
irib ওয়েবসাইটের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনা: আজ (শনিবার) নওরোজ বা ফার্সি নতুন বছর (১৩৯৪) শুরু হওয়া উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি সরকার ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পাশাপাশি আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক আস্থা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি নতুন এই বছর তথা ফার্সি ১৩৯৪ সালের জন্য 'সরকার ও জাতি, সহমর্মিতা ও একই সুর'- শীর্ষক শ্লোগান বা নাম ঘোষণা করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, যদি (সরকার ও জনগণ) উভয় পক্ষই পরস্পরকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে তাহলে আমাদের তথা সরকার ও জনগণের আশাগুলো অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, তাদের পারস্পরিক আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতাগুলো যতই বাড়বে ততই কাজের অগ্রগতিও বাড়বে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ প্রসঙ্গে আরো বলেছেন, সরকারকে অবশ্যই জাতির সেবক হতে হবে এবং জনগণই সরকারকে নিয়োগ দিয়েছে। তাই সরকারের উচিত প্রকৃত অর্থেই জাতির মূল্যবোধ, গুরুত্ব ও ক্ষমতাগুলোকে স্বীকৃতি দেয়া এবং জনগণেরও উচিত প্রকৃত অর্থেই সরকারের ওপর আস্থা রাখা।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র প্রিয় কন্যা হযরত ফাতিমা জাহরা (সালামুল্লাহি আলাইহা)'র আসন্ন শাহাদত (৩ জমাদিউস সানি, ২৪ মার্চ) বার্ষিকী উপলক্ষে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এই মহীয়সী নারীর ওসিলায় নতুন বছরটি সবার জন্য অফুরন্ত বরকত বা প্রাচুর্য বয়ে আনবে এবং তাঁর (পুণ্য) স্মৃতি চলতি বছর আমাদের জনগণের জীবনে গভীর ও স্থায়ী প্রভাব রাখবে বলে আশা করছি।
তিনি নতুন ফার্সি বছরে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তিমত্তা ও সম্মান, জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রকৃত অর্থেই বড় ধরনের অগ্রযাত্রা, বিচার ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার এবং সর্বোপরি ঈমান ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নকে জনগণের কয়েকটি বড় ও বাস্তবায়নযোগ্য স্বপ্ন হিসেবে অভিহিত করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিগত ফার্সি বছরে ইসলামী বিপ্লবের বিজয় বার্ষিকীর শোভাযাত্রাসহ বিশ্ব কুদস দিসবের মিছিলে এবং হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)'র শাহাদতের চল্লিশার শোক-মিছিলে ব্যাপক হারে অংশ নেয়ার জন্য জনগণের প্রশংসা করে বলেছেন, এতে ইরানি জাতির দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ফুটে উঠেছে।
এদিকে, ইরানের উত্তরপূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পবিত্র মাশহাদ শহরে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম রেজা (আ.)'র পবিত্র মাজার-প্রাঙ্গনে এক বিশাল জনসমাবেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, নওরোজ মুসলিম জাতিগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব জোরদারের উপলক্ষ এবং তা সব মুসলমানেরই উৎসব। ইরানি জাতি এই উৎসবকে ইসলামী মূল্যবোধগুলো জোরদারের কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করায় ধর্মীয় মূল্যবোধগুলোর সঙ্গে এর কোনো দ্বন্দ্ব নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
তিনি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আবশ্যকীয় কাজ বা ফরজ দায়িত্ব হিসেবে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেছেন, ইসলামী সরকারকে রক্ষা করা ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে ভালো সৎ কাজ।