
বার্তা সংস্থা ইকনা: ইরাকে দায়েশ-বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন কথিত অভিযানের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে স্টিভ ওয়ারেন দায়িত্বরত রয়েছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন: নিজেদের দখলকৃত স্থান ত্যাগ করার পূর্বে দায়েশ সেসকল স্থানে বোমা ফাঁদ পেতে যাচ্ছে। সিরিয়া এবং ইরাকে একের পর এক পরাজয়ের কারণে বিপর্যয়ের শেষ সীমায় পৌঁছে যাওয়া দায়েশ নিজেদের সন্ত্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রাখার জন্য এ ন্যক্কারজনক পথ বেছে নিয়েছে।
লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি বক্তৃতায় ওয়ারেন বলেছেন: দায়েশ গোষ্ঠী পর্যুদস্ত হতে শুরু করেছে এবং যেসব এলাকা এ গোষ্ঠীর হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে যেখানে থেকে পালানের আগে মানুষ মারার জন্য বোমার ফাঁদ পেতে রাখছে। বিশেষ করে ইরাকের ‘রামাদি’ শহর থেকে পবিত্র কুরআনের পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করা হয়েছে। মানুষ মারার জন্য দায়েশ এসকল পাণ্ডুলিপিকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করেছে।
তিনি আরও বলেন: এছাড়াও ফ্রিজসহ নানা আসবাব এবং সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসে বোমার ফাঁদ বসাতে দ্বিধা করছে না এ গোষ্ঠী। এমনকি কুরআন শরীফকেও তারা বোমা বসানোর ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করছে।
স্টিভ ওয়ারেন বলেন: ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশের ভারী পরাজয়ের জন্য তারা শিশুদের যুদ্ধে পাঠাতে বাধ্য করছে এবং এ বিষয়টি অতি উদ্বেগজনক।
দায়েশের পরবর্তী উদ্দেশ্য ইউরোপ হতে পারে, এধরণের মন্তব্য করে তিনি বলেন: সন্ত্রাসীরা এ পর্যন্ত ইরাকে তাদের দখল করা ভূমির ৪০ শতাংশ হারিয়েছে এবং এরমধ্যে ১০ শতাংশ সিরিয়ায়। দায়েশের পরবর্তী লক্ষ ইউরোপে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বলাবাহুল্য, পূর্বে ইরাকের দিয়ালা প্রদেশের নিরাপত্তা পরিষদের কমিটির প্রধান ‘সাদিক আল হুসাইনি’ ঘোষণা করেছিলেন: নিরাপত্তা বাহিনী দায়েশের হাত থেকে ‘আল সাদিয়া’ ও ‘জালুলা’ শহর মুক্ত করার পর দায়েশের রেখে যাওয়া বোমাসমূহ নিষ্ক্রিয়করণ করছে।
আল হুসাইনি আরও ঘোষণা করেছিলেন: সাধারণ জনগণদের হত্যা করার জন্য তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী দায়েশের সদস্যরা পবিত্র কুরআন শরীফে বোমা ফিট করেছে।