
ভারতে বিজেপিশাসিত হরিয়ানার নূহতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ব্রজ মণ্ডল শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার জেরে একটি মসজিদের ইমামসহ ৫ জন নিহত হয়েছে।
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল বলেছেন, ‘নূহের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য আমি সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। দোষীরা রেহাই পাবে না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সোমবার নূহতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ব্রজ মণ্ডল শোভাযাত্রায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময়ে উভয়পক্ষের মধ্যে পাথর নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ হয়। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত গুরগাঁওয়ের হোম গার্ড নীরজ এবং গুরসেবক সহ ৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মী ও অন্যরা। দুর্বৃত্তরা তিন কিলোমিটারের মধ্যে রাস্তায় সমস্ত যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পোড়ানো হয় ‘ডায়াল ১১২’ গাড়ি। লুটপাটের পর কয়েকটি দোকানে আগুন দেওয়া হয়। একটি মোটর বাইকের শোরুম থেকে কমপক্ষে ২০০টি বাইক লুট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ। ভাঙচুর হয় শোরুমে। মারধর করা হয় কর্মীদের।
জানা গেছে, গতকাল (সোমবার) দুপুর দুটোর দিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নূহে ধর্মীয় শোভাযাত্রার আয়োজন করে। সমাবেশের আগে, উগ্রহিন্দুত্ববাদী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের সাথে যুক্ত কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক কথা বলে ভিডিও শেয়ার করেছিল বলে অভিযোগ। ওই ধর্মীয় শোভাযাত্রায় নাসির ও জুনায়েদ হত্যার প্রধান আসামি মনু মানেসারের শামিল হওয়ার খবর ছিল। এতে নূহের মানুষজন ক্ষুব্ধ হন। অভিযুক্ত মনু মানেসার অবশ্য সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন- বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অনুরোধের পরে আমি শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করিনি।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে, হরিয়ানার ভিওয়ানিতে একটি পোড়া বোলেরো গাড়ি পাওয়া যায়। তাতে জুনায়েদ এবং নাসির নামে দুই যুবককে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে তদন্তে উগ্রহিন্দুত্ববাদী গোরক্ষক মনু মানেসারের নাম শিরোনামে ছিল। এরপর থেকে প্রশাসনিক নথিতে মনু মানেসার পলাতক রয়েছে।
জানা গেছে, উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ওই মিছিল শুরুর কিছুক্ষণ পরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। নিয়ন্ত্রণহীন জনতা জনগণের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একটি বেসরকারি চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে নূহের সাইবার থানার এক পুলিশকর্মী জানান, উত্তেজিত জনতা থানায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে।
গুরুগ্রাম পুলিশের ডিসিপি ইস্ট নীতীশ আগরওয়ালের মতে, ‘যখন মসজিদে হামলা হয়, তখন নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল কিন্তু হামলাকারীরা সংখ্যায় বেশি ছিল এবং তারা আচমকা গুলি চালায়। পুলিশ ঘটনার ভিডিও সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করছে। সন্দেহভাজন হামলাকারীদের কয়েকজনকে হেফাজতেও নেওয়া হয়েছে।’
ওয়াইসি বলেন, তিনি (মনু মানেসার) অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু হরিয়ানা বা রাজস্থান পুলিশ তাকে ধরছে না। এই সহিংসতায় একটি মসজিদও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে একজন ইমাম ও দুই হোমগার্ড সদস্য নিহত হন।এর পরেও, হরিয়ানা সরকার শিথিল কারণ রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ওয়াইসি।