
সূরা ওয়াকি‘আহ -এ, আল্লাহতায়ালা কুরআনের একটি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সত্যের অর্জনকে নির্দিষ্ট কিছু লোকের জন্য বরাদ্দ করেছেন। সূরা ওয়াকি‘আহ -এর ৭৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
إِنَّهُ لَقُرْءَانٌ كَرِيمٌ فىِ كِتَابٍ مَّكْنُون لَّا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُون
নিশ্চয় এ সম্মানিত কুরআন। যা এক গোপন গ্রন্থে সংরক্ষিত আছে, পূত-পবিত্ররা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না। সূরা ওয়াকি‘আহ, আয়াত ৭৭ থেকে ৭৯।
শুদ্ধ ও বিশুদ্ধ সম্পর্কে এ আয়াতে দুটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে:
1. বাহ্যিক পবিত্রতা: কোন কোন রেওয়ায়েত অনুযায়ী পবিত্র কুরআনের আয়াতে স্পর্শ না করার অর্থ অযু ছাড়া স্পর্শ না করা। অর্থাৎ, কুরআনের আয়াত স্পর্শ করার জন্য মানুষকে অবশ্যই অযু করতে হবে, কারণ অজু শরীর ও আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং মানুষের আত্মার উপর বিরাট প্রভাব ফেলে।
ইমাম রেজা (আ.) বলেন: আল্লাহ ওযুর নির্দেশ দিয়েছেন এবং অযু দিয়ে সালাত শুরু করার কথা বলেছেন, যাতে যখন কোনো বান্দা আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে এবং তার কাছে প্রার্থনা করবে, তখন সে পবিত্র ও বিশুদ্ধ হয়ে এবং তার আদেশের প্রতি আনুগত্য করে এবং অপবিত্রতা ও কদর্যতা থেকে পবিত্র হয়ে, তার সম্মূখে উপস্থিত হতে পারে।
এ ধরনের পবিত্রতা অনুযায়ী সকল মানুষ অযু অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করতে পারে।
1. অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা: এই ধরনের পবিত্রতা শুধুমাত্র কিছু লোকের জন্য এবং সমস্ত লোকের অন্তর্ভুক্ত নয়। সূরা আহযাবের একটি আয়াতে আল্লাহ পবিত্রও বিশুদ্ধের উদাহরণ দিয়েছেন: إِنَّما يُريدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَ يُطَهِّرَكُمْ تَطْهيرا আল্লাহ কেবল চান যে, হে আহলে বাইত! তোমাদের হতে সর্ব প্রকারের কলুষ দূরে রাখতে এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পবিত্র রাখতে। সূরা আহযাব, আয়াত: ৩৩।
এই আয়াতের তাফসির এবং আহলে বাইতের উদাহরণ নির্ধারণে নবীর স্ত্রী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: আল্লাহর রসূল (সাঃ) ইয়েমেনী একটি আবা বা চাদর পরে তাঁর ঘরে ছিলেন এবং ঘুমাচ্ছিলেন, যখন ফাতিমা দরজায় প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তার সাথে খাবারের একটি পাত্র নিয়ে এসেছিলেন। রসূল (সাঃ) বললেন: তোমার স্বামী এবং দুই পুত্র হাসান ও হোসাইনকে ডাকো, ফাতিমা ফিরে আসেন এবং তাদের সাথে নিয়ে আসেন এবং সকলকে সেই চাদরের মধ্যে প্রবেশ করালেন। এর পর এই আয়াতটি নাযিল হয়: إِنَّما يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَ يُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيراً আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর রাসূলে খোদা (সাঃ) চাদরের মধ্য থেকে আকাশের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বলেন: আল্লাহর কসম, এরা আমার আহলে বইত ও পরিবার ও আমার বিশেষ ব্যক্তি, সুতরাং তাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করে তাদেরকে পবিত্র কর এবং তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন।
এই রেওয়ায়েত এবং বর্ণিত বাকী রেওয়ায়েত অনুসারে, আহলে বাইত (আ.) বলতে সেই চৌদ্দজন পুত পবিত্র ব্যক্তিকে বোঝায় যাদেরকে আল্লাহ যে কোন প্রকার পাপ থেকে মুক্ত করেছেন। অতএব, আহলে বাইত নিষ্পাপ ও বিশুদ্ধ, যারা কুরআনের সত্যতা সম্পর্কে অবগত এবং তারাই বিশুদ্ধ, যাদের ছাড়া কেউ কুরআন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।