
বার্তা সংস্থা ইকনা : গতকাল (৬ই এপ্রিল), ইয়েমেন হামলায় অংশগ্রহণে সৈন্য প্রেরণের বিষয়ে সৌদি আরবের আবেদনের ইস্যুটি পাকিস্তান সংসদে পর্যালোচিত হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, পাকিস্তানের নিকট জল, স্থল ও আকাশ পথে সামরিক সহযোগিতা চেয়েছে সৌদি আরব।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘খাজা আসিফে’র, সৌদি আরবকে সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রতিনিধিরা সৌদি আরবে সৈন্য প্রেরণের বিরোধিতা করেছেন।
পাকিস্তানের তাহরিক-এ-ইনসাফের প্রধান ইমরান খান বলেন : ‘আমি এ বিষয়ে সন্ত্রস্ত যে, নওয়াজ শরিফ নিজেকে সৌদি আরবের কাছে ঋনী বলে জ্ঞান করেন। কেননা এ দেশে তার অনেক সম্পদ রয়েছে এবং সৌদির কাছ থেকে তিনি ঋণও গ্রহণ করেছেন। সুতরাং এ ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে কোন ভুল সিদ্ধান্ত তিনি না নিয়ে ফেলেন।’
সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ‘শাহ মুহাম্মাদ কোরেশী’ সংসদে তার বক্তব্যে বলেন : যদি সৌদি আরবের নেতৃ্ত্বাধীন কোন জোটের সাথে পাকিস্তান যুক্ত হয় তবে দেশের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সৃষ্টি হতে পারে এবং পাকিস্তানে স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। আর তাই সৌদি আরব যার নেতৃত্বে রয়েছে এমন ধরনের যে কোন হস্তক্ষেপের বিরোধী পাকিস্তানের জনমত।
পাকিস্তানের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং পিপিপি সাংসদ ‘এতেযায আহসান বলেন : ইয়েমেনের বিষয়টি মক্কা ও মদিনা শরিফ রক্ষার সাথে কোন সম্পর্ক রাখে না। সৌদি আরব, সৌদি সরকার এবং মক্কা ও মদিনা ৩টি আলাদা বিষয়। সেগুলোকে এক করে দেখা আমাদের উচিত নয়। কেন তারা বলে যে, মক্কা ও মদিনা হুমকির সম্মুখীন? তারা এ বিপদকে কিভাবে সনাক্ত করেছে? কেন নওয়াজ শরিফ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন না যে, সৌদি আরবকে তারা কি প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন? কেন সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধে আমাদেরকে কেউ সহায়তা করেনি?
পাকিস্তানের MQM প্রতিনিধি বলেন : ইয়েমেন ও সৌদি আরব দুটোই ইসলামি দেশ। সাময়িক কিছু স্বার্থের জন্য সৈন্যদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া উচিত হবে না।
ওলামায়ে ইসলাম সোসাইটির প্রধান ‘ফজলুর রহমান’ সৌদি আরবে সৈন্য প্রেরণের বিরোধিতা করে মধ্যস্থতা করার দাবী জানান।
উল্লেখ্য, আজকের সংসদীয় অধিবেশনেও ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সৌদি আরবকে সহযোগিতার বিষয়টি পর্যালোচিত হবে।# 3102066
সূত্র : ERY