৬০ হিজরির ৮ জিলহজ বিশ্বনবীর (সা.) পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য ও হাদিসে উল্লেখিত মুক্তির তরী, বেহেশতী যুবকদের সর্দার তথা মহানবীর (সা.) দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) মক্কা ত্যাগ করে ইরাকের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।
জালিম উমাইয়া শাসক ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার পাঠানো গুপ্ত-ঘাতক ও হজযাত্রীর ছদ্মবেশধারী সন্ত্রাসীদের হাতে যাতে এই পবিত্র স্থান তথা 'শান্তির নগরী' মক্কার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয় বা মক্কার পবিত্র ভূমি রক্তে-রঞ্জিত না হয় সে জন্যই তিনি হজ শেষ না করেই মক্কা ত্যাগ করেছিলেন। অনেকের মতে হজ করা সম্ভব হবে না জেনে তিনি হজ শুরুই করেননি। ইমাম মক্কা ত্যাগ করেছিলেন আরাফাতের প্রান্তর দিয়ে।
এর চার মাস আগে তিনি ইয়াজিদের অবৈধ শাসনকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর নিজ শহর মদীনা ত্যাগ করে সপরিবারে মক্কায় চলে এসেছিলেন।
পবিত্র মক্কা শহরে এসে ইমাম অবৈধভাবে খেলাফত দখলকারী উমাইয়া শাসকদের ভণ্ডামি ও তাদের জুলুম-অত্যাচার এবং খোদাদ্রোহী চরিত্র সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন। মক্কায় অবস্থানকালে তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের জটিল পরিস্থিতির বিষয়টি জনগণের কাছে তুলে ধরেছিলেন খাঁটি ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত এই মহান ইমাম। তিনি হজ না করেই পবিত্র মক্কা ত্যাগ করায় জনগণ ইয়াজিদের ইসলাম-বিরোধী নীতি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পেরেছিল।
ইরাকের কুফার জনগণ ইমাম হুসাইনকে (আ.) বার বার তাদের শহরে আসার ও তাদেরকে তাগুতি শাসন থেকে মুক্ত করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে ইমাম ওই অঞ্চলের উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগ করেছিলেন।
এক মাস পর শহীদদের সর্দার হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) তাঁর পরিবারের প্রায় সব পুরুষ সদস্য এবং একদল নিবেদিত-প্রাণ সঙ্গীসহ ইয়াজিদের অনুগত খোদাদ্রোহী সেনাদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। ইসলামকে প্রায় শতভাগ বিকৃতি ও বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্যাগের নজির স্থাপনকারী কারবালার মহাবিপ্লবের মহানায়ক এই ইমাম এর আগের বছর মক্কায় পবিত্র হজের প্রাক্কালে ‘আরাফাত দিবসে’ আরাফাত প্রান্তরে অনন্য আধ্যাত্মিক ঔজ্জ্বল্যে সমৃদ্ধ ও অশ্রুসিক্ত দীর্ঘ এক মুনাজাত উপহার দিয়ে গেছেন মুসলমানদের জন্য।
এ দোয়ার একাংশে তিনি বলেছেন: হে আল্লাহ যারা তোমাকে পেয়েছে তাদের কোনো কিছুরই অভাব নেই, আর যারা তোমাকে পায়নি তাদের সব কিছু থাকলেও আসলে কিছুই নেই।