
প্রাচীন মসজিদটি আপন অবস্থায় অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে।
কাদিরবক্স মসজিদটি ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এবং পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজায় অবস্থিত। পলাশবাড়ী জিরো পয়েন্ট চৌমাথা মোড় থেকে মসজিদটির দূরত্ব আধা কিলোমিটার। এটিকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
২ জুন ২০১৩ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাদিরবক্স মসজিদকে ‘সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ’ হিসেবে ঘোষণা করে।
কাদিরবক্স মণ্ডল মসজিদ এক কক্ষবিশিষ্ট ছোট্ট মসজিদ। এর উপরিভাগে একটি গম্বুজ এবং চার কোনায় চারটি পিলার আছে। মসজিদের নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো ধারণা পাওয়া যায় না।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের মধ্যে কারো কারো ধারণা, এটি নবাব সুজাউদ্দিন মুহাম্মদ খানের (১৬৭০-১৭৩৯) শাসনামলে নির্মিত হতে পারে। কেননা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের প্রাচীন লাল মসজিদ এবং দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর এলাকার প্রাচীন সৌর মসজিদের সঙ্গে নির্মাণশৈলীর যথেষ্ট মিল রয়েছে। আর উভয় মসজিদ নবাব সুজাউদ্দিন মুহাম্মদ খানের আমলে নির্মিত।
স্থানীয় মুসল্লিরা কয়েক শ বছরের প্রাচীন মসজিদটি সংস্কারের আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অবশেষ স্থানীয় মুসল্লিরা সম্মিলিত উদ্যোগে কাদিরবক্স মণ্ডল মসজিদের সংস্কার করেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি ডা. সায়াদ মিয়া জানান, প্রাচীন এই অনন্য নিদর্শন রক্ষায় যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন দপ্তরে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল এলাকাবাসী। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবশেষে বর্তমান কমিটির উদ্যোগে স্থানীয়দের সহায়তায় ঐতিহাসিক এই মসজিদটি সংস্কার করা হয়।