
ইত্তেফাকের খবর : "চার ইসরায়েলিকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ৭৫ বছরের ইতিহাস পাল্টালো যুক্তরাষ্ট্র"
৩-২-২০২৪ তারিখে ইত্তেফাকে প্রকাশিত এ খবর সংক্রান্ত মন্তব্য :
চার ইসরাইলীকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসলে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) মোটেও ৭৫ বছরের ইতিহাস পাল্টায় নি বরং এটা হচ্ছে এক ধরণের ব্রেন ওয়াশ আইওয়াশ । কারণ যেহেতু ইসরাইল মানবতাবিরোধী এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী সেহেতু এই চার ব্যক্তিকে নয় বরং সকল ইসরাইলী নেতৃবৃন্দ সহ গোটা যায়নবাদী ইসরাইলী জাতিকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত ছিল মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) । আর এই অপরাধী সন্ত্রাসী সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলের গোড়াপত্তনে যেমন মাযুরা ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) ও যুরার (যুক্তরাজ্য) প্রত্যক্ষ ভূমিকা ও অবদান ছিল ঠিক তেমনি জঘন্য অপরাধী এ রাষ্ট্রটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে এই মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) ও যুরা (যুক্তরাজ্য) । অন্যান্য পশ্চিমা দেশও ইসরাইলকে সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা করে । তাহলে ইসরাইলের অতীত ও বর্তমানের সকল অন্যায় , অপকর্ম , দুষ্কর্ম , অনাচার , অত্যাচার , নির্যাতন , গণহত্যা , প্রজন্ম হত্যা , বর্ণ বৈষম্য বাদ ও অপরাধে শরীক , ভাগী ও অংশী হচ্ছে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) , যুরা( যুক্তরাজ্য) ও পশ্চিমারা সবাই । তাই মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) উচিত সকল ইসরাইলীকে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পাশাপাশি নিজেই নিজেকে সহ সকল পশ্চিমাকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া।
২৭০০০ এর অধিক ফিলিস্তীনী - যাদের ৭০% শিশু ও নারী - শহীদ হয়েছেন বিগত ৪ মাস ধরে ইসরাইলের গণহত্যায় , ৬৬ হাজারের অধিক আহত এবং গাযার অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে ইসরাইল। এ সব হচ্ছে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ , মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতা বিরোধী অপরাধ । এ সব গণহত্যা ও অপরাধের জন্য মাযুরার ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) উচিত নিজেদের সহ সকল ইসরাইলীকেই নিষেধাজ্ঞা দেয়া !!
কিন্তু মাযুরা ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) কি গোটা ইসরাইলকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ? নিজেকে নিজে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে? কিন্তু মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) তো তা করে নি এবং করছে না । তাহলে এই ৪ জনকে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কি কোন মূল্য আছে? গাযায় গণহত্যা , প্রজন্ম হত্যা , শিশু হত্যা , নারী হত্যা ও সব ধরনের যুদ্ধাপরাধের জন্য
বিশ্ব জনমত এখন সম্পূর্ণরূপে ইসরাইল , মাযুরা ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) , যুরা ( যুক্তরাজ্য ) ও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে । প্রচার , সস্তায় সুনাম কুড়ান এবং মুখ থেকে চুনকালি পরিস্কার করার জন্য মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) এই লোকদেখানো নাম কে ওয়াস্তে ওই চার জন ইসরাইলী সেটেলারকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে !! আসলে ইসরাইলের সকল বসতি স্থাপনকারী হচ্ছে নি: সন্দেহে দখলদার, জবর দখলকারী অবৈধ বসতি স্থাপনকারী । অধিকৃত জবরদখলকৃত ফিলিস্তীনে ( অর্থাৎ ইসরাইলে ) তাদের কোনো ন্যায্য বৈধ আইন সম্মত অধিকার নেই। তারা সবাই বহিরাগত সন্ত্রাসী ও অপরাধী । ফিলিস্তীন শুধু ফিলিস্তীনীদের । ফিলিস্তীনীরা সন্ত্রাসী , সন্ত্রাসবাদী ও দুষ্কৃতকারী নয় । ফিলিস্তীনীরা সবাই মুক্তি যোদ্ধা । হামাস সহ সকল ফিলিস্তীনী দল ও জনগণের অস্ত্র হাতে নিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ , আক্রমণ ও মোকাবেলা করার অধিকার আছে এবং ৭অক্টোবর ২০২৩ হামাস ও ফিলিস্তীনী মুহাজিদরা সেই অধিকার বলে দখলদার হানাদার জবরদখল কারী অপরাধী ইসরাইলের বিরুদ্ধে সফল তূফানুল আকসা অভিযান চালায় এবং ৪ মাস ধরে বীরত্বের সাথে যুদ্ধাপরাধী আগ্রাসী ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম ও যুদ্ধ করে যাচ্ছে এবং ইসরাইলকে রণাঙ্গনে তীব্র ভাবে মার দিচ্ছে। আর ইসরাইল বিজয় ও সাফল্য অর্জন করতে পারছে না এবং এ পর্যন্ত যুদ্ধে ইসরাইল তার পূর্ব ঘোষিত সকল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে মাযুরা ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) , যুরা ( যুক্তরাজ্য ) ও পশ্চিমাদের সকল ধরনের সর্বাত্মক সমর্থন, সাহায্য ও সহযোগিতা সত্ত্বেও । প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত ইসরাইল শুধু অপরাধ করেই যাচ্ছে । ওই চারজন ইসরাইলীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আদেশে বাইডেন বলেছে , " পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি–বিশেষ করে উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের মাত্রাতিরিক্ত সহিংসতা, মানুষকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করা এবং সহায়–সম্পত্তি ধ্বংস করা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি। " আসলে গোটা ইসরাইল হচ্ছে ঠিক এটাই যা বাইডেন নিজেও উল্লেখ ও স্বীকার করেছে। আর মাযুরা ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) , যুরা (যুক্তরাজ্য) ও পশ্চিমারা সেই অপরাধীদের সন্ত্রাসী সন্ত্রাসবাদী ইসরাইলের পৃষ্ঠপোষক , সহযোগিতা ও সহায়তা দানকারী।
বিশ্ববাসীর উচিত মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) লোক দেখানো , ঠুনকো , অসার ও মূল্যহীন এ নিষেধাজ্ঞায় বিভ্রান্ত ও প্রতারিত না হওয়া। তাই ঐ চার ইসরাইলীকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) আসলে ৭৫ বছরের ইতিহাস পাল্টায় নি । অতএব ইত্তেফাকের উচিত হয় নি এ ভাবে এ সংবাদটির শিরোনাম করা । আর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা তা মোটেও সমর্থন করে না।
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান