
পরিববেশ সুরক্ষায় মসজিদটির তত্ত্বাবধানে নানা উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়। সম্প্রতি মসজিদের পক্ষ থেকে পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ (Renewable Power) উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ ‘এনার্জি ওয়াকফ’ গঠন করা হয়। রমজানসহ বছরের মর্যাদাপূর্ণ দিনগুলোতে এই তহবিল গঠনে সহায়তা করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। তা ছাড়া ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও মসজিদের ইমামদের পরিবেশদূষণ বিষয়ক সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়। বিশেষত পরিমিত পানি ব্যবহার, প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস, খাবারের অপচয় কমানোর প্রতি জোর দিতে বলা হয়। মুসল্লিদের চলাচলে কারপুলিং, স্থানীয় পণ্য ব্যবহার ও পুনর্ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গত বছর টেকসই ইন্দোনেশিয়া বিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারুফ আমিন ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও নেতাদের পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তখন তিনি ইসতিকলাল মসজিদের সৌর প্রকল্পে অনুদানসহ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
নাহদলাতুল উলামার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সদস্য মুহাম্মদ আলী ইউসুফ বলেন, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা মুসলিমদের জন্য একটি অংশীদারভিত্তিক দায়িত্ব। মসজিদের নিজস্ব উদ্যোগে সৌর প্যানেল স্থাপন সমাজের বৃহত্তর পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটির পরিবেশবাদী কর্মী ইমাম সাফেট ক্যাটোভিক বলেন, ২০০০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশ কিছু গোষ্ঠী পরিবেশ সচেতনতাবিষয়ক কাজ শুরু করে। এই সময়ে ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্য থেকে তাদের মধ্যে ‘গ্রিন মুসলিম আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ গড়ে ওঠে। কিছু ক্ষেত্রে অনেক মসজিদ তা গ্রহণ করলেও বেশির ভাগ তা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি। ইসতিকলাল মসজিদের মতো অন্যান্য মসজিদও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রসিদ্ধ আবাসিক মাদরাসা আল-মাহাদুল ইসলামীর মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়। মসজিদের প্রয়োজন পূরণ করে পার্শ্ববর্তী স্কুল ও রাস্তায়ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের নিজামিয়া মসজিদেও আছে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা। সুউচ্চ মিনার ও গম্বুজের পাশাপাশি এর ছাদে ১৪৩টি সৌর প্যানেল। এখান থেকে মসজিদের চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের স্কুল, ক্লিনিক ও বাজারেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। নিউ জার্সির এডিসন শহরের আল-ওয়ালি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারের আওতায় একটি স্কুল ও মাসিক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি এখানে আছে পরিবেশবান্ধব নানা উদ্যোগ। যেমন—পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল বিক্রি করা, প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহারে নিরুৎসাহ করা, পানির কুলার স্থাপন করা ইত্যাদি। মানুষ এসব উদ্যোগ গ্রহণ করছে, তবে খুবই ধীরে ধীরে বলে জানান সেন্টারের বোর্ড সদস্য আকিল মানসুরি।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব অনুশীলন গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন দেশে কাজ করছে ‘উম্মাহ ফর আর্থ’ নামের একটি মুসলিম সংগঠন। এই প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর নওহাদ আওয়াদ বলেছেন, ‘পবিত্র কোরআন ও মহানবী (সা.)-এর হাদিসে পরিবেশবিষয়ক অনেক শিক্ষা আছে। মুসলিমরা এ ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন; অথচ এই বিষয়ে তাঁরা খুব বেশি সচেতন নন। ধীরে ধীরে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক পর্যায়ে আমরা পরিবেশবান্ধব অনুশীলনে অভ্যস্ত হতে পারি।’
সূত্র : এপি