IQNA

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়ার আহ্বান জাতিসঙ্ঘের

22:43 - November 11, 2012
সংবাদ: 2446485
আন্তর্জাতিক বিভাগ : রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই।
dailynayadiganta এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট : গত শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে ডেমোক্র্যাসি ফোরামের এক অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান পিল্লাই। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে গত কয়েক মাসের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় ২০০ লোক নিহত ও লক্ষাধিক লোক আশ্রয়হীন হয়েছেন যাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা মুসলমান। মুসলিমবিরোধী এই ভয়াবহ দাঙ্গার পরই নাভি পিল্লাই মিয়ানমারের প্রতি এই আহ্বান জানালেন।
রোহিঙ্গা মুসলমানেরা যুগ যুগ ধরে মিয়ানমারের সাবেক আরাকান ও বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু তাদের কখনোই নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি। ফলে রোহিঙ্গারা রাষ্ট্রহীন এক জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমার সরকার ও একশ্রেণীর বৌদ্ধ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আগত জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। সে কারণে রোহিঙ্গাদের আইনি বৈধতা দেয়া হয়নি কখনোই। আরাকানের বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। এবারের দাঙ্গা শুরু হয়েছে গত জুন মাস থেকে। এবারের দাঙ্গায় হাজার হাজার রোহিঙ্গার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে তারা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
রোহিঙ্গাদের এই অমানবিক জীবন যাপনের বিষয়টি বিবেচনা করেই তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই। তিনি মিয়ানমারের বিরাজমান আইনের পরিবর্তন করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান ও এই জনগোষ্ঠীকে দেশটির চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব আইনের পরিবর্তন এমনভাবে করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারাও বৌদ্ধদের মতো নাগরিকত্বের সমমর্যাদা পায়। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বৌদ্ধ-মুসলমান দাঙ্গা মিয়ানমারের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সরকার সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণ ও জাতীয় সমঝোতার যে চেষ্টা চালাচ্ছে তা অবশ্যই বাধাগ্রস্ত হবে যদি সাম্প্রদায়িক সঙ্ঘাতের নিরসন করা না হয়।
রাখাইন প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গত বুধবার জানিয়েছে, তারা রাজ্যের সব মুসলমানের নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখছে। কিন্তু এই পদক্ষেপের লক্ষ্য কি তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাখাইন প্রদেশের প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গাকে বিশ্বের মধ্যে অন্যতম নির্যাতিত জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে থাকে জাতিসঙ্ঘ।
এ দিকে আরাকানে পাঁচ মাস আগে গ্রেফতার হওয়া জাতিসঙ্ঘ উদ্বাস্তু সংস্থার স্থানীয় কর্মচারীকে মুক্তি দিতে মিয়ানমারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান্ট কায়াউকে নাভি পিল্লাই চাপ দিলেও এ ব্যাপারে কোনো জবাব দেননি কায়াউ। এ ব্যাপারে নাভি পিল্লাই বলেন, মিয়ানমার সরকার যদি জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও গ্রেফতার করে তাহলে সেটি তাদের সংস্কারমূলক কার্যক্রমের সাথে মোটেই মানানসই হবে না। জাতিসঙ্ঘ উদ্বাস্তু সংস্থার মুখপাত্র ভিভিয়ান তান বলেন, আমাদের সংস্থার আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে সরকার সেটাও স্পষ্ট করে বলছে না। আমরা বারবার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলেও সরকার কোনো কিছুই জানাচ্ছে না। এ বছরের প্রথম দিকে সাম্প্রদায়িক সঙ্ঘাতের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতিসঙ্ঘের আরো কয়েকজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হলেও পরে তাদের মুক্তি দেয়া হয়।
captcha