
রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ যাহিয়ায় শোকাবহ মুহররম মাসের প্রথম রাতে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
লেবাননের হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরাল্লাহ তার কথায় জোর দিয়ে বলেছেন: লেবাননের পাঠ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই এদেশের ইতিহাস পড়তে হবে যাতে আমরা সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না করি এবং আবার গৃহযুদ্ধের অতল গহ্বরে না পড়ি।
তিনি বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে মহররমের প্রথম রাতের অনুষ্ঠানে এসব বক্তব্য দেন এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব তার বক্তৃতায় বলেছেন: কুরআনের কাহিনী সকল মানুষের জন্য একটি শিক্ষা। পবিত্র কুরআনে সর্বাধিক যে নবীর কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন হযর মূসা (আঃ) এবং সর্বাধিক যে গোত্রের কথা বলা হয়েছে তা হলো বনী ইসরাইলের গোত্র।
তিনি আরও যোগ করেছেন: আল্লাহ কুরআনে বনী ইসরাইলদের এমনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন যে তারা এমন লোক যারা দুনিয়ার জীবনে প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিল এবং ঐশী বাণীকে বিকৃত করেছিল। পবিত্র কুরআনে তাদের সম্পর্কে আরো অনেক কথা বলা হয়েছে।
লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ'র মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ আরও বলেন, গত শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঘটনা হচ্ছে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের বিজয়।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব আরও বলেছেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লব হয়েছে ইমাম খোমেনী (রহ.)'র নেতৃত্বে। এই মহান নেতা বলতেন আশুরা থেকেই আমরা সব কিছু পেয়েছি।
তিনি বলেন, কারবালার ঘটনা আমাদেরকে ধৈর্য ও দৃঢ়তার শিক্ষা দিয়েছে এবং অবরোধ ও জুলুমের মোকাবেলায় আত্মসমর্পণ না করার বার্তা দিয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে লেবাননের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ আল্লামা শেইখ আফিফ নাবলুসির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা একজন বিজ্ঞানী, সংগ্রামী ও অভিভাবককে হারিয়েছি।'
গত শুক্রবার লেবাননের বিশিষ্ট আলেম শেইখ আফিফ নাবলুসি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সব সময় সেদেশের প্রতিরোধ আন্দোলনে ব্যাপক সমর্থন যুগিয়েছেন।