অল্প কিছুদিন আগেও মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) অথবা ইসরাইলের কোনো এক সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছিল যে মাযুরা ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও যুরার ( যুক্তরাজ্য ) আক্রমণে বাবুল মান্দাব ও এডেন সাগরে হুথিদের নাকি সামুদ্রিক জাহাজ আক্রমণের ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। দেখুন :
পর্তুগিজ পতাকা ধারী জাহাজ বহু দূরে আরব সাগরে আঘাত প্রাপ্ত হলে তা (ইয়ামানের) হুথি বিদ্রোহীদের শক্তি সামর্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা উচ্চকিত করছে ।
এই প্রতিবেদনের এক স্থানে বলা হয়েছে :
Houthi attacks had dropped in recent weeks as the rebels were targeted by a U.S.-led airstrike campaign in Yemen.
ইয়ামানে মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) নেতৃত্বে বিমান হামলা ক্যাম্পেইনের কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহ গুলোয় হুথি বিদ্রোহীরা টার্গেট ও শিকার হলে হুথিদের হামলা পড়ে ( কমে ) গিয়েছিল।
https://apnews.com/article/yemen-houthis-israel-hamas-war-ship-attack-89ac220eb4c8b191755fd5fd98ea8471
আর এখন ফাইনালসিয়াল টাইমস্ বলছে যে হুথিরা আরো অধিক বিস্তৃত ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের ওপর আক্রমণের ব্যাপকতা দান করেছে। মেরিটাইম বিশেষজ্ঞরা মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) অত্যাধুনিক ও দামী ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইয়ামানের পক্ষ থেকে নতুন রাউন্ড ও ধারার হুমকি দেখতে পাচ্ছেন।
শুধু তাই নয় এ প্রতিবেদনের এক স্থানে লেখা হয়েছে : হুথিদের হামলা বিশ্ব বাণিজ্য ব্যাহত ও বিপর্যস্ত এবং ইসরাইলের ঈলাৎ বন্দরে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলকে ( নেতিবাচক ভাবে) প্রভাবিত করেছে।
https://en.mehrnews.com/news/214441/Yemen-releases-video-of-downing-US-drone
"The Houthi attacks have disrupted global trade and affected traffic at Israel’s Eilat port.
People in Houthi-controlled areas of Yemen have been protesting in large numbers every Friday since the start of the war to express solidarity with Palestinians and condemn Israel and its Western allies."
https://www.aljazeera.com/news/2024/4/27/yemens-houthis-damage-oil-tanker-shoot-down-us-drone#:~:text=The%20Houthi%20attacks,its%20Western%20allies.
https://www.aljazeera.com/news/2024/4/27/yemens-houthis-damage-oil-tanker-shoot-down-us-drone
তাহলে ঐ সংবাদ পত্রের দাবি এবং ফাইনাল সিয়াল টাইমসের এ প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে আগের সংবাদ পত্রের দাবি ঠিক ছিল না।প্রায় ৪ মাস ধরে হুথিদের লক্ষ্য বস্তু সমূহের ওপর মাযুরা ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও যুরার ( যুক্তরাজ্য ) ক্রমাগত ও ক্রমবর্ধমান হামলায় হুথিদের আক্রমণ ক্ষমতা মোটেও হ্রাস পায় নি এবং এখন তা আরো সম্প্রসারিত হয়েছে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ! আসলে ৪ মাস ধরে ইয়ামানের হুথিদের ওপর অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও যুরার (যুক্তরাজ্য) হামলা সমূহ ব্যর্থই হয়েছে !!! এই যদি হয় অবস্থা তাহলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ও দারিদ্র্য ক্লিষ্ট ইয়ামান যা ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র ও সমর প্রযুক্তি পেয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্রে সুসজ্জিত মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও যুরার (যুক্তরাজ্য) কোমর ভেঙে ও ব্যর্থ করে দিতে পারে তাহলে সেই ইয়ামানের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী ইরান গত ১৪ ও ১৫ এপ্রিল ইসরাইলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরাইলের কেমন ভীষণ ক্ষতি করেছে , মার দিয়েছে ও বারোটা বাজিয়েছে তা বেশ ভালোভাবেই অনুমেয় এবং বোঝাও যায় যদিও ইসরাইল ও মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) এবং পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম সমূহ বলছে ইরানী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সমূহের ৯৯% নাকি ইসরাইলী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঠেকিয়ে দিয়েছে , যদিও হাআরেটসের মতো ইসরাইলী দৈনিকের প্রশ্ন যে ইরানের হামলার দশ দিন গত হয়ে যাওয়ার পরেও কেন ইসরাইলীরা নেগেভ ও অন্যান্য এলাকায় ইরানী ক্ষেপণাস্ত্রের অক্ষত খোল ও ধর ( intact body ) খুঁজে পাচ্ছে যার মানে হচ্ছে যে ইরানী ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরাইলী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা !! আর ইরানী ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ার হেড কাঙ্খিত ইসরাইলী লক্ষ্য বস্তু সমূহের ওপর ঠিকই আঘাত হেনেছে। যদি ইসরাইলী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই ইরানী ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ও ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট ) করতে সক্ষম ও সফল হত তাহলে ইরানী ক্ষেপণাস্ত্রের এত অক্ষত খোল ও ধর পাওয়া যেত না এবং সেগুলো ইন্টারসেপ্টোরের আঘাতে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যেত !!!
https://m.jpost.com/israel-hamas-war/article-798580
কয়েক দিন ধরে পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম সমূহ প্রচার করছিল এবং বিভিন্ন পশ্চিমা ও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছে যে ইরানের প্রায় সকল মিসাইল ও ড্রোন ইসরাইলী , মার্কিন , ব্রিটিশ, ফরাসী অ্যান্টিমিসাইল সিস্টেম প্রতিহত ও ধবংস (ইন্টারসেপ্ট ) করেছে । কিন্তু এখন ইসরাইলী পত্রিকায় খবর বের হচ্ছে যে ইরানী মিসাইলের অক্ষত খোল ও ধর (ইনট্যাক্ট বডি ) নাকাব ( নেগেভ ) সহ ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে যা থেকে প্রমাণিত হয় যে ইরানের মিসাইল গুলো ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সমূহে হিট করেছে ১৪ এপ্রিল এবং ইসরাইলের অ্যান্টি মিসাইল সিস্টেম ঠেকালে (ইন্টারসেপ্ট করলে ) এ সব মিসাইল বডি বা খোল অক্ষত (ইনট্যাক্ট )পাওয়া যেত না বরং তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেত কাউন্টার মিসাইলের আঘাতে ।
So how is it that civilians are still finding missiles on the ground ten days after the attack, especially after the IDF spokesman stated that Israel's air defense system successfully intercepted 99% of them?
https://www.timesofisrael.com/liveblog_entry/idf-helicopter-airlifts-remains-of-iranian-missile-find-on-desert-hiking-trail/
আর ঠিক একই কথা ইসরাইলের ইরান আক্রমণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যদিও ইসরাইলী ও পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম গুলো এ নিয়ে বহু বড় বড় দাবি করেছে এবং কয়েকটি কোয়ার্ডকপ্টার পাঠিয়ে ও বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নাকি ইস্ফাহানের নাতানযের পারমাণবিক কেন্দ্রের রুশ নির্মিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি এস - ৩০০ নাকি ধ্বংস করেছে !! যদি তাই হতো তাহলে ইসরাইলের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন গ্ - ভীর এ ঘটনার পর নেতানিয়াহুকে তীব্র আক্রমণ করে বলত না যে এটা ছিল খুবই দুর্বল ও হাস্যকর পদক্ষেপ !! ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ও অপপ্রচার চালানোর আরেকটা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে যা হচ্ছে যে এ সব কথা বললে বিশ্ববাজারে ইরান ও রাশিয়ার অস্ত্র মার্কেট অত্যন্ত সংকুচিত ও সীমিত হয়ে পড়বে এবং মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) , ইসরাইল ও পশ্চিমাদের অস্ত্র মার্কেট বিশ্বে বেশ চাঙ্গা থাকবে । নইলে ইসরাইল , মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও পশ্চিমাদের অস্ত্রের বিশ্ববাজারে ধস নামবে !!!
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান