুর্দিদের কয়েকটি গ্রাম রয়েছে যেগুলো কুর্দি লেবারস পার্টির নিয়ন্ত্রণাধীন।
এ দু’টি শহরের মোট বাসিন্দা ৬০ হাজার; যাদের সকলেই শিয়া মাযহাবের অনুসারী। সিরিয়ায় সৃষ্ট বিশৃংখলা কারণে অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রায় ১৫ হাজার লোক এ শহরে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া আশেপাশের অনেক সুন্নি অঞ্চলের সুন্নিরা সন্ত্রাসীদের নির্দেশকে অমান্য করায় চাপের মুখে পড়ে এ দু’টি শহরে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে এ শহরে প্রায় ৮০ হাজার লোক বসবাস করছে।
ইদলিব অঞ্চলে সৃষ্ট বিপর্যয়ের পর ‘ফাওয়াহ’ ও ‘কাফরিয়া’ অঞ্চলদ্বয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়। এরপর হালাবে বিপর্যয় দেখা দিলে জুলাই মাসে ‘যাহরা’ ও ‘নাবাল’ শহরেও অবরোধ সৃষ্টি করে সন্ত্রাসীরা। আর তারা এ অবরোধের পেছনে যে ওজুহাত দেখাচ্ছে করছে তা হল : যেহেতু এ অঞ্চল দু’টির জনগণ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও লেবানন হিজবুল্লাহ কর্তৃক সাহায্য প্রাপ্ত হয় এ কারণে এ দু’টি অঞ্চলে অবরোধের সৃষ্টি করা হয়েছে।
সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা যাহরা ও নাবাল অঞ্চলের দিকে আগত সকল রাস্তায় অবস্থান নিয়ে এ অঞ্চলে যাতায়াত পরিপূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত যে কেউই এ পথ দিয়ে উক্ত শহর হতে বের হওয়ার বা প্রবেশ করার চেষ্টা করেছে সে নিহত অথবা অপহৃত হয়েছে। অবশ্য অবরোধের শুরুর দিকে সন্ত্রাসীরা গুরুতর অসুস্থ রোগীদেরকে মাথাপিছু ৪০০ ডলার গ্রহণের বিনিময়ে হালাবের কোন ক্লিনিক বা হাসপাতালে পৌঁছে দিত, এ সপ্তাহ যাবত এ কাজ চালু রাখার পর আবার তা বন্ধ করে দেয়।
বর্তমানে এ দুই শহরের জনগণ সন্ত্রাসীদের কর্তৃক অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবন-যাপন করছে। আর যারাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ শহর দু’টিতে কোনকিছু প্রেরণের চেষ্টা করেছে তাদেরকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সৃষ্ট অবরোধের কারণে ঐ দুই শহরের জনগণ বর্তমানে ব্যাপক খাদ্যাভাবে ভুগছে। কেননা রুটি তৈরীর জন্য প্রাথমিক উপকরণের স্বল্পতার কারণে রুটি বা অন্য কোন খাদ্যও তৈরী করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ঔষধসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য বর্তমানে শহর দু’টিতে দূর্লভ হয়ে উঠেছে।
খাদ্যাভাব ও দূর্যোগ ছাড়াও প্রতিদিনই এ দুই অঞ্চলের বাসিন্দারা সন্ত্রাসীদের হুমকির শিকার হচ্ছে এবং যে কোন মুহূর্তে তাদেরকে ঐ দুই শহর হতে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।#
captcha