IQNA

নবীদের শিক্ষা পদ্ধতি; ইব্রাহীম (আ.)/ ৬

"অনুতাপ" ব্যবহার করে ইব্রাহীমের শিক্ষা পদ্ধতি

0:00 - June 25, 2023
সংবাদ: 3473938
তেহরান (ইকনা): প্রতিটি মানুষই ভুল করে। ধর্মের মাধ্যমে করুণাময় আল্লাহ মানুষের জন্য অনুতাপ এবং ক্ষমা চাওয়া এবং সুপারিশের পথ খুলে রেখেছেন যাতে পাপ এবং ভুলগুলি ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব হয়। কিন্তু তওবা চাওয়ারও এক ধরনের শিক্ষামূলক পদ্ধতি রয়েছে।

একজন মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি পদ্ধতি হল তাকে গ্রহণ করা এবং ক্ষমা করা। অনুশোচনার প্রচলিত সংজ্ঞা হচ্ছে, মানুষকে আরও সহজে উপদেশ গ্রহণ করতে, ভুল কাজ থেকে দূরে সরে যেতে এবং আবার পুনরাবৃত্তি না করতে সাহায্য করে। অনুতপ্ত হওয়া এবং ক্ষমা চাওয়া কেবল তখনই নয় যখন একজন ব্যক্তি পাপ করেছে। বরং কোনো ব্যক্তি কোনো পাপ না করলেও এ আচরণ গ্রহণযোগ্য। এ প্রসঙ্গে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন: সর্বোত্তম দোয়া হলো ক্ষমা চাওয়া।

অনুতাপ সম্পর্কে উত্থাপিত পয়েন্টগুলির মধ্যে রয়েছে যে শিক্ষকের উচিত তার ছাত্রের ভুল দেখে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। বরং তাকে তার ভুল বোঝাতে হবে। কখনও কখনও একজন ব্যক্তি কিছু ভুল করে, কিন্তু সে জানে না যে এটি একটি ভুল এবং এর উত্স হচ্ছে মানুষের অজ্ঞতা। একজন শিক্ষকের প্রথম কাজ হল ছাত্রকে ভুল বোঝানো।শিক্ষকের দ্বিতীয় কাজ হল তার ক্ষমা প্রার্থনা ও অনুতাপ গ্রহণ করা। এটি না করলে সেই শিক্ষকের শিক্ষা প্রদানের কোন প্রভাব থাকবে না।

হজরত ইব্রাহিম(আ) মহান এবং অনুপ্রেরণাদায়ক নবীদের একজন হিসাবে, সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেছিলেন:

  • কোরানে ইব্রাহিম ও ইসমাইলের তওবা:

رَبَّنَا وَ اجْعَلْنَا مُسْلِمَين‏ لَكَ وَ مِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَ أَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَ تُبْ عَلَيْنَا  إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيم

‘হে প্রতিপালক! তুমি আমাদের উভয়কে তোমার একান্ত অনুগত কর এবং আমাদের বংশধর হতে তোমার অনুগত এক উম্মত সৃষ্টি কর। আমাদের উপাসনার পদ্ধতি দেখিয়ে দাও এবং আমাদের তওবা গ্রহণ কর। নিশ্চয়ই তুমি অতিশয় তওবা গ্রহণকারী, অনন্ত করুণাময়।’

সূরা বাকারা, আয়াত: ১২৮।

আল্লামা তাবাতাবাই এই আয়াতে ইব্রাহীম (আ.) ও ইসমাইলের (আ.) অনুতাপ ও তওবার কারণকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য বলে মনে করেন।

সূরা মুমতাহিনার ৪ নম্বর আয়াতে "ফিরানো" অর্থে অনুতাপ ব্যবহৃত হয়েছে:

قَدْ كاَنَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فىِ إِبْرَاهِيمَ وَ الَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُواْ لِقَوْمهِمْ إِنَّا بُرَءَ ؤُاْ مِنكُمْ وَ مِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكمْ وَ بَدَا بَيْنَنَا وَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَ الْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتىَ‏ تُؤْمِنُواْ بِاللَّهِ وَحْدَهُ إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَ مَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن شىْءٍ  رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكلّْنَا وَ إِلَيْكَ أَنَبْنَا وَ إِلَيْكَ الْمَصِير

নিঃসন্দেহে তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার সাথীদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে, যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার উপাসনা কর তার সাথে সম্পর্কহীন। আমরা তোমাদের অস্বীকার করেছি এবং যতক্ষণ না তোমরা অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর আমাদের ও তোমাদের মধ্যে চিরকালের জন্য বিদ্বেষ ও শত্রুতা প্রকাশিত হয়ে গেল; তবে ব্যতিক্রম স্বীয় (পালক) পিতার প্রতি ইবরাহীমের এ কথা, ‘আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব; আমি তোমার বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ হতে কোন অধিকার রাখি না।’ (তারা বলেছিল,) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তো তোমারই ওপর নির্ভর করেছি, তোমারই অভিমুখী হয়েছি এবং তোমারই দিকে আমাদের প্রত্যাগমন।

সূরা মুমতাহিনা, আয়াতে ৪।

captcha