
রাজধানী দিল্লির রামলীলা ময়দানে শুক্রবার জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তৃতাকালে মাওলানা মাদানি বলেন, ‘ভারত আমাদের দেশ। এই দেশটি মাহমুদ মাদানিরও, যতটা নরেন্দ্র মোদি এবং মোহন ভাগবতের। না মাহমুদ তাদের থেকে এক ইঞ্চি এগিয়ে, না তারা মাহমুদের থেকে এক ইঞ্চি এগিয়ে।’
ইসলাম ভারতের প্রাচীনতম ধর্ম এবং প্রথম নবী আদম (আ.)-এর জন্ম এই ভারতবর্ষেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ভূমি মুসলমানদের প্রথম মাতৃভূমি। ইসলামকে বাইরে থেকে আসা একটি ধর্ম বলা সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। ইসলাম সব ধর্মের মধ্যে প্রাচীনতম ধর্ম। ভারত হিন্দিভাষী মুসলমানদের জন্য সেরা দেশ।’
জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ প্রধান বলেছেন, তারা জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, আজ যারা স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করছেন তাদের মিথ্যা অভিযোগে জেলে পাঠানো হচ্ছে।
মাওলানা মাদানি বলেন, ‘আমরা জোরপূর্বক ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে। ধর্মের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার। আমরা বলপ্রয়োগ, জালিয়াতি এবং লোভের মাধ্যমে ধর্মান্তরেরও বিরুদ্ধে। মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করা নিয়ে এজেন্সিগুলোর অনেক উদাহরণ রয়েছে। যেমন নামাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা, মুসলিমদের বিরুদ্ধে পুলিশের অ্যাকশন, বুলডোজার অ্যাকশন।’
শুক্রবার দিল্লিতে শুরু হওয়া জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন চলবে তিন দিন। সংগঠনটি অনুসারে, তাদের সম্মেলনে যেসব বিষয়ে আলোচনা করা হবে তার মধ্যে কয়েকটি হলো―ইউনিফর্ম সিভিল কোড, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মুসলিম ব্যক্তিগত আইন এবং মাদরাসার স্বায়ত্তশাসন। এ ছাড়াও আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণের বিষয়ে একটি প্রস্তাব আনা হতে পারে বলে তারা জানিয়েছে।
ধর্মীয় ভ্রাতৃত্বকে শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নেওয়া এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রতিরোধের উদ্যোগগুলোও জমিয়তের এই ৩৪তম অধিবেশনের এজেন্ডার অংশ।
জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ একটি শতাব্দী প্রাচীন সংগঠন। তারা মুসলমানদের নাগরিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষাগত অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করে। জমিয়ত মুসলমানদের বৃহত্তম সংগঠন বলে দাবি করে এবং মুসলমানদের সামাজিক-রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়গুলো তার এজেন্ডায় থাকে। সংগঠনটি ইসলামের দেওবন্দী আদর্শে বিশ্বাসী।
সূত্র : এএনআই