কোরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা ইকনা’র রিপোর্ট: দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও অগ্নি সংযোগের খবর পাওয়া গেছে । কোথাও কোথাও পুলিশের পাশপাশি ছাত্রলীগের ক্যাডাররাও রাস্তায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধা দিতে এগিয়ে এসেছে ।
রাজধানীর মালিবাগ রেল গেইট এলাকায় আজ (মঙ্গলবার) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জামায়াত কর্মীদের মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। আধা ঘন্টা ব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষস্থল থেকে পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
উত্তরের বিভাগীয় শহর রংপুরে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিবির কর্মীরা একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বোমা বিস্ফোরণে রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এরপর পুলিশ ও র্যায়ব তাদের শক্তি বাড়িয়ে শিবির কর্মীদের ওপর টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় শিবির কর্মীরা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, সরকার সমর্থকরা জামায়াতে ইসলামীর অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং আগুন লাগিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ওদিকে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা দুপুর ১টার দিকে কাজিরদেউরি এলাকায় একটি ঝটিকা মিছিল বের করে । মিছিলটি জামালখানে পৌঁছালে পুলিশ বাঁধা দেয়। এ সময় মিছিলকারীরা পুলিশের ওপর হামলা এবং ছত্রভঙ্গ হওয়ার পথে ছয়টি গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে।
বিভাগীয় শহর সিলেটেও পুলিশ ও শিবির কর্মীদের মধ্যে এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে । নগরীর জিন্দাবাজারে সংঘর্ষের সময় পুলিশের সহকারী কমিশনারসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানান, কোর্ট পয়েন্ট এলাকা থেকে শিবির কর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে জিন্দাবাজারের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাঁধা দেয়। এতে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ এবং বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে ।
বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় মঙ্গলবারও পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জামায়াত-শিবিরের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ৭২ জনকে।
ওদিকে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে সাত মাথায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। এ সমাবেশ শেষ হলে ছাত্রলীগের কর্মীরা স্থানীয় জামায়াত ইসলামীর প্রধান কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে রাজবাড়ী শহরে মিছিলের প্রস্তুতি নেবার সময় শিবিরের ৯ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সোমবার মধ্যে রাতে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. ফজলুল হকসহ ৬ জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে । সুত্র:রেডিও তেহরান