IQNA

যিল হজ্জ মাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা

16:19 - July 24, 2022
সংবাদ: 3472168
তেহরান (ইকনা): ২৪ যিল হজ্জ্ ঈদ -ই মুবাহালা উপলক্ষ্যে সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক মুবারক বাদ ( তাবরীক ) ও অভিনন্দন ( তাহনিয়ত ) । 

যিল হজ্জ্ মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ও ঈদ সমূহের মাস । কারণ , এ মাসের আগমনের সাথে সাথে সৎকর্মশীল সাহাবা ও তাবেয়ীন এ মাসে ইবাদত বন্দেগীর ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগ ও গুরুত্ব দিতেন । এ মাসের প্রথম দশ দিন সুবিদিত দিনসমূহ ( আল আইয়ামুল মা'লূমাত ) নামে প্রসিদ্ধ যা পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে এবং অপরিসীম ফযীলত ও বরকতের অধিকারী কারণ হজ্জ্ ব্রত পালন যিল হজ্জ্ মাসের প্রথম দশ দিন ও তারপরে ১১ ও ১২  যিল হজ্জ্  ব্যাপী চলে । আর হজ্জ্ ইসলামের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিনা বা ভিত্তি ।
 
১লা যিল হজ্জ্ হযরত ইব্রাহীম খলিলের  ( আ.) শুভ জন্মদিন এবং শেইখাইনের রিওয়ায়ত অনুসারে হযরত আমীরুল মুমিনীন আলীর (আ.) সাথে হযরত ফাতিমার ( আ.) শুভ বিবাহের দিন , ৭ যিল হজ্জ্ মহানবীর ( সা.) পবিত্র আহলুল বাইতের (আ.) মাসূম ১২ ইমামের ৫ম ইমাম হযরত মুহাম্মদ আল বাক্বিরের ( আ.) শাহাদাত দিবস ,  ৮ যিল হজ্জ্ তার্ভিয়ার দিবস : এ দিবস অত্যন্ত ফযীলত ও মর্তবার অধিকারী । রিওয়ায়তে বর্ণিত হয়েছে যে এ দিবসের রোযা ৬০ বছরের কাফফারা স্বরূপ এবং শেইখে শহীদ এ দিবসের গোসল মুস্তাহাব বলে বিবেচনা করেছেন ।
 
এ দিন হাজীরা হজ্জের ইহরাম পরিধান করে মিনা গমণ করত সেখানে ৯ যিল হজ্জের রাত ফজর পর্যন্ত অতিবাহিত করেন এরপর (৯ যিল হজ্জ্ ) তারা আরাফাতের ময়দানের দিক রওয়ানা হন ।
 
এ দিন ৮ যিল হজ্জ্ ৬০ হিজরী সালে ইমাম হুসাইন (আ.) পবিত্র মক্কা থেকে কূফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন । আর এ দিনই কূফায় প্রেরিত ইমাম হুসাইনের (আ.) দূত ও প্রতিনিধি হযরত মুসলিম ইবনে আক্বীল কূফায় পাপিষ্ঠ ইয়াযীদের নিযুক্ত শাসনকর্তা উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ ইবনে আবিহীর বিরুদ্ধে কিয়াম ও গণ অভ্যুত্থান করেন এবং ৯ যিল হজ্জ্ ইবনে যিয়াদের নির্দেশে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা ও শহীদ করা হয় । তাই  মূলতঃ ১০ মুহররম আশুরার দিবসে কারবালায় ইমাম হুসাইনের (আ.) কিয়াম ও বিপ্লবের সূচনা হয় এই ৮ যিল হজ্জ্ ৬০ হিজরীতে ।।
 
৯ যিল হজ্জ্ আরাফাত দিবস ( হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় আরাফাত দিবস থেকে এবং আরাফাতের ময়দানে ৯ যিল হজ্জ্ যোহরের সময় থেকে মাগরিব পর্যন্ত অবস্থান বা উকূফ্ হচ্ছে হজ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন ( আল হাজ্জু আরাফাহ ) এবং এ দিবস ( ৯ যিল হজ্জ্ ) কূফায় ইমাম হুসাইনের (আ.) দূত ও প্রতিনিধি মুসলিম ইবনে আক্বীলের শাহাদাত দিবস , ১০ যিল হজ্জ্ ঈদুল আযহা ( আল্লাহর রাহে ত্যাগ তিতীক্ষা ও কুরবানীর মহোৎসব ) , ১৫ যিল হজ্জ্ মহানবীর ( সা :) পবিত্র আহলুল বাইতের ( আ:) ১২ ইমামের দশম মাসূম ইমাম আলী ইবনে মুহাম্মাদ আন- নাকী আল - হাদীর শুভ জন্ম দিবস , ১৮ যিল হজ্জ্ ঈদ - ই গাদীর - ই খুম ( হযরত আলীর বেলায়েত ও ইমামত ঘোষণার দিবস ) , ২০ যিল হজ্জ্ আহলুল বাইতের ৭ম মাসূম ইমাম মূসা ইবনে জাফার আল - কাযিম ( আ.) - এর শুভ জন্মদিন , ২৪ যিল হজ্জ্ মুবাহালার দিবস ( ঈদ - ই মুবাহালা যে সম্পর্কে "ঐতিহাসিক মুবাহালা ও মহানবীর সা . প্রকৃত আহলুল বাইতের আ পরিচয় " - এ প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে । ) , এ দিন ২৪ যিল হজ্জ্ মহানবী ( সা:) নাজরানের খ্রীষ্টানদের সাথে মুবাহালা করার আগে আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.) , হযরত ফাতিমা ( আ.) , ইমাম হাসান ( আ.) ও ইমাম হুসাইন ( আ.)কে একটি চাদরের নীচে প্রবেশ করিয়ে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বললেন : " হে পরওয়ারদেগার ! প্রত্যেক নবীরই আহলুল বাইত ছিল যারা ছিল সবচেয়ে বিশেষ সৃষ্টি ( খাল্ক্ বা মখলূক ) । হে আল্লাহ ! এঁরা - আলী , ফাতিমা , হাসান ও হুসাইন - আমার আহলুল বাইত ; অতএব এঁদের থেকে সব ধরণের সংশয় সন্দেহ ( শক্ক্ ) ও পাপ ( গুনাহ ) দূর করে এদেরকে পবিত্র করার মতো ( সম্পূর্ণ ) পবিত্র ( তাত্হীর ) করে দিন । " ঠিক এর পরপরই হযরত জিবরাঈল ( আ.) তাত্হীরের আয়াত ( সূরা - ই আহযাবের ৩৩ নং আয়াত : " নিশ্চয়ই আল্লাহ চান হে আহলুল বাইত তোমাদের থেকে পাপ পঙ্কিলতা - রিজস - দূর করতে এবং তোমাদের কে পবিত্র করার মতো ( পূর্ণ রূপে ) পবিত্র ( তাত্হীর ) করতে । " নিয়ে অবতীর্ণ ( নাযিল ) হন । এরপর মহানবী (সা.) এই চারজনকে নিয়ে মুবাহালার জন্য বের হন । তাই যখন নজরানের খ্রীষ্টান প্রতিনিধি দল এদেরকে দেখতে পেল এবং রাসূলুল্লাহর (সা:) হক্কানীয়ত ( সত্যতা ) ও মহানবীর (সা:) নুবুওয়ত অস্বীকারকারীদের উপর ঐশ্বরিক ( ইলাহী ) আযাব অবতীর্ণ ( নাযিল ) হওয়ার আলামত ও লক্ষণসমূহ প্রত্যক্ষ ( মুশাহাদা ) করল তখন তারা মুবাহালা করার সাহস করে নি বরং তারা সন্ধিচুক্তি ও জিযিয়া কর প্রদান করার প্রস্তাব দেয় ।
 
এ দিন ( ২৪ যিল হজ্জ্ ) আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.) নামাযের রুকূতে ভিক্ষুককে আংটি দান করলে নিশ্চয়ই তোমাদের ওয়ালী ( কর্তৃপক্ষ , সার্বিক তত্ত্বাবধান কারী ও অভিভাবক ) হচ্ছেন আল্লাহ , তাঁর রসূল এবং  যারা ঈমান এনেছে তারা ( মুমিনগণ ) যারা নামায কায়েম করে এবং রুকূরত অবস্থায় যাকাৎ দেয় ।" - এ আয়াত ( বেলায়তের আয়াত ) অবতীর্ণ ( নাযিল ) হয় । 
 
মুবাহালার দিবসের কতিপয় আমল নীচে উল্লেখ করা হল : ১. মুস্তাহাব গোসল , ২. রোযা , ৩ . সময় , পদ্ধতি ও সওয়াবের দিক থেকে  ঈদ - ই গাদীর দিবসের নামাযের সদৃশ দু ' রাকাত নামায এবং মুবাহালার নামাযে আয়াতুল কুরসি হুম ফীহা খালিদূন্ পর্যন্ত পড়তে হবে  , ৪ . দুআ - ই মুবাহালা পাঠ যা রমযান মাসের দুআ - ই সাহারের অনুরূপ ( মাফাতীহুল জিনান গ্রন্থে মুবাহালার দিবসের দুআ বর্ণিত হয়েছে । ) ৫. শেখ ও সাইয়েদ দুরাকাত নামায ও ৭২ বার ইস্তিগফার করার পর যে দুআ রিওয়ায়ত করেছেন তা পাঠ করা এবং এ দুআর শুরু তে রয়েছে : আল হামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন্ ।
 
এ দিন প্রত্যেক মুমিন নর নারী কর্তৃক মওলা আমীরুল মুমিনীন হযরত আলীর (আ.) অনুসরণ করে ফকীর মিসকীনদেরকে দান সদকা করা খুবই পছন্দনীয় ও মুস্তাহাব। 
এ দিন হযরত আলীর (আ.) যিয়ারত করা অত্যন্ত পছন্দনীয় ও মুস্তাহাব এবং সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে যিয়ারত - ই জামিয়া পাঠ ।
 
২৫ যিল হজ্জ্ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদা সম্পন্ন দিবস । যেহেতু আহলুল বাইত (আ.)ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন (আ.) জ্বর থেকে সুস্থ হলে নযর আদায় করার জন্য  তিন দিন রোযা রাখেন । কিন্তু এ তিন দিন তাঁরা তাঁদের ইফতারের খাবার মিসকীন , ইয়াতীম ও যুদ্ধবন্দীকে দিয়ে দেন এবং নিজেরা শুধু পানি পান করে ইফতার করেন সেহেতু তাঁদের  শা'নে এবং তাঁদের এ অপার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে  পবিত্র কুরআনের সূরা - ই ইনসান ( সূরা - ই দাহর : হাল আতা আলাল ইনসানি হীনুম মিনাদ  দাহরি ... ) অবতীর্ণ হয় । তাই আহলুল বাইতের (আ.) অনুসারীদের জন্য শোভনীয় হচ্ছে এ দিবসগুলোয় বিশেষ করে ২৫ যিল হজ্জের রাতে নিজেদের মওলাদের ( অনুসরণীয় নেতা ও ইমামদের ) আদর্শ অনুসরণ করে ফকীর ,  মিসকীন ও ইয়াতীমদের ইত্'আম ( আপ্যায়ন ) করা  ও খাওয়ানো এবং এ দিন ( ২৫ যিল হজ্জ্ ) রোযা রাখা ।
 
যেহেতু কোনো কোনো আলেমের মতে ২৫ যিল হজ্জ্ মুবাহালার দিবস সেহেতু এ দিন যিয়ারত - ই জামিয়া ও মুবাহালার দুআ পড়া যথার্থ ( মুনাসিব ) ।
 
যিল হজ্জ্ মাসের শেষ দিনের আমল পরবর্তীতে বর্ণনা করা হবে ।
 
সংগ্রহে : ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
৩-৮-২০২১

 

captcha