IQNA

বগুড়ায় সম্রাট শাহজাহানের আমলে নির্মিত মসজিদ

1:09 - September 23, 2023
সংবাদ: 3474378
তেহরান (ইকনা): সবুজ-শ্যামলে ঘেরা বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গ্রাম। ডানে-বাঁয়ে চিরনিদ্রার সুবিশাল কবরস্থান। সামনে  পায়চারি করার সবুজে ছাওয়া সুবিশাল এক মাঠ ও নববী শিক্ষাকেন্দ্র কওমি মাদরাসা। তারই স্পর্শ ঘিরে আছে শিশু-কিশোরদের আলোকময় ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের প্রতীক প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বলছিলাম উত্তরবঙ্গের বগুড়া জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল প্রতাপ খাদুলী গ্রামের এক মুসলিম ধর্মীয় কেন্দ্র প্রতাপ খাদুলী জামে মসজিদের কথা, সংস্কারের অভাবে যা প্রায় বিলুপ্তির পথে। সম্রাট শাহজাহানের আমলে ১৬৩৮ সালে এটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। নির্মাণ গঠনে মিসরীয় সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি মেলে। এলাকার মুরব্বি আলহাজ আছাব উদ্দিন তালুকদার ৩৫ থেকে ৪০ বছর এ মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, ‘আমার দাদার কাছ থেকে শোনা কথা, প্রায় ১৭ শতাব্দীর শুরুর দিকে নির্মিত হয় এই মসজিদ।’
মসজিদে আছে ১২০ ফুট সুউচ্চ একটি বিশাল গম্বুজ, ভেতরে দুই কাতার প্রশস্ত জায়গা, যেখানে আনুমানিক প্রতি কাতারে পাঁচ-ছয়জন নামাজ আদায় করতে সক্ষম। আছে ছোট একটি মিহরাব, দুই পাশের দেয়ালে আছে কোরআন শরিফ ও ধর্মীয় গ্রন্থ রাখার খোপ আকারের শেলফ। আর ভেতরের ওপরের অংশে আছে উন্নত ও ডিজাইন করা চকচকে গ্লাস, যা সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করেছে।

এককথায় ভেতরে গেলে চাকচিক্য ও সৌন্দর্য দেখে মনে হয়, এ যুগের কারুকার্যখচিত দৃষ্টিনন্দিত কোনো মসজিদ। বাইরের গম্বুজের উপরিভাগকে কয়েকটি ধাপে সাজানো হয়েছে। তবে মরহুম আলহাজ আছাব উদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে বিশাল আকৃতির গম্বুজের একদম ওপরের ছোট্ট গম্বুজটিতে তৎকালীন নির্মাতাদের মূল্যবান ধাতু সংরক্ষিত থাকায় দুষ্কৃতকারীরা তা ভেঙে সেগুলো নিয়ে যায়, যা আজও সেভাবেই দৃশ্যমান। বাইরের চারপাশে আগের কারুকার্য বহাল না থাকলেও গ্রামবাসীর যৌথ অর্থায়নে সিমেন্ট ও বালু দিয়ে তিন শতক আগের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সংস্কার করা হয়েছে।

বর্তমানে গ্রামবাসী তাদের গৌরবময় এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সময় সময় টুকটাক বিভিন্ন সংস্কার করে থাকে।

এলাকার লোকের আধিক্য বিবেচনা করে মরহুম আছাব উদ্দিনের উদ্যোগে  মসজিদটির সঙ্গে মিলিয়ে পেছনে একটি ছয় কাতার ধারণক্ষমতার মসজিদ নির্মাণ করা হলেও ধর্মপ্রাণ মানুষের নামাজের জায়গা সংকুলান হচ্ছিল না। তাই চলতি বছরের শুরুর দিকে এলাকাবাসীর অর্থায়নে সে জায়গাজুড়ে প্রায় ১২ কাতার ধারণক্ষমতার তিন তলা ফাউন্ডেশনের একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়, যার কাজ চলমান।
প্রাচীন এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে মসজিদটির সংস্কারমূলক কাজে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।
লেখক : সহকারী মুফতি, মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, ঢাকা।

 

captcha