
আজ সকালে, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা লোরেস্তান প্রদেশের ৬,৫৫৫ শহীদ স্মরণ কংগ্রেসের অংশগ্রহণকারীদের সাথে এক বৈঠকে ইহুদিবাদী শাসকের ক্রমাগত অপরাধের মুখে গাজার জনগণের দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন: আহত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত দখলদার সরকার গাজার জনগণের ওপর ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলার প্রতিশোধ নিচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের অশুভ শক্তির অধিকারী লোকদের সমস্ত সমর্থন এবং ইহুদিবাদীদের অপরাধে আমেরিকানদের সুনির্দিষ্ট অংশীদারিত্ব সত্ত্বেও, এই সমস্ত নিষ্ঠুরতা এবং অপরাধ শেষ পর্যন্ত তাদেরকে কোথাও নিয়ে যাবে না এবং এই ক্ষেত্রে এবং ভবিষ্যতের ক্ষেত্রেও নিঃসন্দেহে ফিলিস্তিনি জাতি বিজয়ী হবে।
হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী গাজার বর্তমান ঘটনাকে ভবিষ্যৎ গঠনকারী ঘটনা বলে মনে করেন এবং গাজার অটল জনগণের কর্তৃত্বের সাথে মিলিত নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: একজন পিতা যিনি তার পুত্রের শাহাদাতে ঈশ্বরের প্রশংসা করেন, পিতা-মাতা যারা তাদের শহীদ পুত্রকে ফিলিস্তিনে উৎসর্গ করেন, একজন আহত কিশোর যিনি কুরআনের আয়াত পড়েন এবং অনুরূপ দৃশ্য গাজার জনগণের গভীর ধৈর্য ও আস্থা দেখা যায়।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নিরপরাধ মানুষের ওপর দখলদার ইসরাইল সরকারের অপরাধযজ্ঞে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘নিশ্চিত সহযোগী’র ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী আরও বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধযজ্ঞ কোনো না কোনোভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই পরিচালনা করছে। দখলদার ইসরাইলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতেই আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা একের পর এক তেল আবিব সফর করছে বলে মন্তব্য করেন সর্বোচ্চ নেতা।
তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট, জার্মান চ্যান্সেলর, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মতো জালিম ও কুচক্রি শাসকরা একের পর এক ইসরাইল সফরে আসছে। তাদের পড়িমড়ি করে এভাবে ছুটে আসার কারণ হচ্ছে, তারা প্রকৃতপক্ষে দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছে যে, ইসরাইল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তারা ইসরাইলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে তেল আবিব সফর করছে।”
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, “যদি তারা ইসরাইলকে ধ্বংস হয়ে যেতে না দেখত তাহলে তারা সংহতি জানানোর জন্য এভাবে একের পর এক লাইন ধরে তেল আবিবে ছুটে আসত না। ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ইসরাইলের ওপর অত্যন্ত শক্ত ও ভাগ্য নির্ধারণী আঘাত হেনেছে। কিন্তু এই আঘাতপ্রাপ্ত ও আহত ইসরাইল সরকারকে পশ্চিমা শয়তানি শক্তিগুলো জোর করে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। আর দখলদার এই সন্ত্রাসী ইসরাইল ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের কোনো ক্ষতি করতে না পেরে এখন নিরীহ ও নিরস্ত্র বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর সকল ক্ষোভ ঝাড়ছে।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “ইহুদিবাদী ইসরাইল এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।” তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা সর্বোচ্চ মনোবল নিয়ে ইহুদিবাদীদের পরাজিত করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। ইহুদিবাদী অপরাধীচক্র ও তার পশ্চিমা দোসরদের ব্যাপারে উদাসীন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, “নিঃসন্দেহে ফিলিস্তিন বিজয়ী হবে।”