
এবার ২০ লাখের বেশি হাজির অংশগ্রহণের পাশাপাশি করোনার আগের তুলনায় ওমরাহযাত্রীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। গত জানুয়ারিতে করোনা বিধি-নিষেধ তুলে নিয়ে আগের মতো হজ আয়োজনের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। এবার হজ ইনস্যুরেন্স ব্যয় ৭৩ শতাংশ কমিয়ে ১০৯ রিয়াল থেকে ২৯ রিয়াল করা হয়। আর ওমরাহ ইনস্যুরেন্স ব্যয় ৬৩ শতাংশ কমিয়ে ২৩৫ সৌদি রিয়াল থেকে ৮৮ রিয়াল করা হয়।
‘নুসুক’ অ্যাপের মাধ্যমে সৌদির অভ্যন্তরীণ হজযাত্রীরা এবার পুরো খরচ তিন ধাপে পরিশোধের সুযোগ পেয়েছে, যা আগে ছিল না। এ বছর হজের খুতবা ২০টির বেশি ভাষায় তাত্ক্ষণিক অনুবাদ সম্প্রচারিত হবে। এদিকে মদিনা, জেদ্দাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসধীন বিভিন্ন দেশের হাজিদের আরাফা প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎস নেওয়ার পাশাপাশি হজ পালন করতে তাঁদের জাবাল আর-রহমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মদিনা থেকে তাঁদের ১৬টি অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুল্যান্সে করে নেওয়া হয়। ৮৩ চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকের সমন্বয়ে মেডিক্যাল টিম তাঁদের চিকিৎসসেবা দিচ্ছেন।
বিশ্বের সাতটি দেশের জন্য হজ যাত্রাকে সহজ করতে সাতটি দেশ মক্কা রুট টু মক্কা সুবিধা পাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশসহ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, তুরস্ক ও আইভরি কোস্টের হজযাত্রী নিজ দেশে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারছেন। হজযাত্রীদের সেবায় হারামাইনের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা।
মক্কা, মদিনা, বিমানবন্দর ও হাইওয়েতে হাজিদের জন্য বায়ু, মাটি ও পানির গুণগত মান এবং শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এক হাজার ৩৫০টি পরিদর্শন স্থান প্রস্তুত করা হয়। পরিবহনের বিকল্প হিসেবে এক হাজার বৈদ্যুতিক স্কুটার প্রস্তুত করা হয়। করোনার আগের বছর ২০১৯ সালে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ হজ করেছেন। করোনা মহামারিরোধে ২০২০ সালে কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে সৌদিতে বসবাসরত ১০ হাজার ও ২০২১ সালে ৬০ হাজার লোক হজ পালন করেন। ২০২২ সালে করোনবিধি মেনে বিশ্বের প্রায় ১০ লাখ লোক হজ পালন করেন। ১৩৯০-১৪৪৩ হিজরি সালের ৫৪ বছরের ইতিহাসে ৯৯ মিলিয়নের বেশি মানুষ পবিত্র হজ পালন করেছেন।
সূত্র : সৌদি গেজেট