
রামাল্লায় বন্দিদের স্বজনদের ভিড়
এদিকে বন্দি মুক্তিকে কেন্দ্র করে দখলকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় শনিবার বিশাল জনসমাগম তৈরি হয়। কেননা আগে থেকে জানানো হয়েছিল, সেখানে মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিদের ছোট একটি অংশকে আনা হবে। যে কারণে বন্দিদের আত্মীয়-স্বজনসহ অনেকেই সেখানে উপস্থিত হয়। সেখানে থাকা অনেককে স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদার সময় আটক হওয়া একজন স্বজনের মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম, যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় আমরা ঘুমাতেও পারিনি। আমরা অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আমাদের প্রার্থনা ছিল যুদ্ধবিরতি বজায় থাকুক, গাজা পুনর্নির্মাণ হোক এবং সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হোক।’
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ শনিবার যাদের মুক্তি দিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ইসরায়েলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিরা, যাদের কোনো বিচার কিংবা অভিযোগ ছাড়াই আটক করা হয়েছিল। ফিলিস্তিনি বন্দি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল যেসব ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিচ্ছে তাদের মধ্যে ২৯ জন পশ্চিম তীরের এবং সাতজন জেরুজালেম ও আশপাশের এলাকার। পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজা থেকে আটক হওয়া ৩৩৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।
মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি ইসরায়েলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দণ্ডিত হলেও বেশির ভাগই যুদ্ধকালীন সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার হয়নি।
নেতানিয়াহু দপ্তরের বিবৃতি
হামাস ও ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির দিনে হিব্রু ভাষায় একটি বিবৃতি দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। এই বিবৃতিতে তিনজন ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এখনো গাজায় আটক থাকা জিম্মিদের মুক্ত করতে ইসরায়েল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
এ ছাড়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, হামাস এই সপ্তাহে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছিল’ এবং ‘ভুয়া অভিযোগের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে’।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, গাজার অভ্যন্তরে ও আশপাশে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন অবস্থানের’ কারণে জিম্মি মুক্তি অব্যাহত রয়েছে।
বিবৃতির শেষে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে গাজায় আটক সব জিম্মিকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্ত করা যায়।’
জিম্মিদের অবস্থা অকল্পনীয়, দাবি ইসরায়েলের
ইসরায়েল বলছে, গাজায় থেকে আটক যেসব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাদের অবস্থা ছিল ‘অকল্পনীয়’।
শনিবার হামাস যে কয়েকজনকে মুক্তি দেয় তাদের মধ্যে একজন আর্জেন্টাইন-ইসরায়েলি বন্দি ইয়ায়ার হর্ন। মুক্তির পর তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে পৌঁছন। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, হর্নকে ‘অবর্ণনীয় পরিস্থিতিতে’ আটক রাখা হয়েছিল।
ইসরায়েলের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টে জানানো হয়েছে, হর্ন ও তার ভাই ইতানকে ৭ অক্টোবর ‘নৃশংসভাবে’ অপহরণ করা হয়েছিল এবং তাকে প্রায় ৫০০ দিন ‘অকল্পনীয়’ অবস্থায় আটকে রাখা হয়।
হর্ন মুক্তি পেলেও ইতান এখনো হামাসের হাতে জিম্মি রয়েছেন এবং যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে তার মুক্তি নির্ধারিত কোনো সময় নেই।
আলোচনা ছাড়া মুক্তির প্রশ্নই আসে না : হামাস
হামাস জানিয়েছে, আলোচনার বাইরে অন্য কোনো উপায়ে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, আজকের জিম্মি মুক্তি প্রমাণ করে, শুধু আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত মেনে চললেই কেবল গাজায় আটককৃত জিম্মিদের মুক্তি সম্ভব।
এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজাবাসীকে স্থানান্তরের যে কথা বলেছেন সেই প্রসঙ্গ টেনে হামাস বলছে, ‘আমরা সারা বিশ্বকে বলছি, জেরুজালেম ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।’
চলতি সপ্তাহের শুরুতে হামাস জানিয়েছিল, তারা জিম্মিদের মুক্তি দেবে না। এর কারণ হিসেবে ইসরায়েল তিন সপ্তাহের পুরনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করে হামাস।
সূত্র : বিবিসি