
৭ জানুয়ারি অর্থডক্স খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের কাছে হযরত ঈসা মসীহ ইবনে মারিয়ামের ( আ ) শুভ জন্মদিন। বিশ্বের ২০০ মিলিয়ন অর্থডক্স খ্রীষ্টান সম্প্রদায় ৬ বা ৭ জানুয়ারি হযরত ঈসার ( আ ) জন্মদিন হিসেবে পালন করে। তবে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের কাছে ২৫ ডিসেম্বর হচ্ছে হযরত ঈসার ( আ ) জন্মদিবস । হযরত ঈসার ( আ ) জন্ম যা ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুজিযা স্বরূপ তা পবিত্র কুরআনে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। হযরত ঈসা মসীহ ( আ ) , হযরত মূসা ( আ ) , হযরত ইয়াহইয়া ( আ ) এবং স্বয়ং হযরত ঈসার ( আ ) মা হযরত মারিয়াম বিনতে ইমরানের ( আ ) জন্ম বৃত্তান্ত ও ইতিহাস পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যা থেকে বোঝা যায় জন্মবার্ষিকী পালনের বৈধতা। এ সব মনীষী ও মহাপুরুষ এবং ধর্মীয় দ্বীনী ব্যক্তিত্বদের জন্মদিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে তাঁদের ওপর সালাম ও যিয়ারত ( বিশেষ দুআ পাঠ ) পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত , হামদ ও না'ত পাঠ ও কবিতা আবৃত্তি , তাদের জীবনী , সীরত , জীবন - ইতিহাস ও জীবন বৃত্তান্ত সংক্রান্ত জ্ঞানগর্ভ মূলক ইলমী ( বৈজ্ঞানিক , তাত্ত্বিক ও জ্ঞানগত ) আলোচনা করা হয় যা উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের ঐ সব মনীষীর জীবন ও কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জ্ঞান ও তথ্য বৃদ্ধি করে এবং এ কারণে তাঁদের সুমহান জীবন থেকে তারা শিক্ষা নিতে পারে। আর এ ছাড়া এ সব অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে ঐ সব মনীষী ও বুযুর্গের প্রতি তাদের ভক্তি ও শ্রদ্ধা বোধ বৃদ্ধি পায় এবং তা তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ( তাযীম ও তাকরীম ) করতে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে যা তাদের অন্তরের তাকওয়া সঞ্জাত । আসলে , জন্মদিবসের মতো অনুষ্ঠান পালনের কারণে ঐ সব মনীষীদের সাথে উদযাপন কারী ও অংশ গ্রহণকারীদের আত্মিক ও আন্তরিক সম্পর্ক স্থাপিত , সুসংরক্ষিত ও সুদৃঢ় হয় যা তাদের অন্তরের তাকওয়ার পরিচায়ক এবং এ সব মনীষী যারা মহান আল্লাহর ( দ্বীনের ) শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ( শা'আয়েরুল্লাহ ) স্বরূপ তাদের প্রতি ভক্তি , শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন ( তাযীম ও তাকরীম ) ভক্ত ও সম্মান প্রদর্শনকারীদের অন্তর সমূহের তাকওয়া সঞ্জাত। অর্থাৎ যারা মুত্তাকী পরহেযগার ( খোদাভীরু এবং মহান আল্লাহর ব্যাপারে সতর্ক ও সাবধানী ) কেবল তারাই এ সব মনীষী যারা দ্বীনের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন তাদের প্রতি যথার্থ ভক্তি , শ্রদ্ধা ও সম্মান ( তাযীম ও তাকরীম) প্রদর্শন করতে পারে । পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে :
ذَٰلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ
এটাই হচ্ছে সত্য বাণী ও কথা এবং আল্লাহর বিধান; আর যারা মহান আল্লাহর ( দ্বীনের ) নিদর্শনাবলীকে সম্মান করে তাহলে এটা তো তাদের ( সম্মান প্রদর্শন কারীদের ) অন্তর সমূহের তাকওয়া সঞ্জাত ( সূরা -ই হজ্জ ২২ : ৩২ ) ।
আর বেআদব অহংকারী ব্যক্তিরা এ সব মনীষীর প্রতি চরম অবহেলা, অবজ্ঞা, অভক্তি, অশ্রদ্ধা ও অসম্মান ( তওহীন ও ইহানত ) প্রদর্শন করে , তাদের মাযার , সমাধি সৌধ ও পূণ্য স্মৃতি সমূহ ধ্বংস, তাদের স্মরণে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন ও উদযাপন যা আসলে তাদের প্রতি তা'যীম , ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন স্বরূপ সেগুলো পালন ও উদযাপনকে হারাম , শিরক ও বিদআত বলে নিষিদ্ধ ও বাঁধা দান করে !!! এ সব অনুষ্ঠানের কোথায় ও কিভাবে হারাম , বিদআত ও শিরক সংঘটিত হয় ? এ সব বেআদব বেতমিজ অসভ্য অভদ্র তাকওয়াহীন ব্যক্তি কেবল গায়ের জোরে মহামানব ও মহান মনীষীদের জন্মোৎসব পালন ও উদযাপন এবং তাদের ওফাৎ ও শাহাদাত দিবস উপলক্ষে শোকানুষ্ঠান পালনকে বিদ'আত , হারাম ও শিরক বলে থাকে যে ব্যাপারে নেই তাদের কোনো শরয়ী দলীল ; আর মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এতদসংক্রান্ত কোনো আয়াত ও প্রমাণ ( বুরহান ) নাযিল করেন নি এবং মহানবী ( সা ) ও তাঁর পবিত্র আহলুল বাইতের ( আ ) সুন্নাহ্য় কোনো নিষেধাজ্ঞাও বর্ণিত হয় নি ও বিদ্যমান নেই । জন্মদিন , শাহাদাত ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন সংক্রান্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা না পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে আর না সুন্নাহ্য়। পবিত্র কুরআনে বেশ কয়েক জন নবীর ওপর সালাম দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েক জন নবীর জন্ম দিবসে তাদের ওপর সালাম দেওয়ার কথাও পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।
যেমন : হযরত ঈসা ( আ ) নিজেই মাতৃক্রোড়ে নিজের ওপর সালাম দিয়েছেন যে দিন তিনি জন্ম গ্রহণ করেছেন , যেদিন তিনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুজ্জীবিত হবেন সে দিবসগুলোতে :
وَ السَّلَام ُ عَلَيَّ یَوْمَ وُلٌدتُّ وَ یَوْمَ أَمُوْتُ وَ یَوْمَ أُبْعَثُ حَیَّاً
আর আমার ওপর সালাম যেদিন আমি জন্ম গ্রহণ করেছি সেদিন , যেদিন আমি মৃত্যু বরণ করব সেদিন এবং যেদিন আমি পুনরুজ্জীবিত হব সেদিন ( কিয়ামত দিবসে রোয হাশরে ) । ( সূরা -ই মারিয়াম ১৯ : ৩৩ ) । এ থেকে কি প্রমাণিত হয় না যে হযরত ঈসা ( আ ) পথভ্রষ্ট যালিম খোদাদ্রোহী ইহুদী বনী ইসরাইলকে তার জন্মগ্রহণ যে আল্লাহ পাকের মু'জিযা এবং জন্ম দিবসে নিজের ওপর সালাম দিয়ে তার জন্মদিবস যে মুবারক ও স্মরণীয় দিবস তা স্পষ্ট ব্যক্ত ও প্রমাণ করেছেন মাতৃক্রোড়ে নবজাতক শিশু হয়েও ?!!! আর নবজাতক কোলের শিশু হযরত ঈসার (আ) এমন কথোপকথন সেদিন বিনা পিতায় তাঁর [ হযরত ঈসার ( আ ) ] জন্মগ্রহণের কারণে পবিত্রা তাহেরা সতীসাধ্বী হযরত মারিয়ামের ( আ ) ওপর যিনা ও ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ কারীদের মুখ চিরতরে বন্ধ এবং তাদের অপবাদ অপনোদন ও খণ্ডন করে দিয়েছিল । আর এ থেকে এটাও প্রমাণিত হয়ে যায় যে হযরত ঈসা ( আ ) নিজেই তাঁর জন্ম দিবসকে স্মরণীয় করেছেন এবং পবিত্র কুরআন এ কাহিনী পুনঃ বর্ণনা করে তা চিরস্মরণীয় করে দিয়েছে !! ২৫ ডিসেম্বর বা ৬ বা ৭ জানুয়ারি মুখ্য নয় বরং মহান আল্লাহর দ্বীনের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে হযরত ঈসা (আ) এবং তাঁর জন্মগ্রহণের ঘটনা ও জন্মদিবস চিরস্মরণীয় ঘটনা এবং আয়াত । তাই তা পালন যোগ্য ও স্মরণীয় । আর তাঁর ( আ ) জন্ম বৃত্তান্ত বর্ণনা ও জন্ম দিবসের স্মরণ কি তার জন্ম দিবস পালন নয় ? অবশ্যই পবিত্র কুরআনে হযরত ঈসা মসীহের ( আ ) জন্মদিন পালন ও উদযাপনের বৈধতা দিয়েছে তাঁর জন্মগ্রহণের ঘটনা উল্লেখ ও স্মরণ করে।
মহান আল্লাহ হযরত যাকারিয়ার ( আ ) পুত্র সন্তান হযরত ইয়াহইয়াকেও ( আ ) সালাম দিয়েছেন তাঁর জন্মদিনে , তার মৃত্যু দিবসে এবং যেদিন তিনি পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হবেন সেই হাশরের দিবসে। এরশাদ হচ্ছে :
وَ سَلاَمٌ عَلَیْهِ یَوْمَ وُلِدَ وَ يَوْمَ يَمُوْتُ وَ يَوْمَ يُبْعَثُ حَيَّاً
আর তাঁর ওপর সালাম যেদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেন সেদিন , যেদিন তিনি মৃত্যুবরণ করবেন সেদিন এবং যেদিন তিনি পুনরুজ্জীবিত হবেন সেদিন। ( সুরা - ই মারিয়াম ১৯ : ১৫ ) ।
এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে হযরত মুহাম্মদ ( সা ) , হযরত আলী ( আ ) ও জান্নাতের নারীদের নেত্রী হযরত ফাতিমা (আ ) এবং মহানবীর (সাঃ) পবিত্র আহলুল বাইতের (আ) মাসূম ইমামগণ ( আ ) সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় আসমানী কিতাব আল-কুরআন এবং সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামের ধারক ও বাহক হিসেবে হযরত ঈসা মসীহ ( আ ) , হযরত ইয়াহইয়া ( আ ) ও হযরত মারিয়াম ( আ ) এবং সকল নবী- রাসূলের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বরং তারা ( মহানবী ও তাঁর আহলুল বাইত) মহান আল্লাহর সকল সৃষ্টির সেরা ও শ্রেষ্ঠ ( খাইরুল বারীয়াহ , আফযালুল খালায়েক্ব ও আশরাফুল মাখলূক্বাত ) এবং এ কারণে তাদের ( আ ) জন্ম , ওফাত ও শাহাদাত দিবস কায়েদাতুল আওলাভীয়াহ আল - কাত'য়ীয়াহ ( قاعدة الأولوية القطعية ) অর্থাৎ অকাট্য শ্রেষ্ঠত্বের কারণে শ্রেষ্ঠদেরকে অন্য সকলের ওপর প্রাধান্য ও অগ্রাধিকার প্রদানের সূত্র ও নিয়মের ভিত্তিতে উদযাপন ও পালন করতে হবে এবং এ কারণে তা সর্বৈব জায়েয ও অধিক মুস্তাহাব ( অধিক পছন্দনীয় ও কাম্য ) । পবিত্র কুরআন যদি হযরত ঈসা মসীহ ( আ ) ও হযরত ইয়াহইয়াকে ( আ ) তাদের জন্ম ও ওফাত দিবসে এবং অন্যান্য নবী রাসূলকে সালাম দেয় তাহলে শ্রেষ্ঠত্ব , অগ্রাধিকার ও প্রাধান্য প্রদানের অকাট্য কায়দা , সূত্র ও নিয়মের ভিত্তিতে অবশ্যই সকল নবী , রাসূল ও সৃষ্টি কুলের মধ্যে (সর্ব ) শ্রেষ্ঠ মহানবী (সাঃ) হযরত ফাতিমা ( আ ) , হযরত আলী (আ ) ও আহলুল বাইতের (আ) সকল মাসূম ইমামের ( আ ) জন্ম , ওফাত ও শাহাদাত দিবসে সালাম দেওয়া , জশন ( উৎসব ) উদযাপন ও শোকানুষ্ঠান পালন সর্বাধিক কাম্য ও মুস্তাহাব হবে নি: সন্দেহে। হযরত মুহাম্মদ (:সা ) এবং তাঁর আহলুল বাইত যারা হযরত ফাতিমা (আ ) এবং বারো মাসূম ইমাম ( আ ) , সকলের ওপর তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ ইত:মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে ; আর তা হলো যে তাঁরা সবাই [ ১৪ মাসূম : মহানবী (সা) , হযরত ফাতিমা (আ) এবং বারো মাসূম ইমাম ( আ ) ] সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় গ্রন্থ আল - কুরআনের মূল তাৎপর্য ও হাকীকত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ধর্ম ও শরিয়ত ইসলামেরই ধারক ও বাহক এবং মহান আল্লাহ এবং তাঁর পূর্ণাঙ্গ ধর্ম ও শরিয়ত সংক্রান্ত সর্বাধিক মারেফাত ও জ্ঞানের অধিকারী ও সর্বাধিক পরিচিত । অন্য সকল নবী ও রাসূলের সময় ধর্ম , দ্বীন ও ধর্মীয় গ্রন্থসমূহ ইসলাম ও পবিত্র কুরআনের মতো পূর্ণতা লাভ করে নি যদিও ঐ সব আসমানী গ্রন্থ স্বীয় যুগের প্রেক্ষাপটে ছিল পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় গ্রন্থ । তবে পবিত্র কোরআনের সাথে ও সব গ্রন্থের কোনো তুলনাই চলে না এবং এ কারণেই মহান আল্লাহর মারেফাত, ধর্ম ও শরিয়ত সংক্রান্ত সকল নবী ও রাসূলের চেয়ে হযরত মুহাম্মদ ( সা ) এবং তাঁর পবিত্র আহলুল বাইত ( আ ) অধিক জ্ঞানী এবং এ কারণে তারা সকল নবী রাসূল এবং কুল্ল মাখলূকাতের ( গোটা সৃষ্টি জগত) চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
যাহোক , আবার সেই যাহিদ ( তাপস দুনিয়া ত্যাগী ) মহান নবী এবং হযরত সাহিবুয যামান ( যুগের অধিপতি) ইমাম মাহদী -ই মওঊদের ( প্রতিশ্রুত মাহদী - আ -) সাহায্য কারী , অনুসারী ও মুক্তাদী ( আনুগত্য কারী ) মারিয়াম তনয় হযরত ঈসা মসীহর ( আ ) শুভ জন্মদিন উপলক্ষে সকল মুমিন - মুসলমান এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা , অভিনন্দন ও তাবরীক । যখন ইমাম মাহদী ( আ ) আবির্ভূত হবেন তখন তাঁকে সাহায্য করার জন্য তাঁর আনুগত্য কারী ও অনুসারী হয়ে হযরত ঈসা মসীহ ( আ ) এ পৃথিবীতে আগমন করবেন ( অর্থাৎ ইমাম মাহদী - আ - হবেন হযরত ঈসা মসীহ - আ - এর ইমাম ও নেতা ) এবং বিশ্ব লুটেরা পশ্চিমা যালিম পরাশক্তি সমূহের বিরুদ্ধে বিশ্বের দেশে দেশে এমনকি খ্রীষ্টান দেশগুলোতেও মুক্তি কামী প্রতিরোধ সংগ্রাম তখন আখিরুয যামানে তুঙ্গে পৌঁছুবে যার নেতৃত্ব দিবেন হযরত ঈসা মসীহ ইবনে মারিয়াম ( আ ) এবং বিশ্বের খ্রীষ্টান সম্প্রদায়কে তিনি ইমাম মাহদীর ( আ ) নেতৃত্ব ও ইসলাম ধর্ম মেনে নেওয়ার আহ্বান জানালে খ্রীষ্টান দেশগুলোর অধিবাসীরা দলে দলে ইসলামে দীক্ষিত হবে এবং ইমাম মাহদীর ( আ ) নেতৃত্বে বিশ্ব ইসলামী বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে তাঁরাও নিজ নিজ দেশের তাগুতী সাম্রাজ্যবাদী শাসক ও শোষক শ্রেণী ও গোষ্ঠীর পতন ঘটাবে ।
হযরত ঈসা মসীহ ( আ ) মুঞ্জী ( ত্রাণকর্তা ) মহানবী ( সা ) হযরত মুহাম্মদের আগমনের বেশারত (সুসংবাদ) দিয়ে ছিলেন যা ইঞ্জীল ও পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে । এরশাদ হচ্ছে :
وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ ﴿۶﴾
ঐ সময়ের কথা স্মরণ করুন যখন ঈসা ইবনে মারিয়াম বললেন : হে বনী ইসরাইল ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে মহান আল্লাহর প্রেরিত নবী ও রাসূল ( রাসূলুল্লাহ ) এমতাবস্থায় যে আমি আমার কাছে বিদ্যমান তৌরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে যে রাসূল আসবেন তাঁর মুবাশশির (সুসংবাদ দাতা) যার নাম আহমাদ ; অত:পর যখন তিনি ( আহমাদ ) তাদের ( পবিত্র মদীনায় ইহুদী বনী ইসরাইল ) কাছে আসলেন বাইয়েনাত (সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণাদি ) সহ তখন তারা বলল : এটা তো স্পষ্ট যাদু ! ( সূরা -ই সাফফ ৬১ : ৬ )
এই বেশারত ( সুসংবাদ ) যেমন আগে উল্লেখ করা হয়েছে ঠিক তদ্রুপ তাহরীফ বা বিকৃতির পরেও বর্তমান ইঞ্জীলে বিদ্যমান আছে । খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যকার সুপথ ও সত্যপথ সন্ধানীরা ঠিকই সত্যের সন্ধান পাবেন যদি তারা তাদের বিবেক বুদ্ধি খাটিয়ে ও নিষ্ঠা সহকারে সত্য সন্ধানে ব্রতী হন । আর তখনই ইঞ্জীলে বিদ্যমান হযরত ঈসা মসীহর ( আ ) এই বেশারতের ( সুসংবাদ ) প্রকৃত স্বরূপ ও তাৎপর্য তাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
৭-১- ২০২৫