বার্তা সংস্থা ইকনা: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী এবং ঐক্য
সপ্তাহ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নওয়াব আলী’ মিলনায়তনে ‘নবীর (সা.)
সুন্নতে ইসলামী ঐক্য’ শিরোনামে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের
বিভিন্ন মিডিয়ায় সেমিনারের বিষয়বস্তু প্রচার করা হয়েছে।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর স্বাগত বক্তব্যে
ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি কালচারাল কাউন্সিলর জনাব সৈয়দ মুসা হুসাইনি উপস্থিত
সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন: এ ধরণের সেমিনারের মাধ্যমে আমরা হযরত মুহাম্মাদ
(সা.)এর প্রতি আল্লাহ যে বানী নাযিল হয়েছে সেগুলো সম্পর্কে অধিক অবগত হতে
পারব।
তিনি বলেন: বিশ্বের সুন্নি মুসলমানরা ১২ই রবিউল আউয়ালকে বিশ্বনবীর
(সা.)জন্মদিন বলে মনে করেন। অন্যদিকে শিয়া মুসলমানরা মনে করেন রাসূলের
(সা.) জন্ম হয়েছিল ১৭ই রবিউল আউয়াল। আর এই উভয় মাজহাবের ঐক্যের প্রতীক
হিসেবে ১২ ই রবিউল আউয়াল থেকে ১৭ ই রবিউল আউয়াল-যুক্ত সপ্তাহটিকে ইসলামী
ঐক্য সপ্তাহ হিসেবে পালন করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম তার
বক্তব্যে বলেন : হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর পবিত্র ওফাতের পর তার উম্মতের
ঐক্যের প্রতি পবিত্র কুরআনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত,
বাস্তবে ইসলামী উম্মাহর মধ্যে এ বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় না।
তিনি বলেন: ১২ ই রবিউল আউয়াল থেকে ১৭ ই রবিউল আউয়াল-যুক্ত সপ্তাহটিকে
ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেন মরহুম ইমাম খোমেনী (রহ.) এবং এ
সময়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করার বড় একটি সুযোগ। ইসলামের
আগমনের বহু শতাব্দী পার হয়ে গেলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত ঐক্য অর্জিত হয়নি। ঐক্য
অর্জনের লক্ষ্যে যথেষ্ট চেষ্টাও আমরা করিনা। বহু মুফাসসির, ফকিহ, গবেষক
এবং… তৈরি হয়েছে কিন্তু ঐক্য অর্জিত হয়নি।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ইসলামি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পরিচালক জনাব মোঃ
শামিম আফজাল বলেন: আমরা মুসলমান, আমাদের ধর্ম ইসলাম। আমরা শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি,
আমাদের স্রষ্টা মহান আল্লাহ্। প্রতিদিন বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মসজিদে ৫ বার
জামাতের নামায অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতি নামাযেই সূরা ফাতিহা তেলাওয়াত করা হয়।
কিন্তু ক’জন সূরা ফাতিহার অর্থ বোঝে। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে,
এর ইতিহাস অনেক পুরনো। জ্ঞানী ব্যক্তি ও জ্ঞানের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করতে
চায় শত্রুরা। বর্তমান এ ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়নকারী একদল নামধারী মুসলিম।
ইরানের শাহেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দাউদি মোকাদ্দাম তার বক্তব্যে
বলেন: হকিকত হচ্ছে ইবাদত ও পবিত্র কুরআনকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা। শত্রুরা
আমাদের ধারণার ঊর্ধ্বে চতুর। তারা অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে নিজেদের লক্ষ্যের
দিকে অগ্রসর হয়।
তিনি বলেন: ইসলামি ঐক্য অর্জনের লক্ষ্যে আমার পরামর্শ হচ্ছে যার যার
অবস্থান থেকে সমাজে ভূমিকা রাখা। আজ পবিত্র এ দিবসে আমরা পরস্পরের সাথে
অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে পারি যে, ঐক্য অর্জনের লক্ষ্যে আমরা আমাদের সাধ্যানুযায়ী
চেষ্টা চালিয়ে যাব। আর তখনই তখনই আমরা মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর
প্রকৃত অনুসারী হতে পারবো।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মাননীয়
রাষ্ট্রদূত জনাব হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন ড. আব্বাস ওয়ায়েজি দেহনাভি
তার বক্তব্যে বলেন : মহানবী (স.)এর প্রথম উদ্দেশ্য ছিল মানব সমাজকে মানবতার
শিক্ষা প্রদান করা। ইসলাম আমাদেরকে এ শিক্ষা দেয় যে, যদি তোমার দরজায় কেউ
এসে কড়া নাড়ে তাকে খেতে দাও, তাকে জিজ্ঞেস করো না কি তার ধর্ম কি তার জাত।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে সে মানুষ এবং মহান আল্লাহ্ তার মাঝে
নিজের রুহ ফুঁকে দিয়েছেন।
তার সংযোজন : দ্বিতীয় বিষয়টি হল, মহানবী (স.) সকল ধর্মের অনুসারীদেরকে
আহবান জানিয়েছেন যে, এসো আমরা আমাদের সবার সাথে মেলে এমন বিষয়গুলোর প্রতি
দৃষ্টি দেই। আমরা সকলে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখি এবং শুধু তাঁরই ইবাদত
করি এবং তৃতীয় পর্যায়ে তিনি (স.) মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান
জানিয়েছেন, পবিত্র কুরআনে এসেছে : ‘আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়
হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)।
তিনি বলেন : ইসলাম ধর্মকে আঁকড়ে ধরেই ইমাম খোমেনি (রহ.) ২৫০০ বছরের
রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছিলেন। ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর ইসলামি ঐক্যের জন্য
বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মুসলমানদের পাশাপাশি বাংলাদেশ
সরকারের পক্ষ থেকেও সারাদেশ ব্যাপী এ দিবস উপলক্ষে আনন্দ মাহফিলের আয়োজন
করা হয়। এটা সত্যিই আনন্দের বিষয়। আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা
জানাতে চাই।
তিনি আরও বলেন: শেখ মুজিবর রহমান তার জীবদ্দশাতে ইসলামি ফাউন্ডেশন গঠন
করেছিলেন। যা বর্তমানে সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ইসলামি কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে
চলেছে সারা দেশে। আর এটাই অপর ইসলামি দেশসমূহের সাথে ঐক্যের ক্ষেত্র
প্রস্তুত করবে।
ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত শীর্ষক সেমিনারটি BTV সহ মোহন
চ্যানেল ও টুডে রেডিও নেটওয়ার্কে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও মানবকণ্ঠ, নয়া
দিগন্ত, আমাদের অর্থনীতি সহ অন্যান্য সংবাদপত্র ও বেশ কিছু অনলাইন মিডিয়া
প্রকাশিত হয়েছে।













